গরমের দিনে কতটুকু পানি পান করা উচিত - কি খেলে পানি শূন্যতা দূর হয়

গরমে আমাদেন কতটুকু পানি পান করা উচিত, কি খেলে পানিশূন্যতা দূর হয় বিষগুলো আমাদের অনেকের জানা নেই। তবে আমাদের জানা উচিত শরীরে পানির চাহিদা ঠিক কতটুকু। আজকের আর্টিকেলে বিষয়গুলো তুলে ধরবো।

গরমের দিনে কতটুকু পানি পান করা উচিত

প্রিয় পাঠক, আমাদের সবার জানা পানির অপর নাম জীবন, কথাটার তাৎপর্য অনেক। শরীরের একাধিক কাজ সম্পন্ন করে পানি। সুস্থ জীবনের জন্য পানি অপরিহার্য। নিয়মিত পানি পান না করলে শরীরে পানিশূন্যতা ছাড়াও বিভিন্ন রকমের সমস্যা হতে পারে। তাই আমাদের কতটুকু পানি পান করা উচিত কি খেলে পানি শূন্যতা দূর হয় এ বিষয়ে জানা জরুরি। চলুন তাহলে শুরু করি এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা।

পানিশূন্যতা কেন হয়

অতিরিক্ত গরমে অস্বস্থিকর অবস্থা সবার। গরমে আপনাকে সুস্থ রাখতে পানি অত্যাবশকীয়। পানি কম খেলে আপনার শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিবে। পানিশূন্যতা শরীরে অনেক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। আমাদের শরীরে ৭৫% পানি রয়েছে। যা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রন করে। আপনার শরীরে আপনি যতটুকু পানি দিচ্ছেন, শরীর যদি তার থেকে বেশি পানি খরচ করে তাহলে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। পানি শূন্যতা বিভিন্ন কারনে হতে পারে।

একজন ব্যক্তি কম পরিমানে পানি খেলে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। উচ্চ তাপমাত্রায় পানিস্বল্পতা দেখা দেয়। ভাজা পোড়া জাতীয় খাবার খেলে পানিশূসন্যাতা হতে পারে। ডায়েট করার জন্য অনেকেই কার্বহাইড্রেট জাতীয় খাবার কম খেয়ে থাকে। তবে কার্বহাইড্রেট খাবার পানিশূন্যতা দূর করে। ডায়রিয়া, কলেরা, অতিরিক্ত ঘাম, পুড়ে যাওয়া, অতিরিক্ত ব্যায়াম, অতিরিক্ত পরিশ্রম ইত্যাদি কারনে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। 

গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত গরমে পানিশূন্যতা বেশি হয়ে থাকে। শরীরে খাবার না থাকলে যে সমস্যা হয় তার থেকে বেশি সমস্যা হয় দেহে পানির ঘাটতি হলে। পর্যাপ্ত পরিমানে পানি পান করা বিশেষভাবে জরুরি। অসুস্থ ব্যক্তির জন্য পানিশূন্যতা একটি মারাত্মক বিষয়। অসুস্থ ব্যক্তির পানি পানিশূন্যতা দেখা দিলে তাদের মৃত্যু আশঙ্কা বেড়ে যায়। পানিশূন্যতা দেখা দিলো শরীর অবশন্য হয়ে পড়ে। শরীর ঠিকমতো কাজ করতে পারেনা। পানিশূন্যতার কারনে হঠাৎ কেউ পড়ে গিয়ে আঘাত পেতে পারে। এর কারনে অনেক সময় জীবনাশের আশঙ্কা দেখা দেয়।  তাই পর্যাপ্ত পরিমানে পানি পান করুন। 

পানির অভাবে দেহে কী কী সমস্যা হতে পারে

পানিশূন্যতার প্রবনতা গ্রীষ্মকালে বেশি হয়ে থাকে। অতিরিক্ত গরমে শরীর বেশি ঘামে। আর ঘামের সাথে শরীরের অতিরিক্ত পানি বের হয়ে যায়। ফলে পানি শূন্যতা দেখা দেয়। পানি শূন্যতা হলে শরীরের স্বাভাবিক কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটে। সময় মতো চিকিৎসা না করলে এটি গুরত্বর হয়ে যায়। পানির অভাবে দেহে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। চলুন বিস্তারিত জেনে নিই। 

শরীরে পর্যাপ্ত পানি আমাদের দেহে রক্ত সঞ্চালন করে থাকে। আর দেহে পানির পরিমান কমে গেলে রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া ধীর হয় এবং এর ফলে আমাদের শরীরে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। পর্যাপ্ত পরিমানে পানি পান না করলে মাথাব্যাথা, অবসাদগস্থ হওয়া, অল্পতেই মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা, ক্ষুধা কমে যাওয়া এসব সমস্যা হয়ে থাকে। পানি শূন্যতা আমাদের দেহে হজম প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব ফেলে হজম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রয়োজন পানি। দেহে পর্যাপ্ত পরিমান পানি না পেলে আমাদের ত্বকের উপর তার প্রভাব পড়ে। ত্বক রুক্ষ, শুষ্ক হয়ে যায়। ব্রনের মতো বিভিন্ন সমস্যা হয়ে থাকে। 

পানির অভাবে কিডনির সমস্যা হয়ে থাকে। কিডনি ভালোভাবে কাজ করেনা। কিডনিতে পাথর, মূত্রনালির সংক্রামনের ঝুঁকি বাড়ায়। শরীর দুর্বল হয়ে যায় নিয়মিত পানি পান না করলে। শরীরে ক্লান্তি বোধ হয় নিয়মিত পানি পান না করলে। হৃদস্পন্দন বেড়ে পানির অভাব হলে। শরীরে পানিশূন্যতায় অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হয়। মস্তিষ্কের রোগ হয় স্মৃতিশক্তি নষ্ট হয়ে যায়। পানিশূন্যতা থেকে মুক্তি পেতে অতিরিক্ত পানি পান করুন এবং সঠিক খাবার খান যেগুলোতে পানির ভাগ বেশি আছে। পানিশূন্যতায় কী খাবার খাবেন জানতে আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন। 

আরো পড়ুন: ইসলামে মোটা হওয়ার উপায় - দ্রুত মোটা হওয়ার উপায়

গরমে দিনে কতটুকু পানি পান করা উচিত

অতিরিক্ত গরমে জীবন হয়ে পড়েছে দুঃসহ। তাই এই গরমে চিকিৎসকেরা বেশি পরিমানে পানি পান করতে বলেছেন। তবে আমরা অনেকেই কাজের চাপে পানি খেতে ভুলে যায়। শরীরে পানির অভাবে আমাদের দেহে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়, সমস্যাগুলো আগেই আলোচনা করেছি। অনেকেই আছে যারা বেশি পরিমানে পানি পান করতে পারেন না। বমি বমি ভাব হয় তারা অল্প অল্প করে বারবার পানি খাবেন। গরমে কতটুকু পানি খাবো এ নিয়ে কমবেশি সবাই চিন্তিত। চলুন সঠিক তথ্য জেনে নিই গরমে কতটুকু পানি  খেতে হবে। 

বিশেষজ্ঞরা পানি খাওয়ার বিষয়ে বলেছেন- একজন পুরুষের কমপক্ষে দৈনিক ১০-১২ গ্লাস এবং মেয়েদের ৮-১০ গ্লাস পানি খাওয়া উচিত। তবে যারা প্ররিশ্রম করে থাকেন তাদের জন্য পানির পরিমান আরও বেশি হবে। ওজন অনুযায়ী পানি পান করা যায়। ২০ কেজি ওজনের জন্য দৈনিক এক থেকে ডের লিটার পানি পান করা প্রয়োজন। পানিশূসন্যতার লক্ষন দেখলেই বুঝবেন আপনার শরীরে  পানির ঘাটতি রয়েছে। পানির ঘাটতি দেখা দিলে প্রয়োজনমতো পানি খাবেন। অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো নই তাই প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি পান করবেন না। একজন শুস্থ মানুষের দৈনিক আড়াই থেকে তিন লিটার তরল প্রয়োজন তরল বলতে শুধু পানি নয় অনান্য খাবারও হতে পারে। 

পানিশূন্যতার লক্ষন

অতিরিক্ত গরমে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। আপনার দেহে কখন পানিশূন্যতা দেখা দেয় সঠিকভাবে জানতে না পারলে। শরীরে মারাত্মক ক্ষতি হয়। শরীরে যখন পর্যাপ্ত পানি না থাকে তখন কিছু লক্ষন দেখা যায়। লক্ষনগুলো হলো- ১. মাথা ব্যাথা ২. মাথা ঘোরা ৩. মুখে দুর্গন্ধ হওয়া ৪. শরীর দুর্বল হয়ে যায় ৫. প্রসাবের রং পরিবর্তন ৬. মিষ্টি খাওয়ার প্রবনতা বেড়ে যায় ৭. হাত পায়ে টান ধরে ৮.ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় ৯. অতিরিক্ত পানির তেষ্টা পাওয়া ১০. অল্পতেই মেজাজ খারাপ হয়ে যাওয়া। 

উপরের লক্ষন গুলো আপনার মধ্যে দেখা দিলে অবশ্যই পরিমানমতো পানি খাবেন। খাদ্য তালিকায় পানি জাতীয় ফল ও সবজি রাখবেন।

কী খেলে পানিশূন্যতা দূর হয়

পর্যাপ্ত পরিমানে পানি না খেলে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। গরমে অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়ার কারনে পানির চাহিদা বেড়ে যায়। এছারাও মাথা ব্যাথা, প্রসাব কমে যাওয়া, ক্লান্ত লাগা, বমিভাব এসব লক্ষন পানিশূন্যতার কারনে প্রকাশ পায়। দেহে পানিশূন্যতা দেখা দিলে  শুধু পানি খেয়ে নয়। পানি জাতীয় খাবার খেয়েও পানিশূন্যতা দূর করা যায়। চলুন সে খাবারগুলো কী আমরা জেনে নিই-

পানি: পানিশূন্যতার প্রধান কারন হলো দেহে পর্যাপ্ত পানির অভাব। তাই পানিশূন্যতা দূর করতে পরিমানমতো পানি পান করবেন। 

শশা: শশাতে প্রচুর পরিমানে পানি থাকে। পানিশূন্যতায় শশা খাবেন। 

তরমুজ: গরমে স্বস্তি এনে দেয় তরমুজ। এটি শরীরে পানির অভাব দূর করে। তরমুজে শতকরা ৯০ ভাগেরও বেশি পানি থাকে। ফলে পানিশূন্যতা দূর হয়। 

আম: শরীর পানির ঘাটতি পূরন করতে আম খাবেন। আমে প্রায় ৮৮ শতাংশ পানি রয়েছে। যা শরীরে পানি জোগায় এবং পানিশূন্যতা দূর হয়। 

আপেল: পানিশূন্যতা দূরে রাখতে নিয়মিত আপেল খাবেন। আপেলে প্রায় ৮৬ ভাগ পানি রয়েছে। আপনার শরীরে প্রয়োজনীয় পানি উপস্থিত করবে। 

পেঁপে: শরীরের পানি ঘাটতি সমাধানের অন্যতম উৎস হলো পেঁপে। এতে প্রচুর পরিমানে পানি রয়েছে। পানিশূন্যতা অল্পতেই দূর হবে। 

এছারাও কমলা, স্ট্রবেরি, বেদানা, টক দই, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাাকপি, ডাব, স্যুপ খাবেন। আপনার শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিলে পানি খাওয়ার পাশাপাশি উপরে বলা খাবারগুলো নিয়মিত খাবেন। এসব খাবার স্ট্রোক ও পানিশূন্যতা থেকে দূরে রাখে। 

শিশুর পানি শূন্যতায় কারন

বড়দের তুলনায় শিশুরা খুব সহজেই পানিশূন্যতায় আক্রান্ত হয়। শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক ভাবে কম থাকে। তাই গরমে শিশুদের বেশি যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। কারন শিশুরা তাদের সমস্যার কথা মুখ ফুটে বলতে পারেনা। অতিরিক্ত গরমে শিশুদের পানিশূন্যতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। অতিরিক্ত তাপমাত্রা, ঘাম, ডায়রিয়া, জ্বর, অতিরিক্ত বমি বা পানি কম খাওয়ার কারনে শিশুদের পানিশূন্যতা দেখা দেয়। 

আরো পড়ুন: চোখের নিচের কালো দাগ দূর করার উপায়

শিশুদের পানিশুন্যতার লক্ষন

অস্থিরতা, কান্না করলে চোখে পানি না আসা, অকারনে কান্নাকাটি, খিটখিটে মেজাজ, শিশুদের প্রসাবের প্রবনতা হ্রাস পায়, প্রসাবের রং হলুদ হয়, খিঁচুনি, নির্জীব হয়ে যাওয়া এসবই বাচ্চার পানিশূন্যতার লক্ষন।

শিশুর পানিশূন্যতায় যা করবেন

বয়সভেদে পানি শূন্যতায় শিশুর যত্ন নিবেন। শিশুর বয়স ছয় মাসের কম হলে ঘনঘন বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। ছয় মাসের বেশি হলে বিশুদ্ধ পানি ও পানি জাতীয় খাবার খাওয়াতে হবে। আম, বেদানার রস খাওয়াবেন। শিশু যদি বড় হয় স্কুলে যায় তখন টিফিনের সঙ্গে পানির বোতল ও পানি জাতীয় ফল দিবেন। ডায়রিয়া হলে ওআরএস ও রাইস স্যালাইন খাওয়াবেন। অনেক শিশু পানি পান করতে চাইনা তাদের  পানির পাশাপাশি লেবু কমলার শরবত খাওয়ান। ডাবের পানি খাওয়াবেন। ভাতের মাড়,  চিড়ার পানি, ঘোল খাওয়াতে পারেন।

শিশুদের পানিশূন্যতা দূর করতে উপরের বলা খাবার গুলো নিয়মিত খাওয়াবেন, পর্যাপ্ত পানি পান করাবেন। অতিরিক্ত রোদে শিশুদের বের করবেন না। শিশুদের প্রতি কড়া নজর দিবেন কারন শিশুরা পানিশূন্যতার কথা নিজেরা বলতে পারেনা। শিশুদের পানিশূন্যতায় সঠিক যত্ন নিবেন। উপরিউক্ত বিষয়গুলো মেনে চলবেন। চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন।

লেখকের শেষ বক্তব্য

গরমের দিনে কতটুকু পানি পান করা উচিত - কি খেলে পানি শূন্যতা দূর হয় সেই সম্পর্কে আজকের এই ব্লগে সকল তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আশা করি গরমের দিনে কতটুকু পানি পান করা উচিত - কি খেলে পানি শূন্যতা দূর হয় সেই সম্পর্কে আপনি বিস্তারিত জানতে পেরেছেন।

এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। যদি আপনি এই ধরনের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ব্লগ পোস্ট নিয়মিত পড়তে চান তাহলে আপনাকে প্রতিনিয়ত আমাদের এই ওয়েবসাইট ফলো করতে হবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন