কমলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা - কমলা খাওয়ার নিয়ম

আমরা অনেকেই কমলা খায়, কিন্তু কমলা খেলে কি হয় এবং কমলা খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানি না। ফলে আমাদের স্বাস্থের সঠিক উপকার হয় না। আপনি যদি কমলা খেয়ে থাকেন তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক কমলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা এবং কমলা খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে।

কমলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

কমলা সুস্বাদু একটি ফল তার সাথে উপকারি ফলও। তাই কমলা আমাদের খেতে হবে। তবে কমলা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে আমাদের অনেকের জানা নেই বলে, আমরা এ ফলের তেমন গুরুত্ব দেয় না। আবার অনেকেই কমলা খেলেও কমলা খাওয়ার উপকার সম্পর্কে জানে না। কমলা শুধু খেলেই হবে না, জানতে হবে কমলা খেলে কি হয় এবং কমলা খাওয়ার নিয়ম কি। এসব বিষয় না জেনে কমলা খেলে উপকারের বদলে ক্ষতি হতে পারে। তাই চলুন বিস্তারিত জানা যাক কমলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা এবং কমলা খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে।

কমলার উপকারিতা ও পুষ্টিগুন

পুষ্টিগুনে ভরপুর এ ফলের অসংখ্যা উপকারি গুন রয়েছে। তাই পুষ্টিবীদরা নিয়মিত কমলা খেতে বলেন। কমলা খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, তার সাথে শরীরের জন্য বিভিন্ন উপকার  বয়ে আনে। ছোট কিংবা বড় সবার জন্য কমলা খাওয়া উপকারি। কমলার মধ্যে অসংখ্যা পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এক নজরে দেখে নিন কমলালেবুর মধ্যে থাকা পুষ্টি উপাদান গুলো কি কি-

কমলার মধ্যে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন,  প্রোটিন, লিপিড, কোলেস্টেরল, শর্করাসহ বিভিন্ন ভিটামিন যেমন- ভিটামিন সি’ , ডি’, এ’, বি৬ রয়েছে। এসকল পুষ্টি উপাদান আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। এসব পুষ্টি উপাদান কমলার মধ্যে আছে বলেই আমাদের শরীর কমলা খাওয়ার ফলে বিভিন্ন উপকার পায়।

কমলা খাওয়ার উপকারিতা

ওজন কমায়: অতিরিক্ত ওজন আমাদের স্বাস্থের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। আর কমলালেবুতে থাকা ফাইবার আমাদের দেহের অতিরিক্ত চর্বি কমিয়ে, ওজন নিয়ন্ত্রনে আনে। 

চোখের জন্য উপকারি: কমলালেবুতে ভিটামিন এ রয়েছে যা খাওয়ার ফলে আমাদের শরীরের গরুত্বপূর্ন অংশ চোখকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। 

হার্ট সুস্থ রাখতে: কমলা লেবুতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, কোলিন, পটাশিয়াম ও ভিটামিন সি থাকায় এটি খাওয়ার ফলে হার্টকে ভালো রাখে। তাই হার্ট ভালো রাখতে কমলা খাবেন। 

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে রাখে: কমলা লেবুতে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রনে রেখে আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখে। 

ত্বক ভালো রাখতে: ত্বক ভালো রাখতে কমলা লেবুর জুড়ি মেলা ভার। কমলা লেবুতে থাকে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি’ যা খাওয়ার ফলে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দূর করে। 

হজম শক্তি বাড়ায়: কমলা লেবু খেলে হজমের সমস্যার সমাধান হয়। কমলাতে লেবুতে প্রচুর পরিমানে পানি থাকে যা খাওয়ার  ফলে হজম প্রক্রিয়া ঠিক থাকে। 

দাঁত ও মাড়ি ভালো রাখে: কমলা সাইট্রাস জাতীয় ফল যা খাওয়ার ফলে দাঁতের ক্ষয়রোধ করে এবং দাঁত ও দাঁতের মাড়ি শক্ত ও মজবুত রাখতে সাহায্য করে। 

কোলেস্টেরল কমাতে: শরীরে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর। কমলালেবুতে থাকা ফাইবার শরীর থেকে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল বের করে, কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রনে রাখতে সাহায্য করে। 

কিডনিতে পাথর: কমলালেবু নিয়মিত খেলে কিডনি সুস্থ থাকে। কমলালেবুতে থাকা ভিটামিন সি কিডনিতে পাথর সহ কিডনির বিভিন্ন সমস্যা প্রতিরোধ করে। 

স্ট্রোক: কমলালেবুতে থাকা পুষ্টি উপাদান স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। 

ডায়াবেটিস: ডায়াবেটিস রোগিদের জন্য কমলা খাওয়া অত্যন্ত গরুত্বপূর্ন। কমলালেবুতে থাকা পুষ্টিউপাদান শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রনে রাখে এবং ইনসুলিন উৎপাদন করে। যার ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে থাকে। 

ক্যান্সার প্রতিরোধে: কমলালেবুতে থাকা ভিটামিন সি, ডি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো শরীরের বিভিন্ন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।

উপরের বলা উপকারগুলো ছাড়াও কমলালেবুর আরও অসংখ্যা উপকারি গুন রয়েছে। সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের খাবার তালিকায় কমলা রাখা জরুরি। তাই শরীরকে বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি দিতে প্রতিদিন কমলা খাবেন।

আরো পড়ুন: কলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা - কাঁচা কলার পুষ্টিগুণ

গর্ভাবস্থায় কমলা খাওয়ার উপকারিতা

জীবনের প্রতিটা সময় স্বাস্থকর খাবার খেতে হবে। তবে গর্ভবস্থায় গর্ভবতী মায়েরা খাওয়া দাওয়ার ব্যাপার নিয়ে একটু বেশি সচেতন। এটাই স্বাভাবিক, কারন গর্ভের সন্তান সুস্থ, সবল থাকুক সব মায়ের চাওয়া। গর্ভের সন্তানকে সুস্থ রাখার মূল পদ্ধতি হলো গর্ভবতী মায়েদেরকে পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। পুষ্টিকর খাবার শুধু গর্ভের সন্তানের জন্য নয়, গর্ভবতী মায়েদের জন্যও প্রয়োজন। মা ভালো থাকলে সন্তানরা পৃথিবীতে আসতে পারবে। গর্ভবতী মায়েদের পুষ্টিকর খাবার তালিকায় কমলা রাখা অত্যন্ত গুরত্বপূর্ন একটি ফল। কমলার মধ্যে অসংখ্যা পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা গর্ভবতী মায়েদের এবং গর্ভের সন্তানের জন্য উপকারি। গর্ভাবস্থায় কমলা খেলে কি উপকার হয় জেনে নিন-

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে: কমলালেবুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি’ থাকে, যা খাওযার ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। গর্ভবস্থায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এমন খাবার খাওয়া উচিত। একজন গর্ভবতী নারী কমলালেবু খেলে তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। তাই আপনি যদি গর্ভবতী হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই খাবার তালিকায় কমলা রাখবেন। 

কোষ্ঠকাঠিন্য: গর্ভবস্থার সময়কালে অনেক গর্ভবতী মায়েদের দৈনন্দিন একটি সমস্যা হলো কোষ্ঠকাঠিন্য। এই সমস্যার সমাধান করতে পারে কমলালেবু। কমলালেবুতে থাকা পুষ্টি উপাদান গর্ভবতী মায়েদের কোষ্ঠকাঠিন্যকে দূরে রাখে। 

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে থাকে: একজন গর্ভবতী মায়ের সবসময় রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে রাখা জরুরি। কমলা লেবুতে থাকা বিভিন্ন ভিটামিন ও পুষ্টি উপাদান রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রনে রাখে। তাই গর্ভবতী মায়েরা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে রাখতে প্রতিদিন কমলা খাবেন। 

হার্ট ভালো থাকে:  যে মায়েরা গর্ভবতী এবং হার্টে সমস্যা রয়েছে সে মায়েদের প্রতিদিন কমলা খাওয়া উচিত। নিয়মিত কমলা লেবু খেলে গর্ভাবস্থায় হার্টের কোনো সমস্যা হবে না এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমবে। 

মূত্রকৃচ্ছতা দূর করে: গর্ভাবস্থায় প্রসাবের চাপ স্বাভাবিকের তূলনায় বেশি হয়ে থাকে। কিন্তু যদি আপনার সেটা না হয়, মূত্রনালীতে কোনো সমস্যা বা মূত্রকৃচ্ছতা হয়ে থাকে তাতে গর্ভবতী মায়ের ক্ষতি হতে পারে। এ ক্ষতির হাত থেকে বাঁচায় যারা নিয়মিত কমলা খায়। তাই গর্ভবতী মায়েরা প্রতিদিন কমলা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। 

আয়রনের ঘাটতি দূর করে: গর্ভাবস্থায় আয়রনের ঘাটতি প্রায় গর্ভবতী মায়েদের হয়ে থাকে । আয়রনের ঘাটতি, এ সমস্যা থেকে সহজেয় সমাধান পাওয়া যায় গর্ভবতী মায়েরা নিয়মিত কমলা খেলে।

পেটের সমস্যা: গর্ভবতী মায়েরা নিয়মিত কমলা খেলে পেটের বিভিন্ন সমস্যা  গ্যাসট্রিক ও আলসার প্রতিরোধ করে। 

ওজন নিয়ন্ত্রন: গর্ভাবস্থায় ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখা জরুরি। গর্ভাবস্থায় ওজন নিয়ন্ত্রনে না থাকলে গর্ভের সন্তান সুস্থ ও স্বাভাবিক হয় না। আর ওজনকে নিয়ন্ত্রনে রাখতে কার্যকারী ভূমিকা রাখে কমলালেবু। তাই গর্ভবতী মায়েরা ডায়েট চার্টে কমলালেবু রাখুন। 

ভ্রুনের বিকাশ: গর্ভাবস্থায় কমলা খেলে ভ্রুনের বিকাশ ঘটে।

গর্ভবতী মায়েরা সুস্থ ও বিভিন্ন রোগ থেকে বাঁচতে প্রতিদিনের খাবার তালিকায় কমলা রাখবেন। গর্ভবস্থার সময়টা একজন মায়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ন,  এ সময় সুস্থ থাকা অত্যবশক। গর্ভবতী মাকে সুস্থ রাখা ছাড়াও গর্ভের শিশুর উপযুক্ত গঠন ও বিকাশ নিশ্চিত হয় প্রতিদিন কমলা খেলে। তাই আপনি যদি গর্ভবতী হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই কমলা খাবেন।

কমলার উপকারিতা ও পুষ্টিগুন

কমলার খোসা খাওয়ার উপকারিতা

কমলার খোসা খেলে উপকার পাওয়া যায়, কথাটা শুনে হয়তো অনেকের আশ্চর্য মনে হবে। কারণ আমরা সাধারণত কমলার ভেতরের অংশটুকু খাই এবং বাইরের অংশ অর্থ্যাৎ খোসাটা ফেলে দিই। কমলার কোয়া যেমন পুষ্টিগুনে ভরপুর তেমনি এর খোসাতেও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান ও খনিজ পদার্থ রয়েছে। কমলার খোসাতে থাকা পুষ্টি উপাদান ও খনিজ পদার্থ মানব স্বাস্থের জন্য উপকারি। স্বাস্থের উপকারিতা পেতে কমলার খোসার জুস, স্যালাড, জেলি, স্যান্ডউইচ, স্মুদি তৈরি করে খেতে পারেন। কমলা আমরা প্রায় সবাই খেলেও কমলার খোসা খাই না। এর কারণ হলো কমলার খোসা খাওয়ার সঠিক উপকারের কথা আমাদের অনেকের জানা নেই। কমলার খোসা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে নি¤েœর আলোচনা থেকে জেনে নিন-

  • কমলালেবুর খোসা খাওয়ার ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। কমলার লেুবুর খোসা থেকে ভিটামিন সি’, ভিটামিন বি৬, ফাইবার, ক্যালসিয়ামের মতো আরও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়, যা খাওয়ার ফলে মানবদেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 
  • কমলার খোসা দিয়ে চা বানিয়ে খেতে পারেন।  কমলার খোসাকে কুচি কুচি করে কেটে চা এর সাথে অথবা কমলার খোসাকে রোদে শুকিয়ে গুড়ো করে চা বানানোর সময় এক চা চামচ, চা এর সাথে দিয়ে খেতে পারেন। এভাবে প্রতিদিন খেলে কফ এর সমস্যার সমাধান হবে। 
  • কমলার খোসা দিয়ে তৈরি চা অ্যাজমা ও শ্বাসপ্রস্বাসের মতো সমস্যার সমাধানে কার্যকারী ভূমিকা রাখে। 
  • ত্বকের যত্নে কমলা  লেবুর খোসা ব্যবহার করতে পারেন। কমলার খোসা ব্লেন্ড করে মুখের ত্বকে লাগালে ত্বকের বিভিন্ন দাগ ছোপ দূর করে। 
  • কমলার খোসা কুচি কুচি করে কেটে তার সাথে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে দৈনিক সকাল বেলা খাবেন। পেটের বিভিন্ন সমস্যা, গ্যাস, এসিডিটি ও বমি বমি ভাব দূর করবে। 
  • অতিরিক্ত কোলেস্টেরলের মাত্রাকে কমিয়ে, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রনে থাকে কমলার খোসা খেলে। কোলেস্টেরলের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রনে এনে অতিরিক্ত ওজন কমাতে সাহায্য করে কমলার খোসা। 
  • কমলার কোয়া খাওয়ার ফলে হার্ট যেমন সুস্থ থাকে ঠিক একই ভাবে কমলার খোসাতে থাকা পুষ্টি উপাদান হার্টের স্বাস্থ ভালো রাখতে সাহায্য করে।

উপরের বলা উপকারগুলো পেতে হলে কমলার খোসা ফেলে না দিয়ে খাবার হিসেবে ব্যবহার করবেন। সবসময় আপনার ঘরে কমলার খোসা রাখতে, কমলার খোসাকে রোদে শুকিয়ে গুড়ো করে রাখতে পারেন।

আরো পড়ুন: মধু খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা - মধু খাওয়ার নিয়ম

কমলার জুসের উপকারিতা

কমলা আমাদের স্বাস্থের জন্য উপকারি একটি ফল। কমলা সচারচর ফল হিসেবে খেতে বেশি দেখা যায়, তবে কমলা রান্না করে, জেলি অথবা জুস করেও খাওয়া যায়। কমলা ফল হিসেবে খাওয়ার ফলে যে উপকার গুলো পায়, কমলার জুসেও সে উপকারগুলো রয়েছে। অনেকেই আছে ফল হিসেবে কমলা খাওয়া তেমন পচ্ছন্দ করেন না, বিশেষ করে অনেক বাচ্চারা। সেক্ষেত্রে কমলার জুস বানিয়ে খেতে পারেন। অনেকেই ধারণা করে থাকে কমলার জুস বানালে কমলার পুষ্টিগুন কমে যায়। কিন্তু এ ধারনা ভুল বরং কমলা লেবুর জুস খেতেও স্বাদের হয় আর পুষ্টিগুনও কমে না। যার ফলে যারা ফল খেতে চাইনা তাদের জন্য খাওয়া সুবিধা হয়। 

কমলা লেবুর জুস বানাতে, কমলা, চিনি, বিট লবন নিবেন। এরপর কমলা লেবুর খোসা ও বীজগুলোকে ফেলে দিয়ে কমলা ব্লেন্ডারে দিয়ে তার সাথে অল্প অল্প করে পানি, চিনি ও লবন মিশিয়ে ব্লেন্ড করে নিবেন। ব্লেন্ড করা হয়ে গেলে ছাঁকনির সাহায্যে ছেঁকে খাবেন। কমলার জুস খাওয়ার ফলে কি উপকার হয় জেনে নিন-

  • কমলালেবুতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি রয়েছে। মাঝারি সাইজের দুটো কমলা দৈনিক আপনি জুস বানিয়ে খেলে, আপনার শরীরে ভিটামিন সি এর চাহিদা পূরন হবে। 
  • কমলা লেবু দিয়ে তৈরি করা জুস নিয়মিত খেলে ত্বকের উজ্জলতা বাড়ে। 
  • স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে কমলার জুস নিয়মিত খাওয়ার ফলে। 
  • ক্ষতস্থান দ্রুত শুকাতে কমলা লেবুর জুসের কার্যকারীতা অনেক। শরীরের কোনো অংশ ক্ষত হলে প্রতিদিন কমলা লেবুর জুস খাবেন, তাড়াতাড়ি ক্ষত শুকিয়ে যাবে। 
  • কমলার জুসে বিদ্যমান পুষ্টি উপাদানগুলো সর্দি-কাশি উপশনে ভুমিকা রাখে। 
  • শরীরে পর্যাপ্ত পানির ঘাটতি থাকলে, সেটা সহজেই পূরন করে দেয় কমলার জুস। 
  • কিডনি সুস্থ থাকে প্রতিদিন কমলার জুস পান করলে। 
  • মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ে নিয়মিত কমলার জুস পান করলে। 
  • হাড় শক্ত, মজবুত ও প্রতিনিয়ত সুস্থ থাকে নিয়মিত কমলার জুস পান করলে। 

কমলা খাওয়ার নিয়ম

প্রত্যেক ফলে পুষ্টি উপাদান রয়েছে সেটা আমরা সবাই জানি। এ কারণে ফল খাওয়ার ফলে আমাদের স্বাস্থ বিভিন্ন উপকার পায়। ফল আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় পুষ্টিবীদরা রাখতে বলেন। সে ফল আপনি কমলা রাখতে পারেন, কমলার মধ্যে অসংখ্যা ভিটামিন, মিনারেল ও খনিজ পদার্থ রয়েছে। কমলার স্বাস্থের জন্য খাওয়া ভালো তাই বলে যখন তখন কমলা খাওয়া ঠিক নয়। সঠিক নিয়ম মেনে কমলা খেলে এর উপকার বেশি পাওয়া যায়। 

কমলা লেবু আপনি প্রতিদিন খেতে পারবেন, তাতে কোনো সমস্যা নেয়। তবে  ভরা পেটে, সকালে খালি পেটে অথবা রাতে কমলা লেবু খাওয়া ঠিক নয়। এ সময়গুলোতে কমলা লেবু খাওয়া স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, কমলা খালি পেটে খাওয়া উচিত নয় আবার খুব ভরা পেটেও খাওয়া যাবে না। খাবার খাওয়ার অন্তত আধা ঘন্টা পরে কমলা খেতে হবে। কমলা খাওয়ার উপযুক্ত সময় হলো সকালের নাস্তা ও দুপুরের খাবারের মাঝামাঝি সময়টাই। এছারাও বিকেলে কমলা খেতে পারেন। 

রাতের বেলা কমলা খাওয়ার ফলে, পেট সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা, গ্রাস্টিক, বুক জালা পোড়া অথবা অ্যাসিডিটি হতে পারে। যার কারনে আপনার শারিরিক সমস্যার পাশাপাশি ঘুমের ব্যঘাত ঘটে। তাই এ সমস্যাগুলো এড়াতে সঠিক সময়ে, সঠিক পরিমাপে কমলা খাওয়ার অভ্যাস করুন। 

কমলার অপকারিতা

পুষ্টিগুনে ভরপুর এমন ফলের তালিকায় কমলার নাম প্রথম সারিতেই রয়েছে। কমলার মধ্যে থাকা পুষ্টি উপাদানগুলো শরীরের মধ্যে বিভিন্ন জীবানুর সাথে লড়াই করে, শরীরকে সুস্থ ও সবল রাখে। কমলার পুষ্টি উপাদানগুলোর দিকে তাকিয়ে অতিরিক্ত কমলা খাওয়া যাবে না। দৈনিক মাঝারি সাইজের ২ থেকে ৩ টা কমলা খাওয়া উচিত।  কমলার কোনো অপকার দিক নেই।  তবে অতিরিক্ত কমলা খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর, প্রয়োজনের বেশি কমলা খেলে শরীরে বিভিন্ন অপকারিতা চোখে পড়ে। অপকারিতা গুলো এক নজরে দেখে নিন-

  • অতিরিক্ত কমলা খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে। যারা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাই ভুগছেন তারা অতিরিক্ত কমলা খাবেন না, পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে কমলা খাওয়ার দিকেও নজর দিতে হবে। সঠিক মাপে কমলা খেলেও গ্যাসের সমস্যা থেকে অনেক সময় বুক জালাপোড়া করে, তাই গ্যাসের সমস্যা হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে কমলা খাবেন। 
  • কিডনী সুস্থ রাখতে কমলার জুড়ি মেলা ভার। তবে যারা কিডনী রোগে আক্রান্ত হয়ে আছেন তারা সাবধানতার সাথে কমলা খাবেন। দৈনিক একটি করে কমলা খাবেন পাশাপাশি ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন। 
  • অতিরিক্ত কমলালেবু খেলে পেটে ফাঁপ ধরতে পারে। কমলালেবুতে ফাইবার থাকে, আর অতিরিক্ত ফাইবার শরীরে এসব সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। 
  • যাদের দাঁতে ক্যাভিটির সমস্যা রয়েছে তারা অতিরিক্ত কমলা খাবেন না। কমলা দাঁতের জন্য উপকারি হলেও অতিরিক্ত কমলা দাঁত ক্ষয়ের সমস্যা আরও জটিল করে দেয়। 
  • অতিরিক্ত কমলা খাওয়ার ফলে মিনারেলের মাত্রা বেড়ে গিয়ে হাইপারক্যালিমিয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। 
  • গর্ভবতী মায়েদের অতিরিক্ত কমলা খাওয়া স্বাস্থের জন্য ব্যপক ক্ষতি হতে পারে। 

কমলালেবু সঠিক পরিমাণে খেলে এর অসংখ্যা উপকার রয়েছে। তাই কমলার সঠিক উপকার পেতে প্রতিদিন মাঝারি সাইজের ২ থেকে অতিরিক্তি ৩ টা কমলা খাওয়াই যথেষ্ট।  শুধু কমলালেবু নয় যেকোনো খাবার চেষ্টা করবেন সঠিক মাপে খাওয়ার। সঠিক নিয়মে, সঠিক খাবার খান এবং সুস্থ থাকুন।

লেখকের শেষ বক্তব্য

কমলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা - কমলা খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে আজকের এই ব্লগে সকল তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আশা করি কমলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা - কমলা খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে আপনি বিস্তারিত জানতে পেরেছেন।

এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। যদি আপনি এই ধরনের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ব্লগ পোস্ট নিয়মিত পড়তে চান তাহলে আপনাকে প্রতিনিয়ত আমাদের এই ওয়েবসাইট ফলো করতে হবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন