রক্ত দানের উপকারিতা ও অপকারিতা - রক্ত দানের গুরুত্ব

প্রাপ্ত বয়স্ক সুস্থ মানুষের স্বেচ্ছায় রক্ত দেবার প্রক্রিয়া হলো রক্তদান। রক্ত দান শব্দটার সাথে কম বেশি আমরা সবাই পরিচিত। আমাদের মধ্যে অনেকেই রক্তদান করে থাকেন। তবে জানেন কি রক্ত দানের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে। এসব বিষয় জানা না থাকলে আমাদের আজকের আর্টিকেলটি পড়ে জেনে নিন।

রক্ত দানের উপকারিতা ও অপকারিতা

রক্ত দানে অনেকেই ভয় পান, ভাবেন অসুস্থ হয়ে পড়বেন। তবে ভয়ের কিছু নেয় বরং রক্ত দান স্বাস্থের জন্য উপকারি। কিন্তু রক্ত দান সবার করা উচিত নয় এমন অনেক ব্যক্তি আছে যাদের জন্য রক্ত দানে ক্ষতি ও অপকার হয়। আপনি যদি রক্ত দান করে থাকেন বা রক্তদান করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে জানতে হবে রক্ত দানের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে। চলুন বিস্তারিতভাবে এসব বিষয় জেনে নেওয়া যাক।

রক্ত দানের উপকারিতা

একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীর থেকে রক্ত বের করে, অন্য একজন ব্যক্তির শরীরে রক্ত প্রবেশ করাই হলো রক্ত দান। ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সী যেকোনো মানুষ যদি শারিরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকে তাহলে রক্ত দান করতে পারবে। একজন ব্যাক্তির রক্ত দানের মধ্য দিয়ে অন্য একজন মুমূর্ষুব্যক্তির প্রান ফিরে যেতে পারে। তাই একজন সুস্থ মানুষের অবশ্যই রক্ত দান করা উচিত। রক্ত দানে রক্ত গ্রহীতা যেমন উপকার পায় তেমনি রক্তদাতারও বিভিন্ন উপকার হয়। রক্ত দান নিয়ে আমাদের অনেকের ভুল ধারনা আছে যে রক্তদান করলে রক্তদাতা অসুস্থ ও দুর্বল হয়ে পড়বে। তবে রক্ত দান, দাতার স্বাস্থের জন্য উপকারি, সেটা আপনারা জানেন কি? জানা না থাকলে নিচের আলোচনা থেকে জেনে নিন, রক্ত দানের উপকারিতাগুলো কি।

  • রক্ত দানের মধ্য দিয়ে জটিল রোগ থেকে বাঁচা যায়। বৈজ্ঞানিদের মতে ক্যান্সারের মতো মরনব্যাধি রোগের ঝুঁকি কমায় নিয়মিত রক্তদান করলে। শরীরে অতিরিক্ত লৌহ উপাদান মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর, অতিরিক্ত জমে থাকা লৌহ ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। আর নিয়মিত রক্ত দানের করলে রক্তের মধ্য দিয়ে সেই লৌহ বেরিয়ে আসে ফলে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। 
  • নিয়মিত রক্ত দান করলে রক্ত দানকারীর হার্ট ও লিভার সুস্থ থাকে। 
  • মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কোলেস্টেরল স্বাস্থের বিভিন্ন ক্ষতি করে। আর এসব ক্ষতিকর কোলেস্টেরল রক্তদানের মধ্য দিয়ে বাইরে বের হয়ে আসে। নিয়মিত রক্ত দান করলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রনে থাকে। 
  • উচ্চতা ও বয়স অনুযায়ী ওজন মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। নিয়মিত রক্ত দান করলে মানুষের  অতিরিক্ত ওজন কমিয় মানবদেহকে সুস্থ রাখে। 
  • নিয়মিত রক্তদান করলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমে ফলে স্ট্রোকসহ বিভিন্ন মারত্মক রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। 
  • মানবদেহের অস্থিমজ্জা সবসময় সক্রিয় রাখা প্রয়োজন। নিয়মিত রক্তদান করলে অস্থিমজ্জা থেকে নতুন কনিকা তৈরি হয়ে অস্থিমজ্জাকে সক্রিয় রাখে। 
  • রক্ত দানের মধ্য  দিয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
  • শারিরিক ও মানসিক স্ট্রেস কমাতে কার্যকারী ভুমিকা রাখে নিয়মিত রক্ত দান। 

উপরের আলোচনা থেকে নিশ্চয় আমরা বুঝলাম রক্তদানে কোনো ক্ষতি নেয় বরং উপকার পাওয়া যায় । সবথেকে বড় কথা হলো রক্ত দানের মধ্য দিয়ে একজন মানুষকে বাঁচানো যায়। তাই নিয়মিত রক্ত দানের অভ্যস গড়ে তুলুন।

আরো পড়ুন: দাঁতের ক্ষয় রোধের উপায় - দাঁতের ক্ষয় পূরন

রক্ত দানের অপকারিতা

বিভিন্ন কারনে একজন মানুষের রক্তের প্রয়োজন হয়। মানবদেহে বিভিন্ন রোগ যেমন থ্যালাসেমিয়া, ক্যান্সার, অপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া এসব থাকলে রোগিদের রোক্তের প্রয়োজন হয়। এছারাও কোনো দূর্ঘনায় ব্যাপক হারে রক্ত বের হলে, নারীদের সন্তান প্রসাবের সময় রক্তের প্রয়োজন হয়। রক্ত দান করে মানুষের পাশে দাড়ানোর মতো মহৎ কোনো কাজ হয় না।  তাই একজন সুস্থ মানুষ হিসেবে সবার রক্ত দান করা উচিত।  রক্ত দান করা আগে সবার মনে একাটা প্রশ্ন আসে রক্ত দান করার ক্ষতিকর বা অপকারি দিক আছে কি-না। এর সঠিক উত্তর হলো রক্তদান করে আপনার শারিরিক কোনো ক্ষতি হবে না । রক্ত দানের কোনো ক্ষতিকর বা অপকারি দিক নেয়। তবে অনেকের মনে ভয় কাজ করে রক্ত দিলে শরীরের ক্ষতি হবে, শরীরের শক্তি কমে যাবে  এমন ধারনা করে থাকে অনেকেই। তবে রক্ত দেওয়া স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর নয় বরং স্বাস্থের জন্য নানাবিধ উপকার বয়ে আনে।

কিন্তু রক্ত দানের কিছু শর্ত আছে, সবাই রক্ত দান করতে পারবেন না। কাদের জন্য রক্ত দান করা উচিত নয় এবং কারা রক্ত দান করতে পারবেন সেদিকে খেয়াল রেখে রক্তদান করতে হবে। এসব বিষয় খেয়াল না করলে রক্ত দাতা এবং গ্রহীতা দুজনের মারত্বক ক্ষতি হবে। এছারাও রক্ত দানের আগে এমন অনেক বিষয় আছে যেগুলো মেনে চলতে হবে। এসব দিক ঠিক থাকার পর আপনি যদি রক্ত দান করেন তাহলে রক্ত দানে কোনো প্রকার ক্ষতি হবে না। আপনি কখন রক্ত দান করতে পারবেন জেনে নিন। 

  • শারিরিক ও মানসিক ভাবে সুস্থ এমন মানুষ যাদের বয়স ১৮ থেকে ৬০ বছর তারা রক্ত দিতে পারবেন।  
  • যেসব মানুষের শারিরিক ওজন ৫০ কেজি অথবা তার থেকে বেশি এবং সর্বনিম্ন ৪৫ হতে হবে তারা রক্ত দিতে পারবেন। 
  • একবার রক্ত দেওয়া হয়ে গেলে আবার ৪ মাস পর রক্ত দিতে পারবেন।

এসব শর্তগুলো আপনার মধ্যে থাকলে আপনি রক্ত দান করতে পারবেন। এছারাও আপনি কখন রক্ত দান করতে পারবেন না এবং রক্ত দানের আগে কি করতে হবে। সেগুলো পরবর্তীতে আলোচনা করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত পড়লে জানতে পারবেন রক্ত দান আপনি করতে পারবেন কি পারবেন না। এসব সম্পূর্ন বিষয় জানা থাকলে রক্ত দানের কোনো ক্ষতি হবে না।

রক্ত দানের গুরুত্ব

রক্ত দেওয়ার আগে করণীয়

রক্তদান খুবই সুন্দর একটি বিষয় বলতে পারেন ভালো একটি অভ্যাসও  বটে। রক্ত দান আপনার শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ন নয় বরং আপনার শরীরকে বিভিন্ন ঝুঁকির হাত থেকে রক্ষা করে। মানবিক অথবা সামাজিক এছারাও ধর্মীয় দিক থেকেও রক্তদানের গুরত্ব এবং মর্যাদা রয়েছে।  আপনার ইচ্ছা হলে আপনিও রক্তদান করতে পারবেন। তবে রক্ত দানের আগে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি।  রক্ত দান করার ফলে আপনার এবং যাকে রক্ত দিবেন দুজনের যেন ক্ষতি না হয় সেজন্য সচেতন থাকতে হবে, জানতে হবে রক্ত দানের আগে করণীয় বিষয়গুলো কি। রক্ত দেওয়ার আগে করণীয় বিষয়গুলো জেনে নিন-

রক্ত আপনি কখন দিতে পারবেন না-

  • রক্ত দানের ২৪ ঘন্টা আগে রক্তদাতা অ্যালকোহল জাতীয় কোনো কিছু খেতে পারবেন না। 
  • রক্ত দেওয়ার আগে অবশ্যই রক্ত দাতা এবং গ্রহীতার রক্তের গ্রুপ মিলিয়ে নিতে হবে। 
  • রক্ত দেওয়ার আগে বেশি বেশি পুষ্টিকর খাবার খাবেন এবং তরল খাবার বেশি করে খাবেন। 
  • শ্বাসপ্রসাসজনিত রোগ থাকলে রক্ত দিতে পারবেন না।
  • ৩৭.৫ ডিগ্রির ওপরে শরীরের তাপমাত্রা হলে রক্ত দান করতে পারবেন না। 
  • শরীরের ওজন তুলনামূলক ভাবে কম হলে রক্ত দান করতে পারবেন না। 
  • পুরষের ক্ষেত্রে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা সর্বনি¤œ ১২ গ্রাম এবং নারীদের সর্বনি¤œ ১১ গ্রাম থাকলে রক্ত দিতে পারবেন না। 
  • রক্তচাপ স্বাভাবিক না থাকলে রক্ত দেওয়া ঠিক নয়। 
  • গর্ভবতী নারীরা এবং যে মহিলাদের সন্তানের বয়স ১ বছর এবং ১ বছরের কম থাকলে রক্ত দান করতে পারবেন না। 
  • যাদের ঋতুস্রাব চলছে তাদের ক্ষেত্রে রক্ত দেওয়া ঠিক নয়।
  • জন্ডিস, এইডস, ক্যান্সার, কিডনির অসুখ, গনোরিয়া, সিফিলিস, ম্যালেরিয়া এসব রোগিরা রক্ত দান করতে পারবেন না। 
  • যাদেরে টাইফয়েড, চর্মরোগ, ডায়াবেটিস, বাতজ¦র হৃদরোগ রয়েছে তারা রক্ত দিতে পারবেন না। 
  • যারা বড় কোনো দুর্ঘনায় পড়েছিলেন বা অস্ত্রপাচার হয়েছে  এবং দুর্ঘটনা ৬ মাসের মধ্যে হয়েছে তারা রক্ত দিতে পারবেন না।

উপরের বিষয়গুলো রক্ত দানের আগে জেনে নিবেন। রক্ত দান স্বাস্থের জন্য খুবই উপকারি তবে সঠিক শর্ত, সঠিক নিয়ম না মেনে রক্ত দিলে রক্ত দাতা এবং গ্রহীতা দুজনের স্বাস্থের বিরাট ঝুঁকি হতে পারে। 

কাদের রক্ত নেওয়া যাবে না

জীবন নতুন ভাবে ফিরে আসে রক্ত দানের মধ্য দিয়ে। রক্ত দানের থেকে উত্তম বা ভালো কাজ খুব কম আছে বলা চলে। রক্ত শুধু দেওয়া নেওয়া করলেই হবে না, পাশাপাশি কঠোরভাবে সচেতন থাকতে হবে। নিরাপদ ভাবে রক্ত সঞ্চালন করতে হবে। রক্ত দেওয়ার আগে অবশ্যই রক্ত দাতাকে সাবধান থাকতে হবে পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ন একটি বিষয় হলো চিকিৎসকের রক্ত নেওয়ার আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নেওয়া। রক্ত দেওয়ার আগে দেখে নিতে হবে, যে রক্ত দিচ্ছে তার রক্ত রোগীর জন্য উপযোগি কি-না। কারন অনেক সময় দেখা যায় রক্ত দাতার শরীরের ভেতরে গোপনে কোনো জটিল রোগ হয়ে থাকে আবার রক্তের মধ্যে জীবানু থাকে যা রক্তগ্রহীতার বড় ক্ষতি হয়ে  যেতে পারে। এমন অনেক ধরনের ব্যাক্তি আছে যাদের রক্ত নেওয়া যাবে না। জেনে নিন কাদের রক্ত নেওয়া যাবে না-

  • শারিরিক ভাবে সুস্থ নয় এমন ব্যক্তির রক্ত নেওয়া যাবে না। 
  • মানসিক ভাবে সুস্থ নয় এমন ব্যক্তির রক্ত নেওয়া যাবে না। 
  • হেপাটাইটিস সি’ এবং হেপাটাইটিস বি’ রোগ যাদের আছে তাদের রক্ত নেওয়া যাবে না। 
  • মাদকাসক্ত ব্যক্তির রক্ত নেওয়া যাবে না। 
  • ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত নেওয়া যাবে না। 
  • হিমেফেলিয়াতে যারা ভুগছে তাদের রক্ত নেওয়া যাবে না। 
  • এইডস রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত নেওয়া যাবে না। 
  • গর্ভবতী নারী এবং মাসিক চলছে এমন নারীর রক্ত নেওয়া যাবে না। 
  • যাদের ওজন তুলনামূলকভাবে কম এবং ক্রমাগত ভাবে কমতেই থাকছে এমন ব্যক্তির রক্ত নেওয়া যাবে না। 
  • অতিরিক্ত যাদের শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা আছে তাদের রক্ত নেওয়া যাবে না। 
  • উচ্চ বা নিম্ন রক্তচাপ থাকলে তাদের রক্ত নেওয়া ঠিক নয়। চিকিৎসকের মতে এসব রোগির রক্ত নেওয়ার ফলে রক্ত দাতার সমস্যা হতে পারে। 
  • সম্প্রতি রক্ত দিয়েছে এমন ব্যক্তির রক্ত নেওয়া ঠিক নয়।

রক্ত দানের আগে রক্তদাতা, রক্ত দানে উপযুক্ত কি-না এমন কিছু পরীক্ষা ডাক্তাররা করে থাকেন। সে পরীক্ষার মাধ্যমেই সঠিকভাবে জানা যায় কাদের রক্ত নেওয়া যাবে না। এছারাও উপরের বিষয়গুলো কোনো ব্যক্তির মধ্যে থেকে থাকলে সে ব্যক্তির রক্তদানে ইচ্ছা থাকলেও রক্ত দিতে পারবে না। 

আরো পড়ুন: চোখের সমস্যা দূর করার উপায় - চোখের পাওয়ার কেন কমে

রক্ত দানের পর কি কি খেতে

রক্তদান করলে, রক্ত দাতার খাবারের দিকে খেয়াল রাখা দরকার। তবে রক্ত দান করে দুর্বল হয়ে গেছেন, অসুস্থ হয়ে গেছেন এমন কোনো কারনে নয়। রক্ত দান করার পর আবার আপনি যেন রক্ত দিতে পারেন সে জন্য খাবারের দিকে নজর দেওয়া ভালো। রক্ত আমাদের শরীরের  বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন অংশগুলো ঠিক রাখে। রক্তের মধ্যে বিভিন্ন উপাদান রয়েছে। আর সুস্থ ভাবে বাঁচতে, শরীররক ঠিক রাখতে দেহে রক্তের সকল উপাদান ঠিক রাখতে হবে। শরীরের রক্ত, রক্তের বিভিন্ন উপাদান ও রক্তের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ঠিক রাখতে খাবারের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। আপনার শরীরের রক্ত এবং রক্তের উপাদান ঠিক থাকলে রক্ত দানের জন্য আপনি উপযোগি হতে পারবেন। তাই যে খাবারগুলো খেলে রক্ত ও রক্তের হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধি পায়  সে খাবারগুলো আপনাকে রক্ত দানের পর খেতে হবে। জেনে নিন রক্তদানের পর কি কি খেতে হবে। 

পানি: রক্ত দানের পর আপনাকে প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে। এতে সাধারণ পানি অথবা স্যালাইন পানি খেতে পারেন। 

ডাবের পানি: রক্ত দানের পর পর ডাবের পানি খেয়ে নেওয়া ভালো। 

ডার্ক চকলেট: আয়রনযুক্ত খাবার রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ায়। আর ডার্কচকলেটে প্রচুর পরিমাণে আয়রন আছে, তাই রক্তদানের পর ডার্ক চকলেট খাবেন। 

ফল: বিভিন্ন ফল যেমন- লেবু, কমলা, আম, তরমুজ, আপেল, বেদানা, যেগুলোতে রস বেশি পরিমাণে থাকে  এবং আয়রন, ভিটামিন সি জাতীয় ফল খাবেন। 

মাংস: রক্ত দানের পর প্রোটিন জাতীয় খাবার খাবেন। লাল মাংস যেমন ঃ গরুর মাংস, খাসির মাংস, মহিষের মাংসে প্রচুর প্রোটিন থাকে রক্তদানের পর এসব মাংস খাবেন। 

শস্য জাতীয় খাবার: এ জাতীয় খাবারের মধ্যে চাল, ওটস, গম, বার্লি রক্ত দানের পর খাবেন। এগুলো আয়রনের ভালো উৎস যা রক্ত দানের পর খাওয়া ভালো। 

সামুদ্রিক মাছ: রক্ত দানের পর বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ খাবেন। 

শুকনো ফল: শুকনো ফলের মধ্যে খেজুর, কিসমিস, যেকোনো বাদাম এসব রক্তদানের পর খাবেন। এসব খাবারে প্রচুর আয়রন, ফাইবার এবং বিভিন্ন ভিটামিন আছে যা রক্তদানের পর খাওয়া ভালো। 

ডাল: রক্ত দানের পর দৈনিক এক বাটি করে ডাল খাবেন, মসুর ডাল হলে ভালো হয়। 

ডিম: ডিমে উচ্চ মাত্রায় আয়রন থাকে, তাই রক্তদানের পর ডিম খাবেন। 

সুবজ ও তাজা শাক-সবজি: রক্তদানের পর প্রতিদিন খাবারের তালিকায় সবুজ শাক-সবজি রাখবেন। সবুজ ও তাজা শাক-সবজির মধ্যে টমেটো, আলু, ব্রকোলি, গাজর, পালংশাক প্রভৃতি খেতে পারেন। 

রক্ত দানের পর এসব খাবার খাওয়া শরীরের জন্য বেশ উপকারি। খাবার ছাড়াও রক্ত দেওয়ার দিন শারিরিক পরিশ্রম করবেন না, ভারি কিছু উঠাবেন না, হাঁটা চলা কম করবেন অর্থ্যাৎ রিল্যাক্স থাকার চেষ্টা করবেন।

পরিশেষে বলতে চাই, রক্ত দান অবশ্যই ভালো, মনে রাখবেন আপনার দেওয়া রক্ত অন্য একজনের জীবন রক্ষা করে। রক্তদান ধর্মীয় দিক থেকে পুণ্যের ও মহৎ কাজ। এছারাও রক্তদানে কোনো প্রকার ক্ষতি নেয় বরং রক্ত দাতার স্বাস্থের জন্য উপকারি। তাই আসুন নিজ ইচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে যায় এবং অপরকে রক্তদানে উৎসাহিত করি।

লেখকের শেষ বক্তব্য

রক্ত দানের উপকারিতা ও অপকারিতা - রক্ত দানের গুরুত্ব সম্পর্কে আজকের এই ব্লগে সকল তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আশা করি রক্ত দানের উপকারিতা ও অপকারিতা - রক্ত দানের গুরুত্ব সম্পর্কে আপনি বিস্তারিত জানতে পেরেছেন।

এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। যদি আপনি এই ধরনের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ব্লগ পোস্ট নিয়মিত পড়তে চান তাহলে আপনাকে প্রতিনিয়ত আমাদের এই ওয়েবসাইট ফলো করতে হবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন