চোখের সমস্যা দূর করার উপায় - চোখের পাওয়ার কেন কমে

চোখ মানুষের অত্যান্ত গুরত্বপূর্ন একটি ইন্দ্রিয়। বিভিন্ন কারনে চোখের সমস্যা হয়ে থাকে। চোখের সমস্যা হলে আমাদের মধ্যে অস্বস্তি কাজ করে এবং  চোখের পাওয়ার কমে যায়, চোখে কম দেখি। চোখের সমস্যা অল্প হলে আমরা তেমন গুরত্ব দেই না, তবে গুরত্ব না দেওয়ার কারনে আমাদের শেষ পর্যায়ে অনেক ভুগতে হয়। চোখে সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই আমাদের সতর্ক হতে  হবে এবং এ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। চোখের সমস্যা হলে কি করবেন? কেনই বা কমে চোখের পাওয়ার?  অনেকেই বুঝতে পারছেন না। যারা চোখের সমস্যাই ভুগছেন  এবং এর সমাধানের উপায় জানতে চাচ্ছেন তারা আজকের আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ুন। আজকের আর্টিকেলে আপনাদের জানিয়ে দিব চোখের সমস্যা দূর করার উপায় কি এবং চোখের পাওয়ার কেন কমে।

চোখের সমস্যা দূর করার উপায়

চোখের সমস্যা বর্তমানে এখন সাধারন একটি সমস্যা, যা কম বেশি সবাই ভোগান্তিক। তবে এ সমস্যার সমাধান আমাদের নিজের কাছেই আছে। একটু সতর্ক এবং সঠিক যত্নই পারে চোখকে বিভিন্ন সমস্যার হাত থেকে রক্ষা করতে। চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক, কিভাবে যত্ন নিলে চোখের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে এবং সমস্যা দেখা দিলে আমাদের করনীয় কি।

চোখের সমস্যা দূর করার উপায়

চোখ ছাড়া পৃথিবী অন্ধকার, তাই নিতে হবে চোখের সঠিক যত্ন ও চিকিৎসা । চোখে সমস্যা হলে- চোখে প্রচন্ড ব্যথা হয়, চোখে কম দেখা, চোখ লাল হয়ে যায়, চোখ চুলাকানো এবং চোখ দিয়ে পানি ঝরে। আমাদের চোখের সমস্যা দেখা দিলে আমরা বিষয়টা গুরত্বর ভাবে দেখি না। তবে এটা ঠিক নয়, অনেক সময় চিকিৎসকেরা বলে থাকেন চোখে কম দেখা বিভিন্ন রোগের কারন হতে পারে। আপনার শরীরে কোনো রোগ জন্ম নিয়েছে তার লক্ষন চোখের ওপর পড়তে পারে। তাই চোখের সমস্যা হলে অবশ্যই এ সমস্যা দূর করতে হবে। চোখের সমস্যা দূর করার কিছু ঘরোয়া উপায়-

  • চোখে হঠাৎ ব্যাথা হলে, প্রথমে সাবান ও ফেসওয়াশ দিয়ে ভালোভাবে পানি দিয় মুখ ও চোখ পরিষ্কার করে নিন। এরপর আপনার যে চোখে ব্যথা হচ্ছে সে চোখ বাম হাতে দিয়ে টেনে ধরে ডান হাতে পানি নিয়ে পানির ঝাপটা কয়েকবার আপনার চোখে দিন।
  • চোখে ব্যথা এবং চোখ খচখচ করলে, একটা পাত্রে কুসুম গরম পানি নিন এরপর তাতে নরম সুতি কাপড় ভিজিয়ে চোখের ওপর গরম পানির ভাপ দিন। চোখের ব্যথা তাড়াতাড়ি কমে যাবে।
  • চোখ ওঠলে অর্থাৎ চোখ লাল হলে এবং চোখের মধ্যে কিছু আছে এমন অনুভূতি হলে, কুসুম গরম পানির সেঁক চোখে দিতে হবে।
  • অতিরিক্ত চোখের ওপর প্রেসার পড়লে, বেশি সময় ধরে ল্যাপটপ ও ফোনের ওপর চোখ রাখলে। চোখে সমস্যা দেখা যায়, চোখ জ্বালাপোড়া করে। এজন্য চোখে জ্বালাপোড়া কমাতে ফ্রিজে শশার টুকরো অথবা গ্রিন টি ব্যাগ রেখে দিয়ে ঠান্ডা হলে, সেই ঠান্ডা শশা অথবা গ্রিন টি ব্যাগের মধ্যে যেকোনো একটি আপনার চোখের উপর রেখে দিন। অল্প কিছুক্ষনের মধ্যে চোখ জ্বালা পোড়া কমে যাবে।
  • চোখে শুষ্কতা দেখা দিলে প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে- প্রতি ২০ মিনিট পর পর চোখটাকে ২০ সেকেন্ড বন্ধ রাখতে হবে। যেকোনো কাজ করছেন, বিশেষ কর কম্পিউটারের কাজ করছেন। তাহলে কাজ করার ফাঁকে এটি করবেন। 
  • চোখ শুষ্ক থাকলে চাখ জ্বালাপোড়া, ঝাপসা দেখা, চুলকানির মতো সমস্যা চোখে হতে পারে। শুষ্ক চোখের সমস্যা থেকে বাঁচতে প্রতিদিন ক্যাস্টর অয়েল চোখে এক ফোঁটা করে কয়েকবার দিতে পারেন।
  • চোখ পরিষ্কার থাকলে চোখে সমস্যা হবে না। তাই চোখ পরিষ্কার রাখতে গোলাপজল আই ড্রপস হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।
  • চোখের সমস্যা দেখা দিলে অনেক সময় চোখে অঞ্জনি উঠে, চোখ লাল ও ফুলে যায়। এ সমস্যা দেখা দিলে ক্ষারযুক্ত সাবান পরিহার করতে হবে। হালকা গরম পানিতে ক্ষারমুক্ত ফেসওয়াশ দিয়ে চোখ পরিষ্কার করবেন এবং চোখে গরম সেঁক দিবেন।
  • চোখের একটি পরিচিত সমস্য হলো চোখে অ্যালার্জি। অ্যালার্জির কারনে চোখ চুলকায়, চোখ লাল ও খচখচ করে। চোখের এ সমস্যা খেকে মুক্তি পেতে চোখকে ধুলাবালি, দুষিত ধোয়া, ধুপকাঠির ধোয়া থেকে চোখকে দূরে রাখুন।
  • চোখ ভালো রাখতে চোখের বিশ্রামের প্রয়োজন। এজন্য চোখ ভালো রাখতে, চোখকে বিশ্রাম দিতে একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের দৈনিক ৮ ঘন্টা ঘুমের প্রয়োজন। চোখ ভালো রাখতে অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমানে ঘুমাবেন।

চোখকে ভালো রাখতে নিতে হবে চোখের সঠিক যত্ন, চোখ সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, পর্যাপ্ত পরিমানে ঘুমাতে এবং পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। চোখের সমস্য দেখা দিলে দীর্ঘদীন ধরে বসে থাকলে হবে না, চিকিৎসকের পরমর্শ নিতে হবে। চোখের ছোটখাটো সমস্যা হলে কয়েকদিন ঘরোয়া উপায়গুলো করলে চোখের সমস্যা ভালো হয়ে যাবে। কয়েকদিন ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করে যদি চোখের সমস্যা ভালো না হয়, তাহলে ভালো ডাক্তারের কাছে যাবেন।

আরো পড়ুন: দাঁতের ক্ষয় রোধের উপায় - দাঁতের ক্ষয় পূরন

কি খেলে চোখের সমস্যা দূর হয়

সারাদিন ল্যাপটপে কাজ, পড়ালেখায় চাপ, অবসর সময়ে ফোন,  এসব বিষয়ের কারনে আমাদের চোখে বিভিন্ন সমস্যা দেখা যাচ্ছে। চোখ ভালো রাখতে চোখকে দিতে হবে বিশ্রাম, নিতে হবে সঠিক যত্ন এবং তার সাথে খাদ্যঅভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খেলে চোখের দৃষ্টি দীর্ঘদিন ভালো থাকে, চোখের উজ্জলতা বাড়ে এবং চোখের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তাই চোখের সমস্যা দূর করতে আমাদের খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন আনতে হবে। জানেন কি? এমন কি খাবার আছে যেগুলো খেলে চোখের সমস্যা দূর হয়। জেনে নিন কি খেলে চোখের সমস্যা দূর হয়-

বাদাম: বাদাম, কাজুবাদাম ইত্যাদি বাদাম চোখের স্বাস্থ ভালো রাখে। বাদাম হলো ভিটামিন ই’ সমৃদ্ধ খাবার যা খেলে চোখের সমস্যা দূর হয়। 

কমলালেবু: কমলালেবুতে রয়েছে ভিটামিন সি’ এবং বিভিন্নি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান  যা চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে।

পেঁপে: চোখের স্বাস্থ ভালো রাখতে ভিটামিন এ’, ভিটামিন সি এবং ভিটামিন ই খুবই কার্যকারী। পেঁপেতে এসবগুলো উপাদান বিদ্যমান থাকে, তাই চোখ সুস্থ রাখতে পেঁপে খাবেন।

গাজর: ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার চোখের জন্য খুবই উপকারি। গাজর খেলে ভিটামিন এ পাওয়া যায়। তাই গাজর খেলে চোখ ভালো থাকে এবং রাতকানা রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

ব্রকলি:  ব্রকলির মধ্যে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ’ রয়েছে। যা নিয়মিত খেলে চোখের উজ্জলতা বাড়ে। ব্রকলি রান্না, ভাজা অথবা কাঁচা সালাদ করে খেতে পারেন।

পালংশাক: চোখ ভালো রাখতে খুবই কার্যকারী একটি খাদ্য উপাদান হলো পালংশাক। পালংশাকে রয়েছে লুইটেন জেক্সিন নামক অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, যা চোখকে সবসময় সুস্থ রাখে।

বেরিজাতীয় ফল: বেরি জাতীয় ফলগুলোর মধ্যে প্রচুর ভিটামিন সি রয়েছে, তার সঙ্গে রয়েছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। চোখ সুস্থ রাখতে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় এ খাবারগুলো রাখবেন।

কলা:  কলাতে প্রচুর পটাশিয়াম রয়েছে, যা চোখকে সুস্থ রাখে এবং চোখের বিভিন্ন সমস্যা দূর করে।

জিংক সমৃদ্ধ খাবার: চোখের স্বার্বিক অংশ ভালো থাকে জিংক সমৃদ্ধ খাবার খেলে। কলিজা, পালং শাক, সামুদ্রিক মাছ, চিংড়ি, মাংস, শিম, মাশরুম ইত্যাদি খাবারে জিংক পাওয়া যায়।

ড্রায় ফ্রুটস: চোখের সমস্যা দূর করতে ড্রাই ফ্রুটস খান। ড্রাই ফ্রুটস খাবারগুলো হলো- বাদাম, কাজুবাদাম, আখরোট, কিসমিস, পেস্তা বাদাম ইত্যাদি।

ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার: সকল প্রকার ভিটামিন এ’ সমৃদ্ধ খাবার চোখের সমস্যা দূর করতে খাবেন। ডিম, ঘি, মাখন, দুধ, দই, গরুর কলিজা এবং রঙিন শাক-সবজি এসব খাবারে প্রচুর ভিটামিন এ পাওয়া যায়।

ওমেগো থ্রি ফ্যাটি এসিড যুক্ত খাবার: চোখ ভালো রাখতে প্রতিদিনের খাবার তালিকায় ওমেগো থ্রি ফ্যাটি এসিড যুক্ত খাবার রাখবেন। এসব খাবারের মধ্যে রয়েছে রুই, কাতলা, ইলিশ, বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ ইত্যাদি। এগুলো খাবার চোখে পুষ্টির ঘাটতি পূরন করে এবং দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে।

চোখের খেয়াল রাখতে এবং চোখের নানাবিধ সমস্যা দূর করতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এসব খাবার রাখবেন।

চোখের পাওয়ার কেন কমে

চোখের পাওয়ার কেন কমে

চোখের একটি সমস্যা হলো চোখের পাওয়ার কমে যাওয়া। অল্প বয়সে চোখের পাওয়ার কমে যাচ্ছে? এর জন্য মূলত আমরা নিজেরাই দায়ি। আমাদের চলাফেরা, সঠিক খাবার না খাওয়া চোখের ওপর প্রভাব পড়ে। কিছু অভ্যাস আছে যেগুলো করার ফলে আমাদের চোখের পাওয়ার কমে যাচ্ছে।

চিকিৎসকেরা চোখের পাওয়া কমে যাওয়ার প্রথম কারন ধরেছেন, ইলেকট্রনিক ডিভাইসের প্রতি আসক্ত হওয়া। আমরা কাজ ক্ষেত্রে হোক কিংবা অবসর সময়ে হোক ফোন, কম্পিউটার ও টিভির প্রতি অধিক আসক্ত। অফিসে সারাদিন কম্পিউটারের কাজ, বাসায় এসে বিশ্রাম না করে অবসর সময়ে ফোন অথবা টিভি এর ফলে চোখে অধিক চাপ সৃষ্টি হয়। ফলে চোখের পাওয়ার কমে যায়। 

ধুমপান ও মদ্যপান এসব অ্যালকোহল জাতীয় খাবার চোখের জন্য খুবই ক্ষতিকর। চোখের ভিতরের গুরত্বপূর্ন অংশগুলো এসব খাওয়ার ফলে অকেজো হয়ে যায়। অতিরিক্ত মাত্রায় সেবন  করলে শেষ পর্যায়ে চোখ অন্ধ হয়ে যায়।

এছারাও কিছু খাবার আছে যেগুলো খাওয়ার ফলে চোখের পাওয়ার কমে যাচ্ছে। উচ্চমাত্রায় কার্বোহাইড্রেট ও চিনিযুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে চোখের পাওয়ার কমে যায়। কার্বহাইড্রেট খাবার খাওয়া আমাদের শরীরের জন্য ভালো, তবে অধিক মাত্রায় খাওয়া চোখের জন্য ক্ষতিকর। ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার না খেলে চোখের পাওয়ার ধিরে ধিরে কমে যায়। খাদ্য তালিকায় ভিটামিন এ’, ই’, এবং সি’ জাতীয় খাবার না খেলে চোখে কম দেখতে পাওয়া যায়।

চোখের পাওয়ার কমে গেলে করনীয়

চোখের পাওয়ার বিভিন্ন কারনে হঠাৎ করে কমে যায়। আমাদের জীবনযাত্রায় কিছু ত্রুটি ও আস্বাভাবিক খাদ্যভাসের কারনে চোখের পাওয়ার কমে যায়। চোখের পাওয়ার কমে গেলে আমরা দুরের বা কাছের জিনিস ঠিক মতো দেখতে পাই না। দৃষ্টি শক্তি দুর্বল হলে চোখের পাওয়ার কমতে শুরু করে। চোখের পাওয়ার কমে গেলে আমাদের জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন এবং সঠিক খাদ্যভাসের মাধ্যমে দুর্বল দৃষ্টিকে সতেজ করে তুলতে হবে। আসুন জেনে নিই চোখের পাওয়ার কমে গেলে কি করবেন।

  • চোখের পাওয়ার কমে যাওয়ার মূল কারন হলো ইলেকট্রন ডিভাইসের প্রতি আসক্ত হওয়া। তাই চোখের পাওয়ার কমে গেলে অবশ্যই মোবাইল, ল্যাপটপ এবং টিভি দেখা থেকে কিছুদিনের জন্য বিরত থাকুন।
  • চোখের পাওয়ার কমে গেলে উচ্চমাত্রায় কার্বোহাইড্রেট এবং অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। এসব খাবার চোখের পাওয়ার কে কমিয়ে দেয় এবং চোখে কম দেখতে পাওয়া যায়।
  • অ্যালকোহল জাতীয় খাবার পরিহার করতে হবে চোখের পাওয়ার কমে গেলে।
  • চোখের পাওয়ার কমে গেলে চোখকে কিছুদিনের জন্য অধিক সময় ধরে বিশ্রাম দিন।
  • ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবারের ঘাটতি থাকলে আপনার চোখের পাওয়ার কমে যেতে শুরু করে। তাই চোখের পাওয়ার কমতে শুরু করলে ভিটামিন এ’ জাতীয় খাবার বেশি বেশি খাবেন।
  • বাদাম, মৌরি এবং মিছরি খাবেন চোখের পাওয়ার বাড়ানোর জন্য।
  • চোখের পাওয়ার কমে গেলে দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে দুগ্ধজাতীয় খাবার খাবেন।
  • সবুজ শাকসবজি ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার চোখের জন্য খুবই উপকারি। তাই চোখের পাওয়ার বাড়াতে সবুজ শাকসবজি এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল খাবেন।
  • যেসব ফল খেলে চোখের জ্যোতি বাড়ে সেসব ফল প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখবেন । চোখের জ্যোতি বাড়ায় এমন ফলগুলো হলো-ব্লুবেরি, আনারস, তরমুজ, স্ট্রবেরি, কমলা, আম, পেঁপে, আঙ্গুর ইত্যাদি।

যদি আপনার চোখের পাওয়ার কমতে শুরু করে তাহলে উপরের বলা উপায়গুলো অবলম্বন করবেন।  প্রাথমিক পর্যায়ে চোখে কম দেখলে এসব উপায় অবলম্বন করলে চোখ আবার স্বাভাবিক হয়ে যাবে। তবে এক সপ্তাহ হয়ে যাচ্ছে তবুও আপনার সমস্যা কমছেনা, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন।

আরো পড়ুন: রাতে ঘুমানোর সঠিক সময় কখন - কত ঘন্টা ঘুমানো উচিত

চোখের দৃষ্টি বৃদ্ধি করার ওষুধ

চোখে কোনো সমস্যা হলে চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যায় এবং চোখে কম দেখে। চোখ আমাদের শরীরের খুবই গুরত্বপূর্ন একটি সম্পদ, যা ছাড়া আমরা একেবারেই অচল। সাধারনত বয়স বাড়ার সাথে চোখের দৃষ্টি কমে যাওয়ার কথা। তবে এখনকার মানুষের জীবনযাত্রার মান এমন হয়েছে যে অল্প বয়স থেকেই চোখের সমস্যা। চোখের দৃষ্টি বৃদ্ধি করতে যারা ওষুধ খেতে চাচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে বলতে চাই। চোখের সমস্যা দেখা দিলে বা চোখে কম দেখলে চিকিৎসকের পরমর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন করবে না। তবে ঘরোয়া ওষুধগুলো অর্থাৎ আপনার জীবনযাত্রার কিছু পরিবর্তন এবং আপানি আপনার খাবারের মধ্যে দিয়ে চোখের দৃষ্টি বৃদ্ধি করতে পারেন।

অপনার চোখের দৃষ্টি কমে যাচ্ছে এবং মনে হচ্ছে চোখে আপনি কম দেখছেন। তাহলে চোখের দৃষ্টি বৃদ্ধি করতে আপনাকে চোখের সঠিক যত্ন এবং সঠিক খাবার খেতে হবে। তাহলে আপনার চোখের দৃষ্টি আবার আগের মতো হয়ে যেতে পারে। পুষ্টিবিদরা বলে থাকেন যেকানো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রাকৃতিক খাবার হলো ঘরোয়া ওষুধ। চোখের দৃষ্টি বৃদ্ধি করার জন্য শুরুতেই ডাক্তারের কাছে যাবেন না। প্রথমে চোখের দৃষ্টি বাড়াতে ঘরোয়া ওষুধগুলো আপনি করবেন।

চোখের দৃষ্টি শক্তি বাড়াতে যা করবেন

  • প্রতিদিন রাতে ত্রিফলা চূর্ন ভিজিয়ে রেখে সকালে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে ছেঁকে, সে পানি দিয়ে চোখ পরিষ্কার করুন।
  • চোখের দৃষ্টি শক্তি বাড়াতে ভিটামিন এ, ই, সি, ওমেগো থ্রি ফ্যাটি এসিড, লিউটিন সমৃদ্ধ খাবার উপকারি।
  • ধনেপাতার রস চোখের দৃষ্টি বাড়াতে দু ফোঁটা করে চোখে দিতে পারেন। 
  • চোখের দৃষ্টি শক্তি বাড়াতে সাইট্রাস জাতীয় ফল খাবেন।
  • রঙিন শাকসবজি দ্রুত চোখের দৃষ্টি বৃদ্ধি করে।
  • প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ডিম খেলে দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি পায়।

চোখের দৃষ্টি বাড়াতে এসব খাবার ছাড়াও আর্টিকেলের শুরুর দিকে কিছু খাবারের কথা বলেছি সেগুলো নিয়মিত খাবেন।

চোখের দৃষ্টি বাড়াতে চোখের যত্ন যেভাবে নিবেন:

  • চোখ চুলকালে অতিরিক্ত চোখ হাত দিয়ে ঘষবেন না।
  • চোখের মেকাপ বন্ধ করুন।
  • চোখ নরম কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করুন।
  • চোখের প্রতি চাপ কমান, চোখকে বিশ্রাম দিন।
  • পর্যাপ্ত পরিমানে ঘুম এবং স্বাস্থকর খাবার খান।

চোখের দৃষ্টিশক্তি কমতে শুরু করলে, দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে উপরের বলা টিপসগুলো ফলো করবেন। আর ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ইউটিউব দেখে কোনো প্রকার ওষুধ খাবেন না। কারণ চোখের সঠিক অবস্থান না বুঝে ওষুধ খাওয়া একদম ঠিক নয়। এর ফরে আপনার শরীরে বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

চোখের জ্যোতি বৃদ্ধির ব্যায়াম

চোখের জ্যোতি বাড়াতে ব্যায়াম হলো প্রাকৃতিক একটি মাধ্যম। যা করার ফলে চোখের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান হয় এবং চোখের জ্যোতি বাড়ে। চোখের জ্যোতি বাড়াতে, চোখের যত্ন ও খাবারের পাশাপাশি ব্যায়াম করতে হবে। চোখের জ্যোতি বাড়াতে নিচের ব্যায়াম গুলো করবেন-

  • চোখ সুস্থ এবং চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি করতে ২০ মিনিট পর পর চোখে বন্ধ করে ২০ সেকেন্ড পর্যন্ত থাকুন।
  • আপনার চোখের সামনে একটি কলম হাতের উপর রাখুন এবার পেন্সিলটি ধীরে ধীরে আপনার চোখের কাছে আনুন, দেখবেন পেন্সিলটির দ্বিগুন চিত্র হচ্ছে তখন থেমে যান, এরপর আবার পেনসিলটি আগের জায়গায় নিয়ে যান।
  • নির্দিষ্ট কোনো জায়গায় প্রথমে বসে পড়ুন। এরপর উপরে, নিচে, ডানে, বামে এবং উপরের ডান এবং উপরের বামে ৩ সেকেন্ড করে তাকান। সবশেষে চোখকে ঘড়ির কাটার মতো করে ঘোরান।
  • একটু পর পর চোখের পাতা বুজবেন আর খুলবেন এভাবে ৩০ বার মতো করবেন, এক দৃষ্টিতে কোনোদিকে তাকিয়ে থাকবেন না।
  • প্রথমে হাত ঘোষে হাত উষ্ণ করে নিবেন এরপর চোখ বন্ধ করে উষ্ণ হাতের তালু চোখের ওপর রাখুন। এবার হালকা চাপ দিয়ে ৩০ সেকেন্ড পর্যন্ত চোখের উপর ম্যাসাজ করুন, এভাবে দুই-তিনবার করুন।
  • মাথাকে স্থির রেখে চোখের মণি চারদিকে ঘোরাবেন।

চোখের জ্যোতি বাড়াতে এ ব্যায়ামগুলো কমপক্ষে ২ থেকে ৩ বার দৈনিক চেষ্টা করবেন। চোখ থাকতে চোখের যত্ন নিতে হবে, চোখে একবার বড় কোনো সমস্যা হয়ে গেলে সেখান থেকে বেড় হওয়া কঠিন। তাই চোখের সঠিক যত্ন নিতে স্বাস্থকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ব্যায়াম করা ছাড়াও মাঝে মধ্যে ডাক্তারের কাছে গিয়ে চোখ পরীক্ষা করে নিন।

লেখকের শেষ বক্তব্য

চোখের সমস্যা দূর করার উপায় - চোখের পাওয়ার কেন কমে সেই সম্পর্কে আজকের এই ব্লগে সকল তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আশা করি চোখের সমস্যা দূর করার উপায় - চোখের পাওয়ার কেন কমে সেই সম্পর্কে আপনি বিস্তারিত জানতে পেরেছেন।

এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। যদি আপনি এই ধরনের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ব্লগ পোস্ট নিয়মিত পড়তে চান তাহলে আপনাকে প্রতিনিয়ত আমাদের এই ওয়েবসাইট ফলো করতে হবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন