যাকাত কাদের উপর ফরজ - ফিতরা দেয়ার নিয়ম

প্রিয় পাঠক আসসালামু আলাইকুম। আপনার যদি যাকাত কাদের উপর ফরজ - ফিতরা দেয়ার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত জানার প্রয়োজনীয়তা থাকে তবে আপনি একদম সঠিক জাইগায় এসেছেন। আজকের আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করবো যাকাত কাদের উপর ফরজ - ফিতরা দেয়ার নিয়ম সম্পর্কে ইসলাম কি বলে সেকল বিষয়ে।
যাকাত কাদের উপর ফরজ ফিতরা দেয়ার নিয়ম

যাকাত কাদের উপর ফরজ

নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র ও ব্যয় বাদে ৫২.৫০ (সাড়ে বায়ান্ন) তোলা রূপা অথবা তৎমূল্যের টাকা বা মাল কিম্বা ৭.৫০ (সাড়ে সাত) তোরা সোনা অথবা তৎমূল্যের টাকা বা মাল এক বছর পর্যন্ত হাতে থাকাতে নিছাব বলে। যার নিকট উক্ত নিছাব পরিমাণ সোনা, রূপা, মাল অথবা টাকা থাকে তাকে “মালেকে নিছাব” বলে। মালেকে নিছাবের যাকাত দেওয়া ফরয নয়। যাকাতের মালের উপর চল্লিশ ভাগের এক ভাগ অথবা মালের টাকা হিসাব করে শতকরা ২.৫০ (আড়াই) টাকা হিসাবে দিরে যাকাত আদায় হবে। নিছাবের বেশি মালের অধিকারীকেও সম্পূর্ণ মারে (সোনা, রূপা, মাল ইত্যাদি) যাকাত দেওয়া ফরয। ভাড়ার গাড়ীর যাকাত দিতে হয় না।

কোন সময় যাকাত দিতে হয়

প্রথম রমযান মাসে যাকাত আদায় করা ভাল। রমযান মাসের প্রথম তারিখ হতে শেষ তারিখের ভিতরে এই যাকাত আদায় করতে পারা যায়। যাকাত প্রথমে সাধারনথঃ আপন রক্ত সম্পর্কীয় গরীব আত্নীয় স্বজনকে দিতে হয়। তারপর আপন গরীব প্রতিবেশি ও ধর্মীয় বন্ধু বান্ধবদেরকে দিতে হয়। প্রয়োজনবোধে অন্যান্য মাসেও যাকাত আদায় করতে পারা যায়, কিন্তু বছরের হিসাব এক রমযান মাস হতে অন্য রমযান পর্যন্ত করা ভাল।

আরো পড়ুন: ইসলামে ধনী হওয়ার উপায় - দ্রুত ধনী হওয়ার আমল

যাকাত কাদের দেওয়া যাবে

ভাই, ভগ্নী, খালা, ফুফু, মাম, বিমাত, জামাত, শ্বশুর ও শ্বাশুড়ীকে যাকাত দেওয়া যায়। পিতা মাতা স্মামী, স্ত্রী পিতাসহ, মাতামহকে যাকাত দেওয়া নিষেধ। অমুসলমানকেও যাকাত দেওয়া নিষেধ।
সোনা ও রূপার সাধারণতঃ যে সময় যাকাত দেওয়া হয়, ঐ সময়ের পা্রতি তোলা (ভরি) যে কদরে বিক্রি হয়, ঐ দরে টাকা হিসাব করে যাকাত আদায় করলেও চলবে। যাকাতের টাকা হিসাব করে যাক্তারে নিয়তে দিতে হয়, কেহ না জানে এমনিভাতে যাকাত দেওয়া উত্তম। ব্যবসায়ী প্রতি বছর সম্পূর্ণ মাল ও টাকার যাকাত দিবে।

ফিতরা দেয়ার নিয়ম

রমযান শরীফের ঈদের দিন যাহার নিকট এই পরিমাণ মাল, টাকা কাপড় এবং খাদ্য দ্রব্য থাকে, যাদ্বারা তার সাংসারিক ব্যয় নির্বাহের কোন অসুবিধা হয় না, তার উপর ফিতরা দেওয়া ওয়াজিব। কিন্তু তাকে মালেকে নিছাব হতে হবে। “মালেকে নিছাব” কাকে বরে, তা যাকাতের অংশে আলোচনা করা হয়েছে। আটার দ্বার ফিতরা আদায় করতে হয়। এই এক সের সাড়ে বার ছটাক আটার পরিবর্তে নিজ এলাকার বাজার দর হিসাব করে উহার মূল্য পরিমাণ টাকা দিলেও চলবে। টাকা পরিবর্তে আবার বাজার দরে টাকার পরিমাণ চাউল দিলেও চলবে। এই ফিতরা ঈদের নামাযের পূর্বে আদায় করে দেওয়া ভাল। ফিতরা দ্বারা রোযার ভুলত্রুটির কাফফার হয়, রোযা কবুর হয় ও মৃত্যু যন্ত্রণা লাঘব হয়।

যাদের লালন পালন ও ভরণ পোষণের ভার নিজের উপর ওয়াজিব, তাদের জন্য ফিতরা দেওয়াও নিজের উপর ওয়াজিব। যেমন, স্ত্রী, পুত্র, কন্যা ও পিতা মাতা। ঈদের দিন ছোবহে ছাদেকের পূর্বে কোন শিশু জন্মগ্রহণ করলে তারও ফিতরা আদায় করতে হবে। নাবালেগ পুত্র ও কন্যা মারেকে নেছাব হরে তাদের ফিতরা তাদের মাল হতে আদায় করবে। পিতা নিজ মাল হতে দিলেও আদায় হবে।

আরো পড়ুন: কীভাবে আল্লাহর প্রিয় হবো - আল্লাহর প্রিয় বান্দা কারা

লেখকের শেষ বক্তব্য

যাকাত কাদের উপর ফরজ - ফিতরা দেয়ার নিয়ম সম্পর্কে আজকের এই ব্লগে সকল তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আশা করি যাকাত কাদের উপর ফরজ - ফিতরা দেয়ার নিয়ম সম্পর্কে আপনি বিস্তারিত জানতে পেরেছেন।

এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। যদি আপনি এই ধরনের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ব্লগ পোস্ট নিয়মিত পড়তে চান তাহলে আপনাকে প্রতিনিয়ত আমাদের এই ওয়েবসাইট ফলো করতে হবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন