জীবনে ঘুরে দাঁড়ানোর উপায় - ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা

আমরা জীবনে সবাই চাই সফল হতে, ভালো কিছু করতে চাই। সফল হওয়ার প্রথম শর্ত হলো লক্ষ্য স্থির করা। লক্ষ্যকে স্থির রেখে বিশ্বাস ও চেষ্টার সাথে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে যে , হ্যাঁ আমি অবশ্যই পারবো। কিন্তু ব্যর্থতা আমাদের অনেকের জীবনে সফলতাকে কেড়ে নেই। তবে যারা ব্যর্থতা থেকে নিজের লক্ষ্য থেক সরে আসে তারা জীবনে কখনও সফল হতে পারবেনা। আর যারা ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ঘুরে দাড়ায় তারাই সফলতার শিকড়ে পোঁছে যায়। আমাদের মধ্যে অনেকেই বুঝে উঠতে পারি না কিভাবে সফল হতে পারবো, জীবনে ঘুরে দাড়ানোর উপায় কি। যারা সফলতা নিয়ে চিন্তিত তাদের জন্যই আজকের আর্টিকেল। আজকের আর্টিকেলটি পড়ে জেনে নিন কীভাবে ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে জীবনে ঘুরে দাড়ানো যায়।

জীবনে ঘুরে দাঁড়ানোর উপায়

সফলতা অর্জন করার মূল শর্ত হলো আত্মবিশ্বাস। সবসময় চিন্তা করবেন যারা জীবনে  সফল হয়েছে তারাও মানুষ। তারা যদি সফল হতে পারে আমি কেন পারবোনা। জীবনে চলার পথে ব্যর্থতা আসবেই তবে সেখান থেকে থেমে গেলে জীবনে সফলতা আনতে পারবেন না। ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ঘুরে দাড়াতে হবে। চলুন বিস্তারিত জেনে নিন জীবনে সফল হতে কী করতে হবে, কিভাবে নিজের পায়ে দাড়িয়ে সফলতা বয়ে আনতে পারবেন।

কিভাবে নিজের পায়ে দাঁড়ানো যায়

নিজেকে যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলে, প্রতিষ্ঠিত হওয়ার নামই নিজের পায়ে দাঁড়ানো। প্রত্যেক মানুষের উচিত নিজের পায়ে দাঁড়ানো। দেরিতে হোক তবুও নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। নিজের পায়ে দাড়াতে হলে প্রথমেই আপনাকে লক্ষ্য স্থির করতে হবে এবং নিজের প্রতি বিশ্বাস রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। তবে প্রত্যেক মানুষের জীবনের লক্ষ্য একটাই হতে হবে, বছরের বছর পাল্টালে হবে না। যারা জিবেনে সফল হতে পেরেছে তারা তাদের লক্ষ্য বদলায় না এবং লক্ষ্য পূরন যত দিন না হয় ততদিন নিজের লক্ষ্য থেকে সরে আসে না। তাই যারা নিজের পায়ে দাড়তে পারে না, তাদের আত্মবিশ্বাস ও কোনো লক্ষ্যই থাকে না। যদিও লক্ষ্য থাকে তাহলে তারা অল্পতেই ভেঙে পড়ে যায় এবং লক্ষ্য থেকে সরে আসে। 

নিজের পায়ে দাড়াতে হলে মনোবল স্থির রাখতে হবে। শুধু ভাবতে হবে যে আমি আমার লক্ষ্য পূরন করবই। এক বারে না হোক বার বার চেষ্টা করতে হবে। সবসময় ভালো কিছু চিন্তা করতে হবে, আর সামনে এগিয়ে যেতে হবে। যারা মনোবল ঠিক রাখতে পারে না। একবার ব্যর্থ হলে আর চেষ্টা করে না এবং সবসময় নেগিটিভ চিন্তা ভাবনা করে। তারা নিজের পায়ে কখনও দাড়াতে পারে না। 

নিজের পায়ে দাড়াতে হলে অন্যের উপর নির্ভশীল হওয়া যাবে না, অন্যের উপর ভরসা করে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকলে চলবে না। নিজের ওপর ভরসা ও আস্থা রেখে নিজের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। নিজের লক্ষ্যের কথা কাউকে বলবেন না। পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ অন্যের ভালো চাইনা, তাই অন্যের ওপর নির্ভশীল থাকলে এখনই সেখান থেকে বেরিয়ে আসুন। 

হতাশাগ্রস্থ মানুষ কখনই নিজের পায়ে দাড়াতে পারে না। সবসময় হতাশ থাকে আর নিজেকে নিয়ে খারাপ সমালোচনা করে। সবসময় ভাবে আমাকে দিয়ে কিছু হবে না। এরকম মানুষেরা নিজের পায়ে দাড়াতে পারে না। নিজের পায়ে দাড়াতে হলে হতাশ হওবেন না, সবসময়  ভাবনেন আমাকে দিয়েই হবে। 

অন্যের কথায় কান দিবেন না। কারন অনেকেই আছে যারা আপনার ভালো চাইনা। ফলে আপনাকে হতাশাগ্রস্থ করার জন্য বিভিন্ন  ধরনের কথা বলে আপনাকে আপনার লক্ষ্য পূরনে বাধা দিবে। তাই অন্যরা কি ভাবলো, কি বললো সে বিষয়ে কান দিবেন না। 

ছেলে হন কিংবা মেয়ে অকশ্যই নিজের পায়ে দাড়ানোর চেষ্টা করুন। আত্মনির্ভরশীল হন, সময়ের মূল্য দিতে শিখুন আর কিভাবে নিজের পায়ে দাঁড়াবেন সবসময় চিন্তা করুন। নিজের কর্মসংস্থান নিজেই তৈরি করার চেষ্টা করুন। 

জীবনে সফল হওয়ার মুলমন্ত্র কী

সকল মানুষ চাই সফল হতে। সফল হতে চাইনা এমন মানুষ পৃথিবীতে কম রয়েছেন। কিন্তু সফল হতে চাইলেই খুব সহজে পাওয়া যায় না। যারা নিজের প্রতি বিশ্বাস রেখে তাদের লক্ষ্যে এগিয়ে যায়, পিছন ফিরে তাকায় না এবং একটানা কাজ করার গুন থাকে তাদের সফলতার সম্ভাবনা বেশি। সফল হতে চাইলে কয়েকটি মুলমন্ত্র আপনাদের জানা প্রয়োজন। সেই মুলমন্ত্র গুলো মেনে চললে জীবনে সফল হতে পারবেন। চলুন জেনে নিই মুলমন্ত্র গুলো কি।

  • সবার আগে নিজেকে গুরুত্ব দিতে শিখুন। অন্যরা কি ভাবেছে তা দেখার দরকার নেই। সফলতা অর্জন করতে চাইলে আগে নিজেকে গুরত্ব দিন। 
  • জীবনে সফলতা আনতে চাইলে নিজের লক্ষ্য ঠিক করুন । আপনি কি করতে চান সেটা আগে ভেবে নিন এরপর সেটা পুরন করতে নিজের প্রতি বিশ্বাস রেখে সামনে এগিয়ে যান। তাহলেই সফলতা অর্জন করতে পারবেন।
  • সময়ের মুল্য দিতে শিখুন, সবসময় সময়ের গুরত্ব দিন। কারন সময় পার হয়ে গেলে আর ফিরে আসেনা। 
  • সাফল্য অর্জন করতে হলে প্রচুর পরিমানে পরিশ্রম করুন। কারন পরিশ্রময় হলো সাফল্যের চাবিকাঠি। পরিশ্রম ছাড়া জীবনের সফলতা কল্পনা করা যায় না। তাই সফল হতে চাইলে পরিশ্রম করুন। 
  • সৃজনশীল চিন্তাভাবনা করবেন ,কাউকে অনুসরন করবেন তবে অনুকরন করবেন না। 
  • সবসময় পজেটিভ চিন্তাভাবনা করবেন, নেগিটিভ চিন্তাভাবনা থেকে দূরে থাকবেন। কারন পজিটিভ চিন্তাভাবনা কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়ায় আর নেগিটিভ চিন্তা আপনাকে হতাশ করে দিবে। ফলে লক্ষ্য থেকে সরে আসবেন। 
  • সফলতা চাইলে নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখুন। সবসময় ভাববেন হ্যাঁ আমিও পারবো। 
  • ব্যর্থতা থেকে ভেঙে পড়া যাবে না, ব্যর্থতাই শেষ নই, ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। একবার না পাড়লে বার বার চেষ্টা করবেন সফলতা অবশ্যই আসবে। 
  • প্রবল ইচ্ছাশক্তি আপনার স্বপ্ন পূরন করতে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে। সব কাজে সফল হওয়ার ইচ্ছা রাখুন। 
  • কখনয় ভয় পাবেন না, আমি দুর্বল, অমার দাড়াই সফল হওয়া হবে না। এরকম  মন মানসিকতাকে ঝেড়ে ফেলুন। তাহলেই সফলতা অর্জন করতে পারবেন। 
  • সকল মানুষের সাথে মিশুন ভালো কিংবা খারাপ, শিক্ষিত বা অশিক্ষিত। সবার কাছ থেকে জ্ঞান নিয়ে সেগুলো সম্পর্কে ভাবুন। 
  • সফলতা অর্জন করতে চাইলে অজুহাতকে দূরে রাখুন। কারন অজুহাত আপনার সাফল্য পূরন করতে বাধা দেয়। 
  • জীবনে সফলতা পেতে চাইলে সততা গুন নিজের মধ্যে রাখুন এবং সঠিক পথে চলুন। 
  • সফলতার এক গুরত্বপুর্ন মুলমন্ত্র হলো ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেওয়। তাই ব্যর্থতা থেকে থেমে না গিয়ে, ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা গ্রহন করুন। তাহলেই জীবনে সফলতা আসবে। 

সফলতা পেতে হলে উপরের মুলমন্ত্র গুলো মেনে চলার চেষ্টা করবেন। সফলতা তাড়াতাড়ি আসেনা, কেউ সহজে সফলতা অর্জন করতে পারেন নি। তাই যতক্ষন না সফল হবেন, আমি পারবোই এই মানসিকতা নিয়ে চেষ্টা করেই যাবেন।

ব্যর্থতা থেকে সফলতার উপায়

ব্যর্থতা হলো সাফল্যের সিড়ি। সফলতা অর্জন করতে চাইলে ব্যর্থতার সম্মুখিন  হতে হবে, এটাই স্বাভাবিক। যারা সফল হয়েছেন তাদের সবার ব্যর্থতার গল্প রয়েছে। সফল উদ্যোক্ত, লেখক, বড় বড় চাকরিজিবী , বিজ্ঞানী যেই হোক না কেন সবাই সফলতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। এরপরই সফল হতে পেরেছেন। যারা সত্যিকারের সফল হতে চাই তার যতই ব্যর্থ হোক, কখনই তারা  তাদের চেষ্টা থেকে দূরে সরে না, তারা কখনই নিজের প্রতি বিশ্বাস হারায় না, সফলতা অর্জন করেই তারা ছাড়ে। 

ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সেই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে জীবনে সফলতা পাওয়া যায়। ব্যর্থতা থেকেই  মূলত সফলতার উপায় বের হয় তবে আমরা সেটা কাজে লাগাতে পারি না। ব্যর্থ থেকেই সফলতার জন্ম হয় তবে সেটাকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে। কয়েকটি মনীষীদের ব্যর্থতার উক্তি জেনে নিই তাহলেই আমরা বুঝতে পারবো ব্যর্থতা থেকে সফলতার উপায় কি। 

নেলসন ম্যান্ডেলা বলেছেন- আমাকে আমার সফলতা দিয়ে বিচার করো না , ব্যর্থতা থেকে কতবার আমি ঘুরে দাঁড়িয়েছি তা দিয়ে আমাকে বিচার করো।

এ.পি.জে. আবদুল কালাম আজাদ বলেন- ব্যর্থতার গল্প পড়ো তাহলে সফল হওয়ার কিছু ধারনা পাবে। 

ব্রেন ব্রাউন বলেছেন- ব্যর্থতা ছাড়া কোন উদ্ভাবন এবং সৃজনশীলতা নেই।

চার্ণক্য বলেছেন- ব্যর্থতা হলো সফলতার আগামী বার্তা।

যারা জীবনে সফল হতে পেরেছেন তারা সবাই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সফল হতে পেরেছেন। প্রথমে যারা ব্যর্থ হয়েছিলেন কিন্তু পরবর্তীতে সফলতা অর্জন করেছিলেন এমন বিখ্যাত তিনজন ব্যক্তি হলো আব্রাহাম লিংকন ,অ্যাইজাক নিউটন ও জ্যাক মা। এই তিনজন ব্যক্তির গল্প থেকে চলুন শিক্ষা নেওয়া যাক।

আব্রাহাম লিংকন: আব্রাহাম লিংকন আমেরিকার ১৬তম প্রেসিডেন্ট ছিলেন। রাজনীতি ও খ্যাতের দিক দিয়ে তিনি পৃথিবীর সফলতম মানুষদের মধ্যে একজন। কিন্তু জীবনে সফল হতে তিনি অনেক বার ব্যর্থ হয়েছিলেন। ২৩ বছর বয়সে তার চাকরি চলে যাওয়ার সময় তিনি প্রথম নির্বাচনে হেরেছিলেন। ২৯ বছর তিনি আবারও নির্বাচন করে হারেন। ১৮৪৮ সালে ৩৯ বছর বয়সে তিনি ওয়াশিংটনের জেনারেল ল্যান্ড অফিসের কমিশনার হওয়ার নির্বাচনে  পরাজিত হন। ৪৯ বছর বয়সে সিনেটর হওয়ার জন্য নির্বাচন করে পরাজিত হন। এত ব্যর্থতার পরেও তিনি চেষ্টা করে যান। অবশেষে তিনি ৫২ বছর বয়সে আমেরিকার প্রেনিডেন্ট হন। 

আইজ্যাক নিউটন: ছোটবেলায় খুব অভাব অনটনের মধ্য দিয়ে দিন পার করেছিলেন। অভাবের কারনে প্রথনে তার পড়াশোনাও বন্ধ করে দেওয়া হয়। নিউটনের বাবা একজন কৃষক ছিলেন,  তাই তার মা চাইতেন সেও যেন কৃষক হয়। কিন্তু কৃষিকাজে তিনি মন দিতেই পারতেন না। ফলে নিউটনের মায়ের কয়েকবছর লোকশানের মুখ দেখতে হয়েছিল। কৃষিকাজে অনীহা দেখে তার মা আবার তাকে বাধ্য হয়ে স্কুলে ভর্তি করে। কৃষিকাজে ব্যর্থ হলেও পরীক্ষার ফলাফলে তার ধারে কাছে কেউ আসতে পারতেন না। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গনিত ও বলবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করার সময়েই তিনি উদ্ভাবন করতে লাগলেন মহাবিশ্বের বিভিন্ন ত্বত্ত। এরপর হয়ে উঠলেন বিশে^র সেরা পদার্থবিজ্ঞানী, গনিতবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী। 

জ্যাক মা: বিশ্বের সফলতম ব্যবসায়ী তিনি। তিনি সফলতা অর্জন করতে বহু ব্যর্থতার শিকার হয়েছিলেন। তিনি ছাত্রজীবনে প্রাথমিক পরীক্ষায় দুবার, মাধ্যমিকে তিনবার, পুলিশ হতে গিয়ে একবার, হার্ভার্ডে ভর্তি হতে গিয়ে দশবার এবং কে এসফিতে চাকরি করতে গিয়ে একাবার ফেল করেছিলেন। শহরে যখন তিনি কেএসফিতে ব্যবসা করতে আসলেন, তখন ২৪ জন তার চাকরির আবেদন করলেন কিন্তু ২৩ জনের চাকরি হলেও তিনি সেখান থেকে বাদ পড়ে যান। এত ব্যর্থতার পরেও হাল ছাড়েন নি, পরবর্তীতে সফল হতে পেরেছিলেন। 

এই তিনজন ব্যাক্তি প্রথমেই কিন্তু জীবনে সফল হতে পারেন নি। ব্যর্থতার পরেই সফল হতে পেরেছিলেন। তাই ব্যর্থ হয়ে লক্ষ্য থেকে সরে আসবেন না। নিজেকে অসহায় ভাববেন না, ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিন, ভয়কে জয় করুন এবং সফল হওয়ার প্রত্যাশা রাখুন।

জীবনে সফল হওয়ার দোয়া

সফলতার জন্য প্রথমে আল্লাহর উপর ভরসা করা সবেথেকে জরুরি। এরপর চেষ্টা করতে হবে আল্লাহর পথে। সফলতার জন্য লক্ষ্য থাকতে হবে এবং সেই লক্ষ্য পৌঁছানোর পরিকল্পনা করতে হবে। জীবনে সফল হতে হলে চেষ্টা করার পাশাপাশি আমাদের মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা করতে হবে। কারন তিনি হলেন আমাদের সকল সমস্যার সমাধান কারী। 

চেষ্টা ও সফল হওয়ার দোয়া

উচ্চারন: আল্লাহুম্মা হাজাদ-দোয়াউ ওয়া আলাইকাল ইজাবাতু, হাজাল জুহদু ওয়া আলাইকাত তুকলান। 

অর্থ: হে আল্লাহ! এটা আমার প্রার্থনা এটা কবুল করা আপনার ইচ্ছাধীন, এটা আমার প্রচেষ্টা, এর সাফাল্য আপনার ওপর নির্ভশীল। 

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সা. কে রাতের নামাজ শেষ করার পর এই দোয়া পাঠ করতে শুনেছি। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩৪১৯)

সফলতার আরেকটি দোয়া হলো-

উচ্চারন: রাব্বানা তাকাব্বাল মিন্না ইন্নাকা আনতাস সামিউল আলীম। 

অর্থ: হে আল্লাহ! আমাদের এই কাজটি কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি সর্বশ্রোতা এবং সর্বজ্ঞা।

আল্লাহ তায়ালার প্রতি পরিপূর্ন আস্থা , ভরসা এবং দোয়া ও আমল যদি করেন তাহলে তিনি আমাদের যেকোনো বিষয়ে সফলতা এনে দিবেন। 

জীবনে চলার পথে কিছু কথা

আমাদের সবার জীবনে চলার পথে ভালো ও খারাপ এ দুটো বিষয় থাকে। এই বিষয় দুটোকে মেনেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হয়। জীবন চলার পথে কিছু কথা আপনাদের সামনে বলবো, যেগুলো আপনার চলার পথে উপকারে আসবে। 

  • আমি পারবো, আমাকে পারতেই হবে। সফলতা অর্জনে এ সংকল্প করতে হবে। 
  • জীবনে কোনো কিছু নিয়ে আফসোস করবেন না। কারন আফসোস আপনাকে বড় হতে দেবে না। 
  • জিবনে সফল হতে যতই চেষ্টা করুন কেউ সেটা দেখার প্রয়োজন মনে করবেনা, যতক্ষন না সফল হবেন।
  • ব্যর্থ হয়ে নিজের লক্ষ্য থেকে সরে যাবেন না, কারন ব্যর্থতায় সফলতার উপায় বলে দেয়। 
  • আপনি চাইলেই আশেপাশের সব মানুষের মন রক্ষা করে চলতে পারবেন না। তাই তাদের কথায় কান না দিয়ে, নিজের মতো করে চলুন। 
  • যে বলে তুমি পারবেনা, তোমার দ্বারা হবে না। সে আসলে নিজেই পারে না। 
  • কারো মাঝে ভুল খুঁজোনা, নিজের ভুল আগে খুঁজ। 
  • কোনো সমস্যাকে বড় বলে দেখ না। কারন যদি তুমি সমস্যাকে বড় করে দেখ তাহলে কখনও সমাধানের পথ খুঁজে পাবে না।
  • ভয় পাওটা কোনো সমস্যা নয়। তবে তুমি যদি ভয় পেয়ে থেমে থাকো তাহলে সেটাই বড় সমস্যা। 
  • নিজের সিধান্ত নিজে নাও, কারন কেউ তোমার খারাপ সময়ের সঙ্গি হবে না।
  • আজকের কাজ আগামী দিনের জন্য ফেলে রাখবে না। 
  • কারও সামনে নিজের গোপন তথ্য প্রকাশ করো না। 
  • আয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে ব্যায় করবে। 
  • বিচক্ষন ও কৌশল অবলম্বন করে কাজ করো। 
  • নিজের প্রশংসা অন্যের সামন করো না। 
  • কোনো কাজই তাড়াহুড়া করবে না, ধীর-স্থির ভাবে কর। 
  • নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস রাখো, সফল হতে পারবে। 
  • সাফল্য অর্জন সহজে করা যায় না, সাফল্যের রাস্তা অনেক লম্বা। তবে যখন আমরা সাফল্যে স্থানে পৌঁছে যাব তখন তার থেকে আনন্দের আর কিছু হয় না।

নিজের লক্ষ্য নিজে ঠিক করুন, লক্ষ্যকে সামনে রেখে এগিয়ে যান, ব্যার্থ হয়ে থামবেন না, ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা অর্জন করুন সফলতা ঠিক আপনার দরজায় আসবে।

লেখকের শেষ বক্তব্য

জীবনে ঘুরে দাঁড়ানোর উপায় - ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা সম্পর্কে আজকের এই ব্লগে সকল তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আশা করি জীবনে ঘুরে দাঁড়ানোর উপায় - ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা সম্পর্কে আপনি বিস্তারিত জানতে পেরেছেন।

এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। যদি আপনি এই ধরনের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ব্লগ পোস্ট নিয়মিত পড়তে চান তাহলে আপনাকে প্রতিনিয়ত আমাদের এই ওয়েবসাইট ফলো করতে হবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন