কার সাথে বিয়ে হবে - বিয়ে হওয়ার লক্ষন

প্রিয় পাঠক আসসালামু আলাইকুম। আপনি কি জানতে চাচ্ছেন কার সাথে বিয়ে হবে। বিয়ে হবার লক্ষন কি। তাহলে এসব বিষয় জানতে আজকের আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়বেন। কারন আজকে এই আর্টিকেলে কার সাথে কার বিয়ে হবে, বিয়ে হওয়ার উত্তম জীবনসঙ্গী পাওয়ার আমল এসব বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করবো।

কার সাথে বিয়ে হবে বিয়ে হওয়ার লক্ষন

বিয়ে আল্লাহ তায়ালার দেয়া একটি নেয়ামত। ইসলামে বিয়ের গুরত্ব অনেক বেশি। কার সাথে কার বিয়ে হবে এটা তাকদির অর্থাৎ আমাদের ভাগ্যে নির্ধারিত। মহান আল্লাহ তায়ালা নির্ধারন করে রেখেছেন আমাদের বিয়ে কার সাথে হবে। তবে আল্লাহ তায়ালা দোয়া ও আমলের প্রতি খুশি হয়ে, আল্লাহ তায়ালা চাইলে ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে। তাই বিয়ে আগে থেকে নির্ধারিত হলেও আমরা আমল ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহকে খুশি করে ভাগ্য পরিবর্তন হতে পারে। আল্লাহকে কি দোয়া ও আমল করে খুশি করা যায় এ নিয়ে এই আর্টিকেলে আলোচনা করা আছে। জানতে হলে আর্টিকেলটি সম্পূর্ন পড়ুন।

কার সাথে কার বিয়ে হবে জানার উপায়

বিয়ে হচ্ছে দুজন মানুষের অর্থাৎ নারী ও পুরুষের মধ্যে  দাম্পত্য জীবনে সম্পর্ক স্থাপনের একটি মাধ্যম। ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়ে একটি গুরত্বপূর্ন বিষয়। কার সাথে কার বিয়ে হবে এটা একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালায় জানেন। আমরা আগে থেকে সেটা কেউ বুঝতে পারবো না। তিনি যার ভাগ্যে যা লিখেছেন তাই ঘটবে। 

আল্লাহ তায়ালা আসমান ও জমিন সৃষ্টির ৫০ বছর আগে থেকে তাকদির লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। (সহিহ মুসলিম হাদিস: ৬৯১৯) সেখানে তিনি একটা মানুষের সমস্ত কিছু নির্ধারন করে রেখেছেন। জন্ম মৃত্যু আল্লাহ তায়ালা যেমন আমাদের তাকদিরে লিখে রেখেছেন। ঠিক তেমনি বিয়ে আমাদের তাকদিরে নির্ধারিত। তাকদিরে যার সাথে যার বিয়ে হবে তা লিখা আছে। তার মানে এই নয় আমরা দোয়া ও আমল ছেড়ে দিব। আল্লাহ তায়ালা চাইলে দোয়া ও আমলের মাধ্যমে তাকদির পরিবর্তন করতে পারে। 

অনেক কিছুই আল্লাহ তায়ালা আমাদের কর্মের উপর ভিত্তি করে। ভাগ্যকে বদলাতে পারে। কোনো ভুল কাজ করলে আল্লাহ করিয়েছেন বা আল্লাহ তায়ালা ভাগ্যে লিখেছেন এটা ভূল কথা। আল্লাহ তায়ালা আমাদের ভবিষ্যৎ বানী গুলো বলতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে এমনও হয় আমরা খারাপ কাজগুলো করবো আল্লাহ তায়ালা আগে থেকেই জানেন তাই সেটা আল্লাহ তায়ালা আমাদের তাগদিরে লিখেন। 

বিয়ে কার সাথে হবে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। মহান আল্লাহ তায়ালায় একমাত্র জানেন কার সাথে বিয়ে হবে। তবে কিছু আমল ও দোয়া আছে যা করলে তোমরা যাকে পচ্ছন্দ করো তার সাথে বিয়ে হতে পারে। এ নিয়ে পরবর্তীতে আলোচনা করা আছে।

উত্তম জীবনসঙ্গী পাওয়ার আমল

সবাই চাই একটা উত্তম জীবনসঙ্গী হোক। ছেলে চাই উত্তম স্ত্রী এবং মেয়ে চাই উত্তম স্বামী। তবে সেটা নিজ ইচ্ছায় চাইলে হবে না। মহান  আল্লাহ তায়ালা যদি চায় তাহলে পাওয়া যায়। তিনি না চাইলে সেটা পূরন হবে না। সৃষ্টিকুলের শুরু থেকেই নারী ও পুরুষকে একে অপরের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। নারী ও পুরুষ একে অন্যকে ছাড়া কখনই সম্পূর্ন হতে পারে না। জীবনে সঠিক পথে চলতে একজন উত্তম জীবনসঙ্গী প্রয়োজন। ইমানদার মানুষকে নিজের জীবনসঙ্গী বানাতে হবে। যারা আল্লাহকে ভয় করে এবং আল্লাহর ইবাদত করে। বিয়ে ইসলামের দেয়া একটি সামাজিক জীবন বিধান।

মহান আল্লহ তায়ালা বলেছেন- তোমরা তোমাদের মধ্যকার অবিবাহিত নারী-পুরুষ ও সৎকর্মশীল দাস-দাসীদের বিয়ে দাও। তারা অভাবী হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দিবেন। আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দিবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও মহাজ্ঞানী।

রাসূল সা. বলেছেন বিয়ে করা আমার সুন্নাত। আর যে সুন্নত অনুসরন করলোনা সে আমার দলভুক্ত নয়। তোমরা বিয়ে করো কেননা আমি তোমাদের নিয়ে অনান্য উম্মতের ওপর গর্ব করবো। (ইবনে মাজাহ, ১৮৪৬)

তবে বিয়ের জন্য উত্তম জীবন সঙ্গী বেছে নিতে হবে। হাদিসে বলা হয়েছে তোমরা নারীকে বিয়ে করো চারটি জিনিস দেখে তার সম্পদ, বংশমর্যাদা, রুপ ও দীনদার দেখে। শুধু রুপ দেখে বিয়ে করলে হবে না দীনদার দেখে বিয়ে করা উত্তম।  উত্তম জীবনসঙ্গী নিজে খুঁজতে হবে এবং পাশাপাশি আল্লাহর কাছে চাইতে হবে। উত্তম জীবনসঙ্গী পেতে নিচের আমল গুলো করতে পারেন।

উত্তম স্ত্রী ও সন্তান পাওয়ার কুরআনের একটি আমল হলো-

বাংলা উচ্চারন: রব্বানা হাবলানা মিন আযওয়াঝিনা ওয়া জুর্রিয়াতিনা কুর্রাতা আইয়ুনিও ওয়াঝআলনা লিলমুত্তাক্বিনা ইমামা।

অর্থ : হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমাদের এমন স্ত্রী ও সন্তান দান করুন যারা আমাদেরকে মুত্তাকি লোকদের নেতা বানিয়ে দাও। (সুরা ফুরক্বান : আয়াত ৭৪)

হযরত মুসা আলাইহিস সালাম যখন খুব একাকি ও বিষন্নতা অনুভব করতেন তখন তিনি নিচের এ আয়াতটি পাঠ করতেন। আয়াতটি হলো-

বাংলা উচ্চারন : ফাসাক্বা লাহুমা ছুম্মা তাওয়াল্লা ইলাজজিল্লি ফাক্বালা রাব্বি ইন্নি লিমা আংযালতা ইলাইয়্যা মিন খায়রিং ফাক্বির। (উত্তম জীবনসঙ্গী পেতে আয়াতটি পড়বেন)

কুরআনের শ্রেষ্ঠ দোয়া, এ দোয়ার মাধ্যমে কিছু চাইলে আল্লাহ তা পুরন করেন। দোয়াটি হলো- 

বাংলা উচ্চারন: রবান্না আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাতাও ওয়াফিল আখিরতি হাসানাতাও ওয়াক্বিনা আজাবান্নার।

অর্থ: হে পরওয়ারদেগার! আমাদিগকে দুনিয়াতে ও আখিরাতে  কল্যান দান কর এবং আমাদিগকে দোযখের হাত থেকে রক্ষা করো।

উপরের দোয়া গুলো বেশি বেশি পাঠ করবেন। এছারাও ইস্তেগফার পড়বেন। আল্লাহর রহমতে উত্তম জীবন সঙ্গী পেয়ে যাবেন ইন শা আল্লাহ।

আরো পড়ুন: ছেলেদের ত্বকের উজ্জলতা বৃদ্ধির উপায়

তাড়াতাড়ি বিয়ে হবার আমল

তাড়াতাড়ি বিয়ে করা হলো একটি ইবাদত। নারী ও পরুষের সম্পর্ক স্থাপনের বৈধ পন্থা হলো বিবাহ। ইসলামে দ্রুত বিয়ে করার প্রতি গুরত্ব আরোপ করা হয়েছে। অনেক পিতা-মাতায় আছে যারা সন্তান বিয়ের উপযুক্ত হলেও বিয়ে দিতে রাজি হয় না। এটি পিতা-মাতার একটি ভূল কাজ। এর জন্যে গুনাহে জরিয়ে যেতে পারেন। বিয়ের ইচ্ছা থাকলেও যারা বিয়ে করতে পারছেনা। তাদের বেশি বেশি দোয়া ও আমলের মাধ্যমে তাড়াতড়ি বিয়ে হয়ে যেতে পারে। চলুন কিছু আমল সম্পর্কে যেনে নিন যে আমলগুলো আপনার তাড়াতাড়ি বিয়ে হওয়ার জন্য কাজে লাগবে।

  • বেশি বেশি ইস্তেগফার পড়লে আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদের দোয়া কখনও ফেরায় না। তাই বেশি বেশি ইস্তেগফার পড়বেন। আস্তাগফিরুল্লহ পাঠ করবেন। আস্তাগফিরুল্লাহ হাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম ওয়া আতুবু ইলাইহি। এই ইস্তেগফারটি পাঠ করবেন। 
  • সূরা ইয়াসিন পাঠ করবেন। সূরা ইয়াসিন পাঠ করলে বিয়ে সংক্রান্ত সকল সমস্যার সমাধান মহান আল্লাহ তায়ালা সমাধান করবেন। 
  • দ্রুত বিয়ে হওয়ার জন্য পড়বেন- ফাসাক্বা লাহুমা ছুম্মা তাওয়াল্লু ইলাজজিল্লি ফাক্বালা রাব্বি ইন্নি লিমা আংযালতা ইলাইয়্যা মিন খায়রিং ফাক্বির। (সূরা কাসাসের ২৪ নং আয়াত)
  • সূরা মারিয়ম পাঠ করবেন। যেকোনো ওয়াক্তের নামাজ শেষ করার পর সূরা মারিয়ম পাঠ করলে আল্লাহ চাইলে দ্রুত বিয়ে হয়ে যেতে পারে। 
  • তাড়াতাড়ি বিয়ে হওয়ার নিয়ত করে সূরা মুজ্জামিল পাঠ করবেন। জুম্মার নামাযের পর দুই রাকাত নামাজ আদায় করে ২১ বার সূরা মুজ্জামিল পাঠ করবেন। 
  • সূরা আলা- ফুরকান পাঠ করতে হবে। সময়মতো যাদের বিয়ে হচ্ছে না  তারা প্রত্যেক নামাজের শেষ বৈঠকে দুয়া মাসুরা পড়ার পড় সূরা আল ফুরকানের এ আয়াতটি পড়বেন। আয়াতটি হলো- রাব্বানা হাবলানা মিন আজওয়াজিনা ওয়া জুররি-ইয়্যাতিনা কুররাতা আয়ুনিওঁ-ওয়াজআলনা লিল মুত্তাকিনা ইমামা। 
  • বেশি বেশি সালাতুল হাজতের নামাজ পড়ে আল্লাহ তায়ালার কাছে চাইতে হবে। 
  • তাসবিহে ফাতেমি পড়বেন। আলহামদুলিল্লাহ ৩৩ বার, আল্লহু আকবার ৩৩ বার এবং আস্তাফিরুল্লাহ ৩৩ বা ৩৪ বার পড়বেন।
  • নামাজ ও ধৈর্যধারনে মধ্যে দিয়ে বেশি বেশি আমল ও দোয়া করবেন। আল্লাহ তায়ালা তার প্রত্যেক বান্দাকে ভালোবাসেন। চাওয়ার মতো করে চাইলে আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলের দোয়া কবুল করবেন।

বিয়ে হওয়ার লক্ষন

বিয়ে হওয়ার নির্দিষ্ট কোনো লক্ষন নেই। কখন বিয়ে হবে সেটা আল্লাহ রব্বুল আলামিন একমাত্রই জানেন। তবে আপনার পরিবারের মানুষেরা আপনাকে নিয়ে সবসময় আলোচনা করলে , বাড়িতে যদি ঘটক ডাকে এবং তার সামনে আপনাকে নিয়ে আলোচনা করে , পরিবার থেকে আপনাকে যদি কারও সাথে দেখা করতে বলে তাহলে আন্দাজ করতে পারেন আপনার বিয়ে হতে চলেছে বা হতে পারে। হবেই এটা নিশ্চিত নয়। কখন কার বিয়ে কার সাথে হবে সেটা আল্লাহ তায়ালায় জানেন। তবে আমল ও দোয়ার মাধ্যমে আপনার দ্রুত বিয়ে হতে পারে।

আরো পড়ুন: ইসলামে মোটা হওয়ার উপায় - দ্রুত মোটা হওয়ার উপায়

ইসলামে ছেলে ও মেয়ের বিয়ের বয়স

কুরআনুল কারীমে মহান আল্লাহ তায়ালা বিয়ের বয়স নির্ধারিত করে দেয় নি। বিয়ে আল্লাহর দেওয়া একটি সামাজিক বিধান। এটি আমাদের পালন করতে হবে। সৃষ্টির শুরু থেকেই বিয়ের বিধান পালিত হয়ে আসছে। বিয়ে হচ্ছে নারী ও পুরুষের মধ্যে হালাল বন্ধন। প্রত্যেক সামার্থবান ব্যক্তিদের বিয়ে করতে হবে। তবে বিয়ের জন্য এনজন নারী ও পুরুষকে শারিরিক ও মানসিক ভাবে পরিপক্ক হতে হবে। তাদের ইচ্ছাকে সমর্থন করতে হবে। বর কনে এক অপরের প্রতি সন্তুষ্টি থাকতে হবে।

রাসূল সা. বলেছেন- হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহের সামার্থ রাখে, তাদের বিবাহ করা কর্তব্য। কেননা বিবাহ হয় দৃষ্টি নিয়ন্ত্রন কারী, যৌনাঙ্গের পবিত্রতা রক্ষাকারি।

এই হাদিস থেকে আমরা বুঝতে পারি যে সামর্থবান হলে বিয়ে করতে হবে। তাই বলে বিয়ে দেরিতে করা ঠিক নয়। একজন পুরুষ সাবালক হলেই সামর্থবান হয়ে যাওয়ার কথা। এর জন্য তাকে চেষ্টা করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা তাকে ফল ঠিক দেবেন। বিয়ে আমাদের নবিজীর সুন্নত। বিয়ের মাধ্যম চরিত্র ঠিক থাকে, অসংখ্যা ফেতনা থেকে বাঁচে, নানা অসুখ বিসুখ থেকে ও সমস্যা থেকে আল্লাহ তায়ালা মুক্তি দান করে, মানসিক প্রশান্তি আসে। আশা করি বিয়ের বয়স সম্পর্কে ধারনা পেয়ে গেছেন।

পরিশেষে বলতে চাই কার সাথে বিয়ে হবে এটা শুধুমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালায় ঠিক করে রেখেছেন। এসব বিষয় নিয়ে এত চিন্তিত হবার কিছু নেয় । চেষ্টা করে যাবেন, দোয়া ও আমল করবেন ঠিকভাবে, আল্লাহ তায়ালা আপনার জন্য উত্তম জীবনসঙ্গীর ব্যবস্থা করে দিবেন ইন শা আল্লাহ।

লেখকের শেষ বক্তব্য

কার সাথে বিয়ে হবে - বিয়ে হওয়ার লক্ষন সম্পর্কে আজকের এই ব্লগে সকল তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আশা করি কার সাথে বিয়ে হবে - বিয়ে হওয়ার লক্ষন সম্পর্কে আপনি বিস্তারিত জানতে পেরেছেন।

এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। যদি আপনি এই ধরনের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ব্লগ পোস্ট নিয়মিত পড়তে চান তাহলে আপনাকে প্রতিনিয়ত আমাদের এই ওয়েবসাইট ফলো করতে হবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন