হার্টের জন্য ক্ষতিকর খাবার - হার্টের রোগীর খাবার তালিকা

বর্তমানে হার্টের সমস্যা জটিল একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেকোনো বয়সের মানুষ এ সমস্যার শিকার হচ্ছে। হার্ট সুস্থ থাকার জন্য, হার্টে সঠিকভাবে রক্ত সরবরাহ এবং শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রনে রাখা প্রয়োজন। কিন্তু হার্টে রক্ত সরবরাহ সঠিক ভাবে না হলে এবং হার্টে রক্ত না গিয়ে পৌঁছালে তখন হার্টের সমস্যা বা হার্ট অ্যাটাক হয়। এ সমস্যাটি ব্যাপকভাবে বেড়েই চলেছে, তাই এ সমস্যা এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। জানতে হবে কিভাবে এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। আজকের আর্টিকেলে আমরা হার্টের সমস্যা নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ন তথ্য তুলে ধরেছি, যেগুলো হার্টের সমস্যায় উপকারে আসবে।

হার্টের জন্য ক্ষতিকর খাবার

হার্ট সুস্থ রাখতে আমাদের যে বিষয়ের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে, সেটা হলো খাদ্যভাস। কারন এমন কিছু খাবার আছে যেগুলো হার্টের জন্য ক্ষতিকর। হার্ট ভালো রাখতে সে খাবারগুলো আমাদের পরিহার করতে হবে এবং সঠিক খাবার খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে। হার্টের জন্য ক্ষতিকর খাবারগুলো কি এবং হার্টের রোগির খাবার তালিকা জানতে আজকের আর্টিকেলটি সম্পূর্ন পড়বেন।

হার্টের রোগির খাবার তালিকা

হার্ট বা হৃদপিন্ড মানবদেহের খুবই গুরত্বপূর্ন একটি অংশ। আমাদের শরীরের বুকের ঠিক মাঝখানে দুই ফুসফুসের মধ্যে এর অবস্থান। হার্টে সমস্যা আমাদের মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়, তবে সাবধান থাকলে এ সমস্যা থেকে অনেকটাই ভালো থাকা যাবে। হার্টের সমস্যার জন্য বিশেষ করে দায়ী, আমাদের ভুল খাদ্যভাস। খাবারের প্রতি গুরুত্ব না দেওয়ার কারনে হার্টের সমস্যা হয়ে থাকে। তাই হার্টের সমস্যা হয়ে গেলে খাবারের দিকে বিশেষভাবে নজর দেওয়া জরুরি। খাবার তালিকায় সঠিক খাবার দ্বিতীয়বারের মতো হার্টের সমস্যা হওয়া থেকে বাঁচায়। হার্টের সমস্যায় যাদে আবার পড়তে না হয় সেজন্য সাকধানতা অবলম্বন করতে হবে এবং খাবার তালিকায় নজর দিতে হবে। জেনে নিন হার্টের রোগির খাবার তালিকা-

বাদাম: বাদাম খেলে হার্ট ভালো থাকে। বাদামের মধ্যে প্রচুর পরিমানে ম্যাগনেশিয়াম, ফ্যাট এবং ফাইবার রয়েছে। যা মানবদেহে রক্ত চলাচল ঠিক রাখে একং হার্টের স্বাস্থ ভালো রাখে। 

বেরি জাতীয় ফল: বেরি জাতীয় ফলের মধ্যে অ্যান্থোসায়ানিন নামক এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা হার্টের রোগিদের জন্য খাওয়া উপকারী। তাই বেরি জাতীয় ফলের মধ্যে স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, ব্লাকবেরি প্রভৃতি ফল হার্ট ভালো রাখতে খাবেন। 

মাছ: বিশেষ করে ছোট মাছ, সামুদ্রিক মাছ, মাছের তেল হার্টের রোগিদের জন্য উপকারী। হার্টের রোগিদের জন্য উপকারি ফ্যাট এসব মাছের মধ্যে রয়েছে। 

বেগুন: বেগুনের মধ্যে  ভিটামিন এ’, ভিটামিন সি’ পটাশিয়াম এবং ফাইবার রয়েছে। এসব পুষ্টি উপাদান হার্টের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন, তাই হার্টের রোগির খাবার তালিকায় বেগুন রাখবেন। 

পালংশাক: পালংশাক এর মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন সি’এবং ভিটামিন এ’ কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রনে রাখে যা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়। 

ডিম: আমাদের অনেকের একটি ভুল ধারনা আছে যে হার্টের রোগিদের একেবারেই ডিম খাওয়া যাবে না। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে ডিমে থাকা পুষ্টি উপাদান হার্টের রোগিদের জন্য বেশ উপকারী। হার্টের রোগিদের সপ্তাহে ৬ টি ডিম খেতে পারবেন, হার্ট ভালো থাকবে। 

ব্রকোলি: হার্টের স্বাস্থ ভালো রাখতে ব্রকোলি স্বাস্থকর একটি খাবার। ব্রকোলিতে থাকা ফাইবার স্বাস্থকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায় এবং ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। যার ফলে হার্টকে সুস্থ রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। 

লেবু পানি: লেবুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে। লেবু রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে খুবই উপকারী, তাই হার্টের রোগিরা নিয়মিত লেবু পানি খাবেন। 

লাউ: লাউ এর মধ্যে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি  থাকায়, লাউ খেলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে। তাই হার্টে রোগিরা লাউ খাবেন।

গ্রিন টি: বিশেষজ্ঞদের মতে গ্রিন টি খেলে রক্ত সঞ্চালন ঠিকভাবে হয় এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রনে থাকে। তাই হার্ট এর বিভিন্ন  সমস্যা কমাতে খাবার তালিকায় হার্টের রোগিরা গ্রিন টি রাখবেন। 

এসব খাবার ছাড়াও  হার্টের রোগিরা সবুজ শাকসবজি, ফলের জুস, টকদই, চামড়া ছাড়া মুরগি,শিম ও মটরজাতীয় খাবার, আমলকি, ডুমুর, ডাবের পানি, বেদানা, তরমুজ, তৈলাক্ত মাছ, কাঁচা রসুন, টমোটো,  ইত্যাদি খাবার খাদ্যতালিকায় রাখবেন।  তবে হার্টের পাশাপাশি যদি আপনার শরীরে অন্য কোনো সমস্যা থাকে তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাদ্য তালিকা নির্ধারন করবেন।

আরো পড়ুন: দাঁতের ক্ষয় রোধের উপায় - দাঁতের ক্ষয় পূরন

হার্টের জন্য ক্ষতিকর খাবার

স্বাভাবিক ও সুন্দর জীবনযাপনের জন্য হার্ট সুস্থ রাখা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ন। আমাদের সতর্কতা এবং সাবধানতার অভাবেই মূলত হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ছে। বিভিন্ন কারনে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরলের মতো সমস্যা শরীরে থেকে থাকলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি বাড়ে। এছারাও অস্বাস্থকর খাবার, অতিরিক্ত তেল মসলাযুক্ত খাবার, বাইরের খাবার হার্ট অ্যাটাকের জন্য দায়ী। চিকিৎসকের মতে হার্ট অ্যাটাক সমস্যা হওয়ার আগেই হার্টের জন্য নিতে হবে সঠিক যতœ। আর যতœ নিতে প্রথমেই খাবারের দিকে নজর দিতে হবে। খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করলে হার্ট সুস্থ রাখা সম্ভব।  হার্ট ভালো রাখতে হলে খেতে হবে যেসব খাবার হার্টের স্বাস্থের জন্য উপকারি এবং হার্ট জন্য ক্ষতি করে এমন খাবার খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। এমন কিছু খাবার আছে যেগুলো হার্টের স্বাস্থের জন্য ঝুঁকিপূর্ন। জেনে নিন হার্টের জন্য ক্ষতিকর খাবারগুলো কি-

চিংড়ি: চিংড়িতে প্রচুর পরিমানে কোলেস্টের রয়েছে, যা নিয়মিত খাওয়ার ফলে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা অস্বাভাবিক হয়ে যায় পাশাপাশি রক্ত চলাচল সঠিকভাবে হয় না। যার কারনে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা থাকে।

ফাস্টফুড: বিশেষজ্ঞদের মতে যারা নিয়মিত ফাস্টফুড খায়, হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি তাদের ক্ষেত্রে বেশি পরিমাণে বেড়ে যায়। ফাস্টফুড খাওয়ার ফলে অল্প বয়সেই হার্টের সমস্যা নিয়ে ভুগতে হয়। ফাস্টফুডে উচ্চ কোলেস্টেরল, স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং প্রক্রিয়াজাতকরন মাংস থাকে। যা খেলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে, তাই হার্ট সুস্থ রাখতে ফাস্টফুড এড়িয়ে চলুন। 

ঘি-মাখন: ঘি-মাখন হলো উচ্চ মাত্রায় স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত খাবার। পুষ্টিবীজ্ঞানিরা এ খাবার হার্ট ভালো রাখতে এড়িয়ে চলতে বলেছেন। এসব খাবারের পরিবর্তে অলিভ অয়েল, সান ফ্লাওয়ার অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। তবে এ খাবার পুষ্টিকর হওয়ায় অল্প পরিমাণে খেতে পারেন।

বেশি ভাজা খাবার: অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবারে ক্ষতিকারক ফ্যাট থাকে, ক্ষতিকারক ফ্যাট হার্টকে দুর্বল করে দেয়। তাই হার্ট সুস্থ রাখতে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। 

কোমল পানীয়: হার্টের জন্য ক্ষতিকর খাবারের তালিকায় কোমল পানীয় রয়েছে।  কোমল পানীয় খাওয়ার অভ্যাস অনেকের আছে। তবে নিয়মিত কোমল পানীয় খেলে কোলেস্টেরলের মাত্রা অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যায় এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই হাট সুস্থ রাখতে এ খাবার খাওয়া বন্ধ করুন। 

অতিরিক্ত লবন: হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে অতিরিক্ত লবন পরিহার করতে হবে। অতিরিক্ত লবন খেলে রক্তনালীগুলো সংকুচিত হতে থাকে এবং হার্টের ঝুঁকি বাড়ায়। 

আইসক্রিম: হার্টের জন্য ক্ষতিকর খাবারের মধ্যে আইসিক্রিম রয়েছে। আইসক্রিমের মধ্যে অতিরিক্ত ফ্যাটযুক্ত দুধ এবং উচ্চ কোলেস্টেরল রয়েছে, যা খাওয়া হার্টের জন্য ভালো নয়। তবে আইসক্রিম খাওয়ার ইচ্ছা হলে বাড়িতে ফল থেকে আইসক্রিম বানিয়ে খেতে পারেন। 

পাস্তা বা চিজ: পাস্তার মধ্যে অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট পাওয়া যায়, যা খাওয়া হার্টের জন্য ভালো নয়। 

লালা মাংস: লাল মাংসতে প্রচুর পরিমানে কোলেস্টেরল থাকে, যা হার্টে ঝুঁকি বাড়ায়। তবে পর্যাপ্ত পরিমানে লাল মাংস খাওয়া যেতে পারে। 

অ্যালকোহল: অ্যালকোহল জাতীয় খাবার হার্টের জন্য খুবই ক্ষতিকারক। অ্যালকোহল খেলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা ব্যপকভাবে বেড়ে যায় এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়।  

মাছের মাথা এবং ডিম: এ দুটি খাবার পুষ্টিকর হলেও যাদের হৃদ রোগের আশঙ্কা আছে, তারা এ দুটি খাবার পরিমিত খাবেন। এ খাবার নিয়মিত খেলে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে হার্টের ক্ষতি করে। 

নারিকেল: এ খাবার পুষ্টিকর হলেও হার্টের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তবে দৈনিক ৫০ গ্রাম নারিকেল শরীরের জন্য উপকারী। 

এসব খাবার হার্টের জন্য ক্ষতিকারক তাই হার্ট সুস্থ রাখতে এসব খাবার এড়িয়ে চলবেন। এছারাও হার্ট ভালো রাখতে অতিরিক্ত টেনশন করা যাবে না পাশাপাশি অলসভাবে জীবনযাপন করা যাবে না। অতিরিক্ত টেনশন করলে এবং কায়িক পরিশ্রম না করলে হার্টের ওপর ক্ষতিকারক প্রভাব পড়ে, যা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই হার্ট সুস্থ রাখতে উপরের বলা নিয়মগুলো মেনে চলুন।

হার্টের রোগীর খাবার তালিকা

হার্টের ব্লক দূর করার খাবার

মানবদেহের মধ্যে অনেকগুলো রক্তনালি রয়েছে। আর এ রক্তনালিগুলোর  মধ্যে অনেক সময় অতিরিক্ত কোলেস্টেরল জমা হয়। অতিরিক্ত কোলেস্টেরল জমা হওয়ার ফলে রক্ত চলাচলে বাধার সৃষ্টি হয়, আর রক্ত চলাচলের বাধার সৃষ্টি হলে হার্ট ব্লক হয়ে যায়। শারিরিক কার্যকলাপের অভাব এবং অস্বাস্থকর খাবারসহ বিভিন্ন কারনে হার্ট ব্লক হতে পারে। আমাদের প্রতিদিনের খাবারে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি পরিমাণে থাকলে, সে খাবারে থাকা অতিরিক্ত কোলেস্টেরলগুলো আমাদের শরীরের জমা হয়ে একসময় হার্ট ব্লক হয়ে যায়। হার্ট ব্লক থেকে অনেকসময়  হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। তাই হার্ট ব্লক দূর করতে নিয়মিত চিকিৎসাসহ খাদ্যভাসের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। হার্ট ব্লক দূর করতে এমন কিছু খাবারের নাম জেনে নিন-

টাটকা সবজি: হার্ট ব্লক দূর করতে টাটকা সবজি খুবই উপকারি। এর মধ্যে থাকা পুষ্টিকর উপদান রক্তচাপ কমায় এবং হার্ট ব্লক থেকে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ঝুঁকি কমায়। 

কাঁচা রসুন: কাঁচা রসুন হার্টের জন্য খুবই উপকারি একটি খাবার। কাঁচা রসুন খেলে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়, রক্ত চলাচল ঠিক রাখে এবং হার্টের বিভিন্ন সমস্যায় কার্যকারী ভূমিকা রাখে। তাই হার্ট ব্লক হলে এ খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখবেন। 

ননিমুক্ত দুধ: দুধের মধ্যে অসংখ্যা পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা আমাদের স্বাস্থের জন্য উপকারী। কিন্তু দুগ্ধজাতীয় খাবারের মধ্যে অধিক স্যাচুরেটেড ফ্যাট বিদ্যমান থাকে, যা হার্ট ব্লক রোগির জন্য ক্ষতিকর। তবে হার্ট ব্লক হলে ননিমুক্ত দুধ খাবেন, হার্টকে ভালো রাখবে। 

বাদাম: হার্ট ব্লক হলে সুস্থ থাকতে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত বাদাম খাবেন। বাদামের মধ্যে ক্ষতিকর কোনো ফ্যাট থাকে না এবং এটি খেলে রক্ত চলাচল ঠিক থাকে। 

দুধ ও আমলকি: হার্টের ব্লক দূর করতে, আমলকী ভেঙে এক গ্লাস দুধের সাথে খেতে পারেন। হার্ট ব্লকসহ হার্টের বিভিন্ন সমস্যা দূর হবে। 

অ্যাভোকাডো: অ্যাভোকেডো খেলে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রনে থাকে। তাই হার্ট ব্লক হলে অ্যাভোকাডো খাবার তালিকায় রাখবেন। 

ক্যাপসিকাম: ক্যাপসিকামের মধ্যে প্রচুর পরিমানে ফাইবার, ভিটামিন সি এবং ভিটামিন এ রয়েছে। যা হার্টের স্বাস্থের জন্য গুরুত্বপূর্ন, তাই হার্ট ব্লক হলে ক্যাপসিকাম খাবেন। 

শিম ও মটরশুঁটি জাতীয় খাবার: শিম ও মটরশুঁটি জাতীয় খাবারগুলোর মধ্যে ফাইবা বা আঁশ রয়েছে, যা খাওয়াল ফলে হার্টের সমস্যার সমাধান হয়। তাই হার্ট ব্লক হলে এ জাতীয় খাবার খাদ্যতালিকায় রাখবেন। 

হার্ট ব্লক হলে বাঁচার উপায় নেই  এমন চিন্তা করবেন না, উপরের বলা খাবার ছাড়াও হার্টের জন্য উপকারি এমন খাবারগুলো খাবেন এবং হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের অবশ্যই পরামর্শ নিবেন। এছারাও হার্টে ব্লক হলে  হার্টের জন্য ক্ষতিকর এমন খাদ্যভাস থেকে দূরে থাকুন এবং যে বিষয়গুলোতে হার্ট আঘাত পায় সে বিষয়গুলো এড়িয়ে চলবেন। 

আরো পড়ুন: রাতে ঘুমানোর সঠিক সময় কখন - কত ঘন্টা ঘুমানো উচিত

হার্টের জন্য উপকারি ফল

প্রতিদিনের খাবার তালিকায় আমরা অনেক কিছুই  খায়। তবে আমাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ন অংশ হার্ট ভালো রাখতে খাবার তালিকায় নজর দেয় কি? এ অভ্যাসের জন্য হার্টের রোগির সংখ্যা বাংলাদেশে বেড়ইে চলেছে। তাই হার্ট ভালো রাখতে প্রতিদিনের খাবার তালিকায় নজর দেওয়া অত্যবশকীয়। হার্ট ভালো থাকবে এমন কিছু খাবার সম্পর্কে উপরে আলোচনা করেছি, তবে হার্ট ভালো রাখতে উপরের খাবারের পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় বেশ কয়েকটি ফল রাখা জরুরি। হার্ট ভালো রাখতে নি¤েœর এই ফলগুলো অবশ্যই খেতে হবে।

আপেল: হার্টের রোগিরা নিয়মিত আপেল খান, হার্টের জন্য উপকারি ফল হলো আপেল। আপেলের মধ্যে বিভিন্ন ভিটামিন এবং ফাইবার রয়েছে। আপেল খেলে কোলেস্টেরল এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে থাকে। ফলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায় এবং হার্টকে সুস্থ রাখে। 

পেয়ারা: হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে পেয়ারা গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে থাকে। পেয়ারার মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি’, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম রয়েছে যার কারনে এটি খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। 

জাম: জামের মধ্যে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, পটাশিয়াম এবং ফাইবার রয়েছে। যা খাওয়ার ফলে আমাদের শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রনে রাখে। তাই হার্ট ভালো রাখতে যেকোনো ধরনের জাম খাবেন। 

ব্লুবেরি: হার্ট এর জন্য খুবই উপকারি একটি ফল ব্লুবেরি। এ ফলের মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পুষ্টি উপাদান হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। 

কলা: কলার মধ্যে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রনে রাখে এবং দ্বিতীয় হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়। তাই হার্টের রোগিরা পর্যাপ্ত পরিমানে দৈনিক একটা করে কলা খাবার তালিকায় রাখবেন।

আঙ্গুর: আঙ্গুর ফলের মধ্যে হার্টের স্বাস্থের জন্য গুরুত্বপূর্ন উপাদান ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা খাওয়ার ফলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে উপকারি। 

কমলা: হার্টের রোগিদের অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ন ফল হলো কমলা। কমলার মধ্যে হার্ট সুস্থ রাখতে প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো বিদ্যমান রয়েছে। এ ফলের মধ্যে ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ডসহ  আরও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যা খাওয়ার ফলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে।

জাম্বুরা: জাম্বুরা ফাইবার এবং পটাশিয়ামযুক্ত খাবার, যা খেলে রক্তের সঞ্চালন ঠিক থাকে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়। তাই হার্টের রোগিরা সুস্থ থাকলে খাদ্য তালিকায় জাম্বুরা রাখবেন। 

নাশপাতি: নাশপাতির মধ্যে প্রচুর পরিমানে ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা হার্টের জন্য উপকারি। তাই হার্ট ভালো রাখতে নাশপাতি  খাবেন। 

পেঁপে: হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে পেঁপে খুবই উপকারি একটি ফল। পেঁপের মধ্যে থাকা ভিটামিন সি’ মানবদেহে প্রবেশ করে হার্টের স্বাস্থকে ভালো রাখে। 

আপনার শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা এবং রক্ত চলাচল নিয়ন্ত্রনে রাখতে উপরের বলা ফলগুলো নিয়মিত খাবার তালিকায় রাখবেন।  এসব ফল আপনার হার্ট এর যেকোনো সমস্যার থেকে রক্ষা করবে এবং হার্টের স্বাস্থ ভালো থাকবে।

হার্ট ভালো আছে বুঝার উপায়

শরীরে রক্ত চলাচল বন্ধ হলে বা তুলনামূলক ভাবে কমে গেলে হার্টের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। এটা আমরা অনেকটাই বুঝে গেছি। বিভিন্ন কারনে শরীরে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তামাকজাতীয় দ্রব্য বা ধুমপান করলে, উচ্চ রক্তচাপ, শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত কোলেস্টেরল, ক্ষতিকর খাবার, স্বাভাবিকের থেকে ওজন বেশি এবং ডায়াবেটিস থাকলে এসব বিভিন্ন কারনে শরীরের রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়ে হার্টেও সমস্যা হতে পারে। অনেক সময় দেখা যায় হার্ট এ সমস্যা হচ্ছে আমরা বুঝতে পারছি না অথবা শরীরে হার্টে সমস্যা না হলেও আমরা আন্দাজ করে বলে ফেলি হার্টের সমস্যা হয়েছে। বুঝে উঠতে পারি না আমাদের হার্ট ভালো আছে কি না, এরকম দ্বিধায় আমরা প্রায় পড়ে যায়। আপনার হার্ট ভালো আছে কিনা জানতে হলে দুইভাবে আপনি দেখতে পারেন। একটি হলো বাসায় বসে আপনি নিজে পরীক্ষা করতে পারেন অপরটি চিকিৎসকের কাছে গিয়ে পরীক্ষা করতে পারেন। বাড়িতে থেকে আপনি নিজেই পরীক্ষা করতে চাইলে, প্রথমেই আপনাকে হার্টের সমস্যায় আক্রান্ত হলে কি কি লক্ষন প্রকাশ পায় সেগুলো বিষয়ে জানতে হবে।

হার্ট দুর্বল হয়ে গেলে যে লক্ষনগুলো শরীরে প্রকাশ পায়। সেগুলো হলো- বুক ধরফর করা, বুক থেকে পেটে তীব্র ব্যাথা, বুক চেপে ধরা অনুভব করা, অতিরিক্ত ঘাম, বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়া, হাত ও ঘাড়ে ব্যাথা, শ্বাসকষ্ট,  অজ্ঞান হয়ে যাওয়া। এসব লক্ষন হার্ট ভালো না থাকলে শরীরে প্রকাশ পায়। 

আর একটু গভীরভাবে চিন্তা করবেন, আপনি কোনো ভারি ব্যায়াম করছেন, সিড়ি বেয়ে পাঁচ তলা পায়ে হেঁটে যাবেন কিংবা অধিক সময় ধরে জগিং করলেন এরপর আপনার বুকে ব্যথা অনুভব হচ্ছে কিংবা বুকে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে তাহলে বুঝবেন আপনার হার্ট ভালো নেয়। আবার জগিং করতে যাচ্ছেন অল্প কিছুক্ষন করেই আপনার শ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছে এবং হাঁপিয়ে যাচ্ছেন। ভারি কোনো কাজ করছেন বুকে ব্যাথা হচ্ছে, সেই ব্যাথা ক্রমাগত বাড়ছে এবং ব্যাথা আস্তে আস্তে হাতে,ঘাড়ে অথবা পিঠের দিকে যাচ্ছে। এসব হলে বুঝবেন আপনার হার্টে কোনো সমস্যা হয়েছে। এভাবে আপনি নিজেই বাড়িতে পরীক্ষা করতে পারবেন।

হার্ট আমাদের দেহের একটি গুরুত্বপূর্ন অংশ, এটি অকেজো হয়ে গেলে আমাদের দৈনন্দিন জীবন খুবই কঠিন হয়ে যাবে। হার্টের সমস্যা থেকে আমাদের হার্ট অ্যাটাক হয়ে যেতে পারে। তাই বড় ধরনের হার্র্ট অ্যাটাক থেকে বাঁচতে আমাদের আগে থেকে বুঝতে হবে হার্ট ভালো আছে কি না।

পরিশেষে বলতে চায় হার্ট ভালো রাখতে স্বাস্থকর খাবার খাবেন, ধুমপান পরিহার করবেন, নিয়মিত ব্যায়াম করবেন, এবং আপনার দেহে যাতে প্রয়োজনের থেকে বেশি কোলেস্টেরল না প্রবেশ করে সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন। এসব ছাড়াও হার্টের সমস্যার সামান্য লক্ষন বুঝতে পারলেই হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিবেন। তাহলে হার্টের বড় ধরনের কোনো সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।

লেখকের শেষ বক্তব্য

হার্টের জন্য ক্ষতিকর খাবার - হার্টের রোগীর খাবার তালিকা সম্পর্কে আজকের এই ব্লগে সকল তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আশা করি হার্টের জন্য ক্ষতিকর খাবার - হার্টের রোগীর খাবার তালিকা সম্পর্কে আপনি বিস্তারিত জানতে পেরেছেন।

এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। যদি আপনি এই ধরনের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ব্লগ পোস্ট নিয়মিত পড়তে চান তাহলে আপনাকে প্রতিনিয়ত আমাদের এই ওয়েবসাইট ফলো করতে হবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন