দাঁতের ক্ষয় রোধের উপায় - দাঁতের ক্ষয় পূরন

ডেন্টাল ক্যারিজ বা দাঁতের সমস্যা প্রায় এখন সবার দেখা যাচ্ছে। দাঁতের ক্ষয় বলতে আমরা, দাঁতকে খেয়ে ফেলা বলতে বুঝি। দাঁতে এক ধরনের ব্যকটেরিয়া দাঁতের ক্ষয় রোগের জন্য দায়ী। তবে আমাদের সতর্কতার অভাবই  মূলত এ সমস্যার জন্য দায়ী। বিভিন্ন কারনে এ সমস্যা হয়ে থাকে। কারনগুলো জেনে আমাদের এ সমস্যার সমাধান করা জরুরি। যারা ডেন্টাল ক্যারিজ বা দাঁতের ক্ষয় সমস্যা নিয়ে ভুগছেন তারা আজকের আর্টিকেলটি পড়ে সমস্যার সমাধান পাবেন। কারন আজকে আমাদের আর্টিকেলের বিষয় হচ্ছে দাঁতের ক্ষয় রোধের উপায় এবং দাঁতের ক্ষয় পূরন সম্পর্কে। সেই সাথে দাঁতের আরও সমস্যা জানতে এবং সমস্যাগুলোর সমাধান পেতে, আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

দাঁতের ক্ষয় রোধের উপায়

আমাদের ভুল খাদ্যঅভ্যাস ও দাঁতের সঠিক যত্ন না নেওয়ার কারনে দাঁত ক্ষয়ের সমস্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। দাঁতের এ সমস্যার কারনে আমাদের অনেক ভুগতে হয়। তাই সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার আগেই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে এবং দাঁতের সঠিক যত্ন নিতে হবে। তবে আমাদের অনেকের জানা নেই,  দাঁতের এ সমস্যা কেন হয় এবং এ সমস্যার সমাধান কি। চলুন বিস্তারিত জানা যাক, দাঁতের এ সমস্যার কারন কি এবং কিভাবে দাঁতের যত্ন নিলে দাঁতের ক্ষয় রোধ খেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

দাঁতের ক্ষয় রোধের উপায়

দাঁত ক্ষয় সমস্যা বর্তমানে জটিল একটি সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে। ছোট, বড় সবার ক্ষেত্রে এ সমস্যা হয়ে থাকে। তবে এ সমস্যার সমাধান রয়েছে। দাতঁ ক্ষয় রোধ করতে প্রথমেই আমাদের খুজে বের করতে হবে দাঁত ক্ষয়ের কারন গুলো কি। দাঁত ক্ষয় বিভিন্ন কারনে হয়ে থাকে। যেমন-

  • সঠিকভাবে দাঁত ব্রাশ না করা
  • কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার খাওয়া
  • জর্দা দিয়ে পান  খাওয়া
  • দাঁত দিয়ে নখ কাটা
  • গরম খাবারের সাথে ঠান্ডা পানীয় খাওয়া

এসব কারনে দাঁতের ক্ষয় হয়ে থাকে। দাঁত ক্ষয় হতে শুরু করলে প্রাথমিক পর্যায়ে দাঁত হলুদ হতে শুরু করে এরপর দাঁত কালো হতে দেখা যায় এবং দাঁত শিরশির করে। প্রথতে দাঁতের ব্যাথা হয় না সে কারনে আমরা তেমন এ বিষয়গুলো গুরত্ব দেয় না। পরবর্তীতে সেটা গর্ত হয়ে যায় এবং দাঁতে ব্যাথা হতে শুরু করে। দাঁতের ক্ষয় রোধে যা করবেন তা হলো:

  • সঠিক নিয়মে এবং সঠিকভাবে খাবার খাওয়ার পর দিনে দুই বার ব্রাশ করবেন। ভুলভাবে দাঁত ব্রাশ করার কারনে আমাদের দাঁতের ক্ষয় হয়। ব্রাশ খুব শক্ত হওয়া যাবেনা, নরম ব্রাশ ব্যবহার করতে হবে এবং বেশি সময় ধরে ঘষে ব্রাশ করা যাবে না। আপনার টুথব্রাশ তিন মাস পর পর চেঞ্জ করুন। 
  • ভালো গুনগত মানের টুথপেষ্ট ব্যবহার করতে হবে, ভেষজ উপাদান দিয়ে তৈরি পেস্ট ব্যবহার করবেন। 
  • শক্ত কোনো জিনিস দাঁত দিয়ে কাটা যাবে না, এর ফলে দাঁতের ক্ষয় হতে পারে। 
  • অনেক সময় দেখা যায় আমরা দাঁত ব্রাশ করলেও দাঁতের ফাঁকে খাবার এবং ময়লা জমে যায়, ফলে আমাদের দাঁতের ক্ষয় হয়।  সেক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা ডেন্টাল ফ্লস দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করতে বলেন।
  • দাঁতের ক্ষয় রোধ করতে গরম ও ঠান্ডা খাবার একসাথে খাওয়া বন্ধ করুন। 
  • দাঁতের ক্ষয় থেকে বাঁচতে সুপারি ও জর্দা দিয়ে পান খাওয়ার অভ্যাস থাকলে, সে অভ্যাস থেকে সরে আসুন।  
  • চিনিযুক্ত পানীয় বা খাবার এবং কফি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। 
  • দাঁতের ক্ষয় রোধ করহে চাইলে ধুমপান বন্ধ করুন। 
  • সারাদিনে আপনি যাই খান না কেন, খাওয়ার পর কুলকুচি করবেন। 
  • দাঁত কালো হতে দেখলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন।  এরপরও যদি দাঁতে গর্ত চলে আসে তাহলে দেরি না করে দাঁতে গর্ত হলেই, গর্ত জায়গাটা ডাক্তারের কাছে গিয়ে পূরন করে নিবেন।

আরো পড়ুন: মধু খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা - মধু খাওয়ার নিয়ম

উপরে বলা টিপসগুলো দাঁত ক্ষয় রোধে মেনে চলবেন। দাঁতের সমস্যা যতই জটিল হোক না কেন, এর সমাধান আছে, তাই ভয়ের কোনো কারন নেই। দাঁতের ক্ষয় থেকে রক্ষা পেতে সবথেকে ভালো উপায় হচ্ছে বছরে দুবার দাঁতের ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত। 

দাঁতের মাড়ি শক্ত করার উপায়

দাঁত ভালো রাখতে চাইলে অবশ্যই আমাদের দাঁতের মাড়িকে সুস্থ রাখতে হবে। কারন দাঁতের গোড়া যদি ভালো থাকে, তাহলে দাঁতও ভালো থাকবে। জোরে জোরে দাঁত ব্রাশ করা, ভিটামিনের অভাব, দাঁতের সঠিক যত্ন না নেওয়া বিভিন্ন কারনে দাঁতের মাড়ি আলগা হয়ে যায়। দাঁতের মাড়ি যদি আমরা সুস্থ রাখতে না পারি, তাহলে মাড়ির বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেই। অনেক সময় দাঁত দিয়ে রক্ত, পুঁজ বের হয় এবং দাঁতের মাড়ি আলগা হয়ে দাঁত পড়ে যায়। তাই দাঁতের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি আমাদের দাঁতের মাড়িকে সুস্থ এবং শক্ত রাখার চেষ্টা করতে হবে। সঠিকভাবে যত্ন নিলে দাঁতের মাড়ি শক্ত করা যায়। দাঁতের মাড়ি শক্ত করার উপায়গুলো নিচের আলোচনা করা হলো:

  • প্রতিদিন দিনে দুইবার দাঁত ব্রাশ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন, ঘুম থেকে উঠে একবার আর রাতে খাবারের পর একবার। খুব শক্ত টুথব্রাশ দাঁতে ব্যবহার করবেন না, নরম ব্রাশ ব্যবহার করবেন এবং একটা ব্রাশ দীর্ঘদিন ব্যবহার করবেন না। দাঁত ব্রাশ করা ছাড়াও দাঁতের মাড়ি শক্ত রাখতে, প্রতিবার খাবারের পর কুলকুচি করবেন। 
  • প্রতিদিন দাঁত ব্রাশ করার পরেও আমাদের দাঁতের মধ্যে খাবারের কনা আটকে থেকে যায়। দাঁতের মধ্যে খাদ্য কনা জমে থাকার কারনে আমাদের মাড়ি দুর্বল হয়ে যায়। তাই দাঁতের মাড়ি শক্ত করতে প্রতিদিন খাবারের পরে ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করতে হবে। ডেন্টাল ফ্লসের সাহায্যে আমরা দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা খাবারগুলো বের করে আনতে পারবো। 
  • ধুমপান আপনার মাড়িকে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত করে দেয় এবং মাড়ি আলগা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই যাদের ধূমপান ও তামাক খাওয়ার নেশা আছে তার দাঁতের মাড়িকে শক্ত রাখতে আজই সেটা ত্যাগ করুন। 
  • দাঁতের যত্নে আমরা অনেকেই কয়লা ও ছাই ব্যবহার করে থাকি, তবে এভাবে দাঁতের যত্ন নিলে মাড়িতে ক্ষতের সৃষ্টি হতে পারে। তাই দাঁতের মাড়ি শক্ত রাখতে ছাই কয়লা ব্যবহার করবেন না।

এসব ছাড়াও দাঁতের মাড়ি শক্ত করতে, দাঁতের স্বাস্থ ভালো রাখে এমন খাবার খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেগুলো দাঁতের মাড়ি শক্ত রাখবে। দাঁতের মাড়ি শক্ত রাখবে এমন খাবারগুলো হলো:

বাদাম: বাদামে চিনি কম থাকে, তাই দাঁতের মাড়িকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে এই খাবার। 

প্রোটিন জাতীয় খাবার: দাঁতের মাড়ি শক্ত রাখতে আপনার খাদ্যতালিকায় প্রোটিন জাতীয় খাবার যেমন-মাছ, মাংস, ডিম ইত্যাদি রাখুন। 

দুগ্ধজাতীয় খাবার: দুগ্ধজাতীয় খাবারগুলোর মধ্যে দুধ, দই, পনির, ছানা, মাখন, ঘি ইত্যাদি দাঁতের মাড়ি শক্ত করতে খাবেন। 

টাটকা সবজি: দাঁতের মাড়ি শক্ত রাখতে চাইলে কাঁচা মরিচ, গাজর, ফুলকপি, ব্রকলি ইত্যাদি টাটকা সবজি খাবেন। 

পাতাবহুল সবজি: লেটুস, পালংকশাক, পুঁইশাক ইত্যাদি খেলে দাঁতের মাড়ি শক্ত হয়। 

আঁশজাতীয় খাবার: দাঁতের মাড়ি ভালো সুস্থ ও শক্ত রাখতে আঁশজাতীয় খাবারের মধ্যে রয়েছে-আপেল নাশপাতি, শুকনা নারিকেল, ছোলা, খেজুর, ইত্যাদি। 

কাঁচা পেয়াজ ও রসুন: দাঁতের মাড়ি ভালো রাখতে নিয়মিত কাঁচা পেঁয়াজ ও রসুন খাবেন। কাঁচা পেঁয়াজ ও রসুন মুখের ক্ষতিকর ব্যকটেরিয়া ধ্বংস করে। 

ভিটামিন কে, ভিটামিন ডি এবং ভিটামিন সি এর অভাবে আপনার দাঁতের মাড়ির সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই  দাঁতের মাড়ি শক্ত রাখতে এ জাতীয় খাবার খাওয়ার চেষ্টা করবেন। 

খাবার খাওয়া শেষে প্রতিদিন প্রচুর পরিমানে পানি পান করবেন, এর ফলে দাঁতের ফাঁকে খাবার জমে থাকবেনা এবং দাঁতকে সুস্থ রাখবে।

এসব উপায় অবলম্বন করেও যদি আপনার মাড়ির সসম্যা হয়, তাহলে ভালো ডেন্টিস্টের পরামর্শ নিন। 

দাঁত শিরশির বন্ধ করার ওষুধ

নিয়মিত দাঁতের যত্ন না নিলে দাঁতে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। যার একটি সমস্যার নাম হলো দাঁত শিরশির করা। মিষ্টি জাতীয় খাবার, আইসক্রিম বা ঠান্ডা জাতীয় খাবার, টক জাতীয় খাবার খেলেই দাঁত শিরশির করে উঠে। আমাদের দাঁতের এনামেল যখন ক্ষয় হয়ে যায় তখন দাঁতে শিরশির অনুভূত  হয়।

দাঁতের এনামেল হলো: দাঁতের স্তর মোট তিনটি- নার্ভ, ডেন্টিন ও এনামেল।  দাঁতের সবথেকে বাইরের স্তর হলো এনামেল যা ডেন্টিন ও নার্ভকে ঢেকে রাখে।  বিভিন্ন কারনে দাঁতের এনামেল ক্ষয় হতে পারে। শক্ত ব্রাশ দিয়ে দাঁত ব্রাশ করা, বেশি জোরে দাঁত ব্রাশ করা, অতিরিক্ত শক্ত খাবার জোর পূর্বক খাওয়া, দাঁতের সঠিক যতেœর অভাবে দাঁতের এনামেল ক্ষয় হয়ে যায়। আর এনামেল ক্ষয় হয়ে গেলে আমরা যখন কিছু খায় তখন সে খাবার ডেন্টিনে লাগে এবং নার্ভাস সিস্টেমে তা চলে যায়, যার ফলে দাঁত শিরশির করে উঠে।

যারা দাঁত শিরশির সমস্যার সমাধান করতে ওষধ খেতে চাচ্ছেন, তারা এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ওষধ ব্যবহার না করে ঘরোয়া কিছু উপায় আছে যা দিয়ে এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এবং দাঁতের এনামেলকে ক্ষয় হওয়া থেকে বাঁচায়। দাঁতের শিরশিরানি যদি ঘরোয়া উপায় গুলো মেনে কমাতে না পারেন, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করবেন, কারও কথায় ওষুধ সেবন করবেন না। কারন আপনার দাঁতের অবস্থান বুঝে ওষুধ খাওয়া ভালো। তবে প্রথমে ঘরোয়া উপায়গুলো দিয়ে চেষ্টা করবেন। ঘরোয়া উপায় গুলো হলো:

  • দাঁত ব্রাশ সতর্কতার সাথে করতে হবে। শক্ত ব্রাশ ব্যবহার করা যাবে না, নরম ব্রাশ ব্যবহার করতে হবে এবং ব্রাশ দাঁতে জোরে ঘোষা যাবে না। 
  • ফ্লোরাইড সমৃদ্ধ টুথপেস্ট ব্যবহার করতে হবে। 
  • দাঁত শিরশির বন্ধ করতে পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় যোগ করতে হবে
  • মধু ও কুসুম গরম পানি একসাথে মিশিয়ে কুলকুচি করুন। 
  • হলুদ, লবন ও সরিষার তেল একসাথে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে, দাঁতে লাগান। দাঁতের শিরশিরানি ভবে দূর হবে। 
  • টক ও মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়া বন্ধ করতে হবে।
  • রসুন, লবন ও অল্প পরিমানে পানি  নিয়ে সবগুলো উপাদান একসাথে  মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এরপর যে দাঁত শিরশির করছে সে দাঁতে লাগিয়ে নিন, শিরশির করা কমে যাবে।  
  • লবন দাঁতের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া গুলোকে ধ্বংস করে। তাই দাঁত শিরশির বন্ধ করেতে লবন ও পানি দিয়ে কুলকুচি করতে পারেন।
  • লবঙ্গ দাঁতের শিরশিরানি কমায়। এ জন্য লবঙ্গ মুখে রেখে প্রতিদিন কিছুক্ষন করে নিয়ে থাকতে পারেন। 
  • লেবুর রস ব্যবহারে দাঁতের শিরশিরানি অনেকটা কমে যায়। তাই পানির সাথে লেবুর রস মিশিয়ে কুলকুচি করতে পারেন। 
  • নিয়মিত গ্রীন টি পান করলে দাঁতের শিরশির করা বন্ধ হয়। তাই নিয়মিত চিনি ছাড়া গ্রিন টি পান করবেন। 
  • ভ্যানিলা এক্সট্যাক্ট  নিয়ে মাড়িতে কিছুক্ষন লাগিয়ে রাখুন দাঁত শিরশির করা বন্ধ হবে। 
  • দাঁত শিরশির দূর করতে ক্যাপসাইসিন জেল ব্যবহার করতে পারেন। তবে প্রথমে একটু জ্বলবে, পরবর্তীতে ব্যবহার করতে লাগলে অভ্যাস হয়ে যাবে। 
  • অতিরিক্ত ঠান্ডা ও অতিরিক্ত গরম খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন। এসব খাওয়ার ফলে দাঁতের শিরশির আরও বেড়ে যাবে।

ঘরোয়া উপায় গুলো অবলম্বন করে যদি দাঁতের শিরশিরানি কমাতে না পারেন, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া  দাঁত শিরশির করার ওষধ ব্যবহার করবেন না। অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন। 

আরো পড়ুন: কীভাবে লম্বা হওয়া যায় - লম্বা হওয়ার লক্ষন

দাঁতের মাড়ি ক্ষয় রোধ করার ঘরোয়া উপায়

দাঁত থাকতে আমরা দাঁতের মূল্য দেয় না। তবে দাঁত চলে গেলে বুঝতে পারি দাঁতের মর্যাদা কতটুকু। দাঁতের সমস্যা হতে শুরু করলেই আমাদের চিন্তার শেষ নেই। তবে চিন্তার কোনো কারন নেই দাঁতের ক্ষয় রোধ করার ঘরোয়া কিছু উপায় আছে। সেগুলো আপনাদের সামনে তুলে ধরা হলো:

  • দাঁতের ক্ষয় দূর করতে, বিভিন্ন ভেষজ উপাদান দিয়ে তৈরি টুথপেস্ট দাঁতে ব্যবহার করবেন। 
  • নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করুন, সকালে ও রাতে খাওয়ার পর দাঁত  ব্রাশ করবেন। অবশ্যই নরম ব্রাশ ব্যবহার করবেন এবং আলতো করে ঘোষবেন। 
  • তবে ব্রাশ করার পরেও আমাদের দাঁতের ফাঁকে খাবার জমে থাকতে পারে, তাই অন্তত দিনে একবার হলেও ডেন্টাল ফ্লস দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করবেন। 
  • যেকোনো সময় খাবার খাওয়ার পর মাউথওয়াশ দিয়ে কুলকুচি করবেন। 
  • হলুদ দাঁতের জীবানু ধ্বংস করতে সাহায্য করে। তাই হলুদ গুড়া পানির সাথে মিশিয়ে , ছিদ্র দাঁতে লাগান আস্তে আস্তে ব্যাথা কমে যাবে। 
  • খাবারের তালিকায় মিষ্টি জাতীয় খাবার রাখবেন না। খাদ্য তালিকায় ভিটামিন এ’, ভিটামিন ডি এবং ভিটামিন সি’ জাতীয় খাবার রাখুন। 
  • নিয়মিত পেঁয়াজ দাঁতের মধ্যে চেপে ধরবেন এবং চিবিয়ে খাবেন। দাঁতের জীবানু ধ্বংস হবে আর সেই সাথে দাঁতের ক্ষয় কমবে। 
  • সরিষার তেলের সাথে লবন মিশিয়ে দাঁত মাজবেন প্রতিদিন একবার, এতে দাঁতের ক্ষয় রোধ করা যাবে। 
  • অ্যাসিডিটি দাঁত ক্ষয়ের একটি কারন, তাই দাঁত ক্ষয় রোধে খাদ্যতালিকা থেকে অ্যাসিডিটি হয় এমন খাবার বাদ দিন। 
  • পাতি লেবু দাঁতের জন্য খুবই উপকারি একটি উপাদান। তাই দাঁতের ক্ষয় রোধ করতে লেবু পানি নিয়মিত খাওয়ার চেষ্টা করবেন।

দাঁতের ক্ষয় রোধ করতে এ বিষয় গুলো মেনে চলুন আশা করি এ সমস্যার সমাধান পাবেন। দাঁতকে সুস্থ রাখতে চাইলে, দাঁত থাকতেই দাঁতের যত্ন নিবেন। প্রতিদিন নিয়মিত এবং সঠিক ব্রাশ দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করবেন। আর দাঁতের কোনো সমস্যা না থাকলেও বছরে দুইবার ডাক্তারের কাছে গিয়ে  দাঁতের পরীক্ষা করাবেন।

লেখকের শেষ বক্তব্য

দাঁতের ক্ষয় রোধের উপায় - দাঁতের ক্ষয় পূরন সম্পর্কে আজকের এই ব্লগে সকল তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আশা করি দাঁতের ক্ষয় রোধের উপায় - দাঁতের ক্ষয় পূরন সম্পর্কে আপনি বিস্তারিত জানতে পেরেছেন।

এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। যদি আপনি এই ধরনের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ব্লগ পোস্ট নিয়মিত পড়তে চান তাহলে আপনাকে প্রতিনিয়ত আমাদের এই ওয়েবসাইট ফলো করতে হবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন