গর্ভাবস্থায় কলা খাওয়ার উপকারিতা - কলা খেলে কি হয়

গর্ভাবস্থায় একজন মহিলার কলা খাওয়ার উপকারিতা অনেক বেশি । গর্ভাবস্থায় কলা খাওয়া মা ও সন্তান দুজনের জন্যই উপকারি। কলাতে প্রচুর পরিমানে আয়রন, ডাইটরি ফাইবার, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, কার্বোহাইড্রেটসহ বিভিন্ন উপাদান রয়েছে। যা গর্ভবতি মা ও শিশুর জন্য খুবই উপকারি। গর্ভাবস্থায় কলা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে প্রত্যেক মায়ের জানা দরকার।

গর্ভাবস্থায় কলা খাওয়ার উপকারিতা

প্রিয় পাঠক, গর্ভাবস্থায় কলা খেলে কি কি উপকার হয়, কলা খেলে কী হয়, বেশি কলা খেলে কোনো ক্ষতি হয় কী? আজকের আর্টিকেলটি এসব বিষয় নিয়ে। আশা করি পুরো আর্টিকেলটি পড়লে  কলা খেলে কি হয় এবং কলা খাওয়ার উপকার সম্পর্কে জানতে পারবেন। 

গর্ভাবস্থায় খাবারের তালিকা

গর্ভাবস্থায় গর্ভবতী মায়েদের শুরু থেকেই বিশেষ যত্ন নিতে হয়। গর্ভাবস্থায় কি খাওয়া যাবে কতটুকু খাবো এ নিয়ে প্রায় সব মায়েরা চিন্তিত থাকে। গর্ভবতী মায়েদের শারিরিক ব্যায়াম, পর্যাপ্ত বিশ্রামের পাশাপাশি খাবারের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। কারন সঠিক ও পুষ্টিকর খাবার খেলে গর্ভের বাচ্চার ওপর প্রভাব পড়ে। গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের শারিরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য পুষ্টিকর খাবারের প্রয়োজন। 

গর্ভবতী মায়েদের খাদ্যতালিকায় ফলিক এসিড, ভিটামিন, আয়রন, ক্যালসিয়াম, এবং প্রোটিনযুক্ত খাবার রাখা বিশেষ ভাবে জরুরি। এ সময় গর্ভবতী মায়েদের বাড়তি খাবারের প্রয়োজন হয়। গর্ভের শিশুর গঠন, বিকাশ এবং সুস্থতার জন্য খাবারের তালিকা মেনে চলা খুবই গুরত্বপূর্ন। চলুন জেনে নিই গর্ভাবস্থায় মায়েদের খাবার তালিকা কেমন হবে।

আরো পড়ুন: মেয়েদের চুল লম্বা করার উপায় - মেয়েদের চুল ঘন করার তেল

প্রথম তিন মাসে গর্ভবতী মায়েদের খাবার তালিকা নিম্বরূপ:

প্রথম তিন মাসে গর্ভবতি মায়েদের বমি বমি ভাব বেশি হয়। এ সময় জোর করে বেশি খাওয়ার প্রয়োজন নেয়। অল্প অল্প করে বারবার খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। গর্ভের প্রথম তিন মাসে গর্ভবতী মায়েদের ফলিক এসিড ও ভিটামিন বেশি প্রয়োজন। প্রথম তিন মাসে খাদ্যতালিকায় যা খাবার রাখবেন তা হলো-

  • ফলিক এসিড সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। পুঁইশাক, ঢেঁরসে প্রচুর ফলিক এসিড থাকে। 
  • দুগ্ধজাতীয় খাবার- প্রথম তিন মাসে গর্ভবতী মায়েদের সুস্থতার জন্য দুগ্ধজাতীয় খাবার খাওয়া জরুরি। দুগ্ধজাতীয় খাবারের মধ্যে রয়েছে দুধ, দই, পনির ইত্যাদি। 
  • ডিমে প্রচুর পরিমানে প্রোটিন রয়েছে। গর্ভবতী মায়েরা প্রথম তিন মাসে নিয়মিত ডিম খাবেন। 
  • সবুজ শাকসবজি: গর্ভাবস্থায় প্রচুর পরিমানে সবুজ শাকসবজি খাওয়া প্রয়োজন। এতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন, খনিজ পদার্থ ও ফাইবার থাকে যা গর্ভবতী মায়েদের হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে। 
  • ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার লেবু, টমেটো, মিষ্টি আলু ইত্যাদি গর্ভবতী মায়েদের খাওয়া জরুরি। 
  • নিয়মিত পানি খাবেন ৮ থেকে ১০ গ্লাস। 

৪ থেকে ৬ মাসে গর্ভবতী মায়েদের খাবার তালিক নিম্বরূপ:

এ সময় গর্ভবতী মায়েদের খাবার তালিাকায় আরও বেশি পুষ্টি জাতীয় খাবার যোগ করতে হবে। এ সময় মায়েদের প্রোটিন, ক্যালসিয়াম এবং আয়রনের চাহিদা বেড়ে যায়। ৪ থেকে ৬ মাসে যা খাবেন-

  • গর্ভাবস্থায় নিয়মিত ডিম খাওয়া অত্যান্ত গুরত্বপূর্ন। ডিমে প্রচুর পরিমানে প্রোটিন থাকে। ডিম হলো প্রোটিনের প্রধান উৎস। তাই গর্ভবতী মায়েরা নিয়মিত প্রতিদিন ডিম খাবেন। 
  • ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার- কলা, দুধ, দই, পনির, বাদামের দুধ ইত্যাদি গর্ভবতী মায়েদের জন্য ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস। যা বাচ্চার বৃদ্ধি ও বিকাশ ঘটায়। 
  • গর্ভের ৪ থেকে ৬ মাসে প্রচুর পরিমানে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হয়। যেমন-পালংশাক, ব্রকোলি, লাল মাংস বিশেষ করে গরুর মাংস, ডাল, মটর ইত্যাদি। এসব আয়রন সমৃদ্ধ খাবার শিশুর সুস্থতায় গুরত্বপূর্ন। 
  • ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার আমন্ড বাদাম, পেস্তা বাদাম, ব্রকোলি, ডুমুর, স্ট্রবেরি, আপেল, কলা ইত্যাদি গর্ভবতী মায়েরা নিয়মিত খাবেন। 
  • জিংক সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে মাশরুম, পালংশাক, কুমড়ো, লাউ খাদ্যতালিকায় রাখবেন। এসব খাবার খাওয়ার ফলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং স্নায়ুতন্ত্র  গড়ে উঠে।

৬ থেকে ৯ মাসে গর্ভবতী মায়েদের খাবার তালিকা নিম্বরূপ:

গর্ভাবস্থায় গর্ভবতী মায়েদের এটি শেষ পর্যায়। এ সময় পুষ্টিকর খাবারের প্রতি বিশেষ জোর দিতে হবে। এ সময় যা যা খাবেন-

  • সামুদ্রিক মাছ, স্যালমন,ম্যাকেরেল, আখরোটে প্রচুর পরিমানে ওমেগো ফ্যাটি এসিড থাকে  যা গর্ভবস্থায় গর্ভের শিশুর মস্তিষ্ক ও চোখের বিকাশ ঘটায়। 
  • গর্ভবতী মায়েদের আয়রনের অভাব থাকলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। মাছ, গরুর কলিজা, কুমড়ার বীচ, শুকনো ফল খেজুর নারিকেলে  আয়রন থাকে তাই রক্তের ঘাটতি পূরন করতে এসব  খাবেন। তবে চর্বিযুক্ত মাছ নয়। 
  • গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায়ে প্রচুর পরিমানে শাকসবিজি খাবেন। শাকসবজিতে ফাইবার ও অনান্য খনিজ পদার্থ থাকে। 
  • ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার বাদাম, গরুর দুধ, কমলার রস, দই, ব্রকোলি ইত্যাদি খাবেন। 
  • ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল  কমলা, মাল্টা, লেবু, পেয়ারা গর্ভবতী মায়েদের খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে। 

পর্যাপ্ত পরিমানে পানি পান করবেন। পানি দুধের উৎপাদন বাড়ায়। গর্ভবতী মায়ের পুষ্টিকর খাদ্য কেবল মাকে সুস্থ রাখেনা, তার সাথে গর্ভের সন্তানের বৃদ্ধি ও বিকাশ ঘটে এবং সুস্থ থাকে। 

গর্ভাবস্থায় পাকা কলা খাওয়ার উপকারিতা

গর্ভাবস্থায় পুষ্টিকর খাবার নির্বাচনে সচেতনতা অবলম্বন করা জরুরি। কারন গর্ভবতী মায়েদের খাবারের সাথে গর্ভের শিশুর ভালো থাকার বিষয়টি নির্ভর করে। গর্ভাবস্থায় যে সকল খাবার বিশেষজ্ঞরা খেতে বলেন তার মধ্যে কলা অন্যতম। গর্ভাবস্থায় কলা খাওয়া মা ও সন্তান দুজনের জন্য উপকারি। গর্ভাবস্থায় অনেক মায়েরা কলা খাওয়া নিয়ে চিন্তিত থাকে। চিন্তার কোনো কারন নেই চলুন দেখে নিই কলা খেলে  কি কি উপকার হয়। 

  • কলাতে প্রচুর পরিমানে পটাশিয়াম থাকে। আর পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রন করে। গর্ভবতী মায়েরা নিয়মিত কলা খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে থাকবে। 
  • ভালোভাবে প্রসব হওয়ার জন্য কলা খাওয়া জরুরি। 
  • সুস্বাস্থের জন্য পাকা কলা খাওয়া উপকারি। কলাতে থাকা আয়রন এবং ফলিক এসিড শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ ঘটায়। 
  • গর্ভবতী মায়েদের শরীরে আয়রনের মাত্রা কম থাকলে শরীরে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। আয়রনের অভাবে গর্ভবতী মায়েদের শক্তির মাত্রা কমে যায়। কলা খেলে এসব সমস্যার সমাধান পাওয়া যায়। 
  • গর্ভবস্থায় কলা খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। কোষ্ঠকাঠিন্য গর্ভবতী মায়েদের প্রায় সময় হয়ে থাকে। কলাতে থাকা ফাইবার গর্ভবতী মায়ের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। 
  • বমি বমি ভাব কমাতেও পাকা কলা সহায়তা করে। কলাতে থাকা ভিটামিন-৬ বমি বমি ভাব নিরাময় করে। 
  • গর্ভবতী মায়েদের মনিং সিকনেস পাকা কলা খাওয়ার মাধ্যমে দূর হয়। 

তবে গর্ভাবস্থায় সতর্ক থেকে খাবার নির্বাচন করা ভালো। গর্ভকালীন সময়ে আপনাদের কারও যদি ডায়াবেটিসের সমস্যা থাকে তাহলে পাকা কলা খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন।

আরো পড়ুন: স্থায়ীভাবে শ্যামলা ত্বক ফরসা করার উপায়

একদিনে কয়টা কলা খাওয়া উচিত

কলা খাওয়ার ফলে আপনার শরীর আরও বেশি পরিমানে পুষ্টিগুন পেয়ে থাকে। কলাতে থাকা ফাইবার এবং প্রোবায়োটিক অলিগোস্যাকারাইজড মাত্রা বেশি রয়েছে যা আপনার হজম প্রক্রিয়ার সহায়ক। পাকা কলা নিয়মিত খেলে অসংখ্যা রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। পুষ্টিবিদরা বলে থাকেন ১ টি মাঝারি মাপের কলায় ২৭ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ৩ গ্রাম আঁশ, ১৪ গ্রাম চিনি, এবং ক্যালোরি ১০৫ থাকে। কলাতে থাকা পুষ্টিগুন আমাদের শরীরে অনেক উপকারে আসে। নিয়মিত কলা খেলে হার্টের স্বাস্থ থাখে ভালো থাকে। মস্তিষ্কের কার্যক্রম বাড়ায়। গর্ভবতী মায়েদের ক্লান্তিভাব দূর করে। রক্ত সঞ্চালন ঠিক থাকে। 

কলা খাওয়া যেমন স্বাস্থের জন্য ভালো  ঠিক তেমনি সঠিক সময়ে সঠিকভাবে কলা না খেলে শরীরে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। প্রতিদিন সর্বচ্চো দুইটা কলা খাওয়া স্বাস্থের জন্য ভালো। তবে কলা যদি খুব বড় হয় তাহলে ১ টি, মাঝারি কলা হলে ২ টি এবং খুব ছোট হলে দৈনিক ৩ টি খাবেন। সকালে ব্যায়াম করার আগে, বিকেলে কিংবা সন্ধায় কলা খাওয়া বেশি উপকার। 

সব খাবার অতিরিক্ত খাওয়া শরীরের পক্ষে ভালো নয়। নির্দিষ্ট পরিমানে খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত কলা খাওয়ার ফলেও আমাদের শরীরে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন কলাতে থাকা অতিরিক্ত পটাশিয়াম আমাদের শরীরের জন্য ভালো নয়। এটি আমাদের কিডনির ক্ষতি করে। যাদের কিডনির সমস্যা আছে তারা কলা না খাওয়ায় ভালো। সুস্থ থাকতে দিনে দুইটা করে কলা খাবেন। 

রাতে কলা খাওয়ার উপকারিতা

কলা ফলের মধ্যে একটি জনপ্রিয় ফল। এর দামও অনান্য ফলের তুলনায় কম। কলা কম বেশি আমরা সবাই পছন্দ করি। পুষ্টিগুনে ভরপুর এই ফল আমাদের দেশে বারো মাস পাওয়া যায়। পাকা কলা আমাদের দেহের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে থাকে। কলা খাওয়ার উপকার সম্পর্কে আগেই আলোচনা করেছি। সবাই ধারনা পেয়ে গেছি কলা খেলে কি উপকার হয়। তবে রাতে কলা খেলে কি হয়। রাতে কলা খাওয়া যাবে কি। রাতে পাকা কলা খেলে কি উপকার হয়। আমাদের অনেকের জানা নেই। চলুন জেনে নিই রাতে কলা খাওয়ার উপকারগুলো কি। 

  • পাকা কলা খেলে ঘুম ভালো হয়। যাদের ঘুমের সমস্যা আছে রাতে ঘুম ভালোভাবে হয় না। তারা রাতে ঘুমানোর আগে একটি কলা খাবেন। তাহলে তাড়াতাড়ি আপনার ঘুম আসবে। 
  • রাতে পাকা কলা খেলে পেশির শিথিলতা প্রদান হয়। কলাতে থাকা পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম পেশির ব্যাথ্যা কমাতে সাহয্য করে। তাই প্রতিদিন রাতে একটি করে কলা খাবেন। 
  • রাতে কলা খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। কলাতে থাকা ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। 
  • রাতে কলা খাওয়ার আরেকটি উপকার হলো আমাদের শরীরে কান্তি দূর করে। আমরা সারাদিন কাজ করে রাতের বেলা ক্লান্ত হয়ে পড়ি। আর শারাদিনের ক্লান্তি রাতে কলা খেলে দূর হয়। 
  • হজম শক্তি বৃদ্ধি করে। আমাদের অনেকের খাবার খাওয়ার পর খাবার তাড়াতাড়ি হজম হয় না। খাবার হজম হতে অনেক সময় নেই। যাদের এ সমস্যা আছে তারা রাতে কলা খাবেন সমস্যার সমাধান হবে। 
  • রাতে কলা খাওয়ার ফলে আপনার শরীরে শক্তি যোগায়। নিয়মিত রাতে কলা খেলে আপনার শরীরে শক্তি সঞ্চালিত হয়। 

উপরের আলোচনায় রাতে কলা খাওয়ার উপকার সম্পর্কে  জানলাম কিন্তু এ উপকার সবার ক্ষেত্রে নয়। সবার জন্য রাতে কলা খাওয়া ঠিক নয়। যাদের অ্যাজমা, এলার্জি, সর্দি, কাশির সমস্যা আছে তারা রাতে কলা খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। রাতে কলা খাওয়ার ফলে তাদের কফ, কাশি বেড়ে যায়। অতিরিক্ত গ্যাসট্রিকের সমস্যা ও ডায়াবেটিস রয়েছে তারাও রাতে কলা খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। 

বেশি করে কলা খেলে কি ক্ষতি হয়

কলাতে প্রচুর পরিমানে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। কলা আমাদের শরীরে পুষ্টির চাহিদা পূরন করে থাকে। কলার মধ্যে উপস্থিত রয়েছে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ফাইবার, শর্করা ইত্যাদি। কলাতে অনেক উপাদান উপস্থিত থাকায় কলাকে শক্তির অন্যতম উৎস বলা হয়। কলাতে বহু পুষ্টিগুন বিদ্যমান থাকায় ডাক্তাররা দুধ ও ডিম খাওয়ার পর এটি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। পাকা কলা খেলে আমাদের শরীরে এনার্জি আসে। দুর্বলতা দূর করে। কিডনি ভালো থাকে। ত্বক ও চুল ভালো রাখে। আমাদের মানসিক চিন্তা কমায়। তবে কলার মধ্যে এত উপকার থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত কলা খাওয়া স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর। আমরা অনেকেই মনে করে থাকি কলার মধ্যে অনেক পুষ্টিগুন আছে তাই অতিরিক্ত কলা খেলে আমাদের শরীর বেশি পুষ্টি পাবে। তবে এটা ভুল ধারনা ২ থেকে ৩ টার বেশি কলা খাওয়া উচিত নয়। এর বেশি খেলে আমাদের শরীরে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। চলুর বিস্তারিত জেনে নিই কলা বেশি করে খেলে কি কি ক্ষতি হয়।

  • কলা খেলে কিডনি ভালো থাকে। তবে যারা কিডনি রোগে আক্রান্ত  তারা কলা খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। বেশি কলা খেলে কিডনির সমস্যা আরও বেড়ে যায়।  
  • কলাতে থাকা টাইমারাইন নামক এক ধরনের উপাদান থাকে যা মাইগ্রোনের ব্যাথ্যা বাড়িয়ে দেয়। তাই যাদের মাইগ্রোনের সমস্যা আছে তারা অতিরিক্ত কলা খাবেন না। 
  • অতিরিক্ত কলা খেলে দেহে ক্লান্তি বোধ হয় পাকা কলাতে থাকে ট্রিপটোফ্যান অ্যামাইনো এসিড। এই অ্যামাইনো এসিড মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং দেহে ক্লান্তি আসে। 
  • বেশি কলা খেলে দাঁতের ক্ষতি হয়। 
  • অতিরিক্ত কলা খেলে হৃদপৃন্ডের স্পন্দন অনিয়মিত হয়ে যায়। কলাতে থাকে পটাশিয়াম আর পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে গেলে এ সমস্যা হয়। 
  • বেশি কলা খেলে স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতি হয়।
  • যাদের এলার্জি, অ্যাজমা, স্বর্দি, কাশির সমস্যা আছে তারা অতিরিক্ত কলা খাবেন না। 
  • যাদের শরীরে ডাইবেটিস তারা অত্যধিক কলা খাবেন না। কারন কলাতে সুগারের পরিমান থাকে। আর অতিরিক্ত কলা খেলে সুগারের মাত্রা বেড়ে যায়। যা ডাইবেটিস রোগিদের জন্য ক্ষতিকর। 
  • অতিরিক্ত কলা খেলে পেট ফাঁপা এবং গ্যাসট্রিকের সমস্যা হয়। 
  • অতিরিক্ত কলা খেলে আমাদের শরীরের ওজন অনিয়মিত ভাবে বাড়তেই থাকে। 

অতিরিক্ত কলা খেলে আমাদের শরীরের হাল বিগড়ে যায়। তাই কলা খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক অবলম্বন করা জরুরি। প্রতিদিন নিয়মের মধ্যে ২ টা করে কলা খাওয়া ভালো তবে ৩ টার বেশি নয়। শরীরের পক্ষে অস্বাস্থকর হয়ে পড়বে। তবে কোনো সিধান্তের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

উপরের আলোচনায় কলা খেলে কি হয়। গভাবস্থায় কলা খাওয়ার উপকারিতা। কলা সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি আশা করি এসব পড়ে আপনারা উপকৃত হবেন।

লেখকের শেষ বক্তব্য

গর্ভাবস্থায় কলা খাওয়ার উপকারিতা - কলা খেলে কি হয় সে সম্পর্কে আজকের এই ব্লগে সকল তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আশা করি গর্ভাবস্থায় কলা খাওয়ার উপকারিতা - কলা খেলে কি হয় সে সম্পর্কে আপনি বিস্তারিত জানতে পেরেছেন।

এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। যদি আপনি এই ধরনের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ব্লগ পোস্ট নিয়মিত পড়তে চান তাহলে আপনাকে প্রতিনিয়ত আমাদের এই ওয়েবসাইট ফলো করতে হবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন