সকালে খালি পেটে কাঁচা পেঁপে খাওয়ার উপকারিতা

কাঁচা পেপে খাওয়া মানব দেহের জন্য খুবই উপকারি। শরীরকে সুস্থ রাখতে এবং শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থগুলোকে বের করতে কাঁচা পেঁপে দারুন কার্যকর।  কাঁচা পেঁপের মধ্যে অনেক ঔষুধিগুন রয়েছে, নিয়মিত কাঁচা পেঁপে খেলে শরীর থাকবে রোগমুক্ত। কাঁচা পেঁপে আমরা প্রায় সবাই খাই, তবে সকালে খালি পেটে কাঁচা পেঁপে খাওয়ার উপকার সম্পর্কে সবার ধারনা নেয়। আজকের আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করবো সকালে খালি পেটে কাঁচা পেঁপে খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে।

সকালে খালি পেটে কাঁচা পেঁপে খাওয়ার উপকারিতা

সবাই আমরা কাঁচা পেঁপে খেলেও, সবার জন্য কাঁচা পেঁপে খাওয়া ঠিক নয়। আর কাঁচা পেঁপে খাওয়ার কিছু সঠিক নিয়ম আছে, সেগুলো জেনে কাঁচা পেঁপে খেলে এর উপকার বেশি পাওয়া যায়। তাই আমাদের জানতে হবে কাদের ক্ষেত্রে কাঁচা পেঁপে খাওয়া উচিত নয় আর কাঁচা পেঁপে খাওয়ার সঠিক নিয়ম কি।  এসব বিষয় নিয়ে আজকের আর্টিকেলটি আমরা উপস্থাপন করবো , এসব ছাড়াও কাঁচা পেঁপে সম্পর্কিত যাবতীয় সকল তথ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো, যেগুলো আপনাদের উপকারে আসবে। চলুন তাহলে সে সকল বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই।

সকালে খালি পেটে কাঁচা পেঁপে খাওয়ার উপকারিতা

পুষ্টিগুনে ভরপুর কাঁচা পেঁপে সর্বত্রই পাওয়া যায়। এ উপাদানটি আমরা সবজি এবং ফল দুইভাবেই খেয়ে থাকি। কাঁচা পেঁপের মধ্যে থাকা পুষ্টি উপাদান গুলো আমাদের শরীরে প্রবেশ করে অসংখ্যা রোগের সমধান এনে দেয়। নিয়মিত সকালে খালি পেটে কাঁচা পেঁপে খেলে শরীর সুন্দর ও সুস্থ থাকে প্রতিনিয়ত। ১০০ গ্রাম কাঁচা পেঁপের মধ্যে রয়েছে ৩২ গ্রাম ক্যালরি, ৭ গ্রাম শর্করা, খনিজ ০.৫ গ্রাম, ফ্যাট ০.১ গ্রাম, সোডিয়াম ৬.৭ মিলিগ্রাম। এছারাও কাঁচা পেঁপের মধ্যে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ই, এ, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, ও প্রোটিন  এবং আরও বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান যেগুলো আমাদের শরীরের জন্য উপকারি । সকালের শুরু টা কাঁচা পেঁপে খেয়েই শুরু করুন, শরীর পাবে বিভিন্ন উপকার। জেনে নিন সকালে খালি পেটে কাঁচা পেঁপে খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে-

  • যারা পেটের সমস্যা নিয়ে ভুগছেন তারা নিয়মিত সকালে কাঁচা পেঁপে খাওয়ার অভ্যাস করে তুলুন। সকালে কাঁচা পেঁপে খেলে পেটের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান মিলবে।
  • ওজন কমাতে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে কাঁচা পেঁপে খেতে বলছেন পুষ্টিবীদরা। সকালে কাঁচা পেঁপে খেলে অনেকক্ষন পেট ভরা থাকে, অন্য কিছু খাওয়ার চাহিদা থাকেনা। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রনে চলে আসে।
  • নিয়মিত সকালে কাঁচা পেঁপে খেলে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দূর হয়, ত্বকের ব্রনসহ বিভিন্ন দাগ ছোপ দূর করে। 
  • কাঁচা পেঁপে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য, অ্যাসিডিটি এবং ডায়রিয়া দূর হয়। এসব সমস্যা যাদের আছে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে কাঁচা পেঁপে খাবেন।
  • কাঁচা পেঁপেতে থাকে পেপসিন যা কৃমির সমস্যা দূর করে। কৃমির সমস্যা দেখা দিয়ে সকালে খালি পেটে কাঁচা পেঁপে রস করে তার সাথে মধু মিশিয়ে খাবেন, সমস্যার সমাধান হবে।
  • প্রতিদিন সকালে কাঁচা পেঁপে খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে থাকে, তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে রাখতে প্রতিদিন সকালে খাবারের তালিকায় কাঁচা পেঁপে রাখুন।
  • নিয়মিত সকালে খালি পেটে কাঁচা পেঁপে খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে থাকে। 
  • চোখের স্বাস্থের জন্য কাঁচা পেঁপে খুবই উপকারি। প্রতিদিন সকালে কাঁচা পেঁপে খেলে চোখের স্বাস্থ ভালো থাকে।
  • হাড় মজবুত থাকে নিয়মিত সকালে খালি পেটে কাঁচা পেঁপে খেলে।

কাঁচা পেঁপে হলো বিভিন্ন পুষ্টির উৎস, তাই প্রতিদিন সকালে কাঁচা পেঁপে খাবেন শরীর থাকবে সুস্থ ও সুন্দর। সকালে যারা খালি পেটে কাঁচা পেঁপে খেতে চান, তারা অবশ্যই কাঁচা পেঁপের জুসটায় খাবেন তাহলে বেশি উপকার পাবেন।

গর্ভাবস্থায় কাঁচা পেঁপে খেলে কি হয়

গর্ভকালীন সময়টা একজন নারীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ন। এ সময় অনেক বিষয় গর্ভবতী মায়েদের মেনে চলতে হয়। চলাফেরা থেকে শুরু করে খাওয়া দাওয়ার বিষয়ে সাবধান থাকতে হয়। গর্ভবস্থার সময়টায় একটু ভুলের কারনে গর্ভবতী মায়ের বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে, এমন কি গর্ভপাতও ঘটতে পারে। তাই এ সময়ে গর্ভবতী মায়েরা কি করবেন, কি খাবেন এ বিষয়ে অনেক সচেতন থাকতে হবে।  গর্র্ভাকালীন  সময়ে পুষ্টিকর খাবার খেতে হয় সেটা আমাদের সবার জানা, তবে কিছু খাবার আছে যেগুলোতে পুষ্টি উপাদান থাকলেও গর্ভবতী মায়েদের জন্য সেগুলো খাওয়া ঠিক নয়। পেঁপের মধ্যে অনেক পুষ্টি উপাদান থাকা সত্তেও আমরা শুনে থাকি যে গর্ভাবস্থায় কাঁচা পেঁপে খাওয়া ঠিক নয়। এটি কি সত্য? বিশেষজ্ঞদের মত কি? অনেকের মনে এমন প্রশ্ন জাগে। হ্যাঁ এটি সত্যি, গর্ভবতী মায়েদের জন্য কাঁচা পেঁপে খাওয়া ঠিক নয়। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁচা পেঁপের মধ্যে পেপেইন নামক প্রোটিওলাইটিক এনজাইম  বিদ্যমান থাকে। আর গর্ভবস্থার প্রথম তিন মাসে এ এনজাইম গর্ভবতী মায়েদের জরায়ুর সংকোচন এবং হজমে সমস্যা হতে পারে। তাই গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস বিশেষজ্ঞরা কাঁচা পেঁপে একেবারেই খেতে নিষেধ করেন। কাঁচা পেঁপে থেকে বের হওয়া সাদা তরল পদার্থ গর্ভবতী মায়েদের বেশি সমস্যার সৃষ্টি করে। এই সাদা তরল পদার্থের মধ্যে এক ধরনের এনজাইম থাকে যেগুলো গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই গর্ভবতী মায়েদের বিশেষ করে গর্ভের প্রথম তিন মাস একেবারেই কাঁচা পেঁপে খাওয়ার ঠিক নয়। এর পরের মাসগুলোতে যদি খেতে চান, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাবেন। 

আপনি সুস্থ থাকলে অপনার গর্ভের সন্তানও সুস্থ থাকবে, তাই এমন কোনো ভূল করবেন না যেটা নিয়ে আপনাকে বিভ্রান্তিতে পড়তে হয়। গর্ভাবস্থার সময়টায় অবশ্যই সতর্ক ও সাবধানতার সাথে চলাফেরা করবেন। গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস কাঁচা পেঁপে এড়িয়ে চলবেন।

আরো পড়ুন: কলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা - কাঁচা কলার পুষ্টিগুণ

কাঁচা পেঁপে খাওয়ার সঠিক সময়

কাঁচা পেঁপের মধ্যে অনেক পুষ্টি উপাদান রয়েছে। শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থগুলোকে বের করে শরীর সুস্থ ও সবল রাখতে সাহায্য করে কাঁচা পেঁপে। আমাদের সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় স্বাস্থকর খাবার রাখা জরুরি। স্বাস্থকর খাবারের মধ্যে আমরা আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় কাঁচা পেঁপে রাখতে পারি। কারন আমাদের স্বাস্থকে ঠিকঠাক রাখতে নিয়মিত কাঁচা পেঁপে খাওয়া জরুরি। পেটের সমস্যা থেকে শুরু করে বিভিন্ন রোগবালাই দূর করতে কাঁচা পেঁপে গুরত্বপূর্ন ভূমিকা পালন  করে থাকে। এজন্য বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত কাঁচা পেঁপে খাওয়ার পরমর্শ দিয়ে থাকেন।

কাঁচা পেঁপে খাওয়ার নির্দিষ্ট কোনো সময় নেয়, আপনি যেকোনো সময় কাঁচা পেঁপে খেতে পারেন। যেকোনো সময় খেলে সেটা শরীরের জন্য উপকারি। সকালে খালি পেটে কিংবা সকালের নাস্তায়, সকাল আর দুপুরের খাবারের বিরতিতে কিংবা প্রতিদিন দুপুর ও রাতে খাবারের পর কাঁচা পেঁপে চিবিয়ে খেলে শরীরে বিভিন্ন উপকার মেলে। এসব সময়ের যেকোনো একটি সময় বেছে নিয়ে কাঁচা পেঁপে খেতে পারেন। সকালে খালি পেটে পেপের জুস বানিয়ে তার সাথে শশার রস এবং কয়েকফোটা লেবুর রস মিক্স করে খেলে বেশি উপকার পাওয়া যাবে। তবে পেঁপে খাওয়ার সঠিক সময় হলো সকাল ও দুপুরে খাবার খাওয়ার পরে। 

কাঁচা পেঁপে খাওয়ার নিয়ম

পুষ্টিকর খাবারের তালিকায় নাম থাকে কাঁচা পেঁপের। কাঁচা পেঁপে খেলে শরীরে বিভিন্ন রোগের সমস্যার সমাধান হয়। এনজাইমের খুব ভালো উৎস হলো কাঁচা পেঁপে, কাঁচা পেঁপে খেলে পেটের বিভিন্ন সমস্যা যেমম-ডায়রিয়া, পাইলস, এসিডিটির মতো সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়। এছারাও কাঁচা পেঁেঁপ খেলে হাঁপানি, অস্টিও আর্থারাইটি, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হার্ট ভালো রাখে, ফুসফুসে প্রদাহ কমায়, মাসিকের ব্যথা কমায়, ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখে, জন্ডিস হওয়ার সম্ভাবনা কমায় এবং কিডনি ও ক্যান্সার নিরময়ে কাজ করে। এখন প্রশ্ন হলো কাঁচা পেঁপে খাওয়ার সঠিক নিয়ম কি? কিভাবে কাঁচা পেঁপে খেলে এর উপকার বেশি পাওয়া যায়? জেনে নিন কাঁচা পেঁপে খাওয়ার সঠিক নিয়ম  সম্পর্কে।

কাঁচা পেঁপে বিভিন্ন ভাবে খাওয়া যায়, কাঁচা পেঁপে যেভাবেই খান না কেন এর আলাদা আলাদা পুষ্টিগুন রয়েছে। কাঁচা পেঁপের জুস খেলে ডায়াবেটিস, আমাশয়, অশ^ ও কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে। এছারাও কাঁচা পেঁপের জুস খেলে চোখের স্বাস্থ ভালো রাখে। শরীর সুস্থ রাখতে কাঁচা পেঁপে ও শশা একসাথে ব্লেন্ড করে তার সাধে কয়েকফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে খেতে পারেন।

কাঁচা পেঁপেকে ছোট ছোট করে কেটে, তার সাথে  অল্প লবন এবং হালকা গোলমরিজ গুড়ো মিশিয়ে খেলে পেট ফাঁপা থেকে মুক্তি এনে দেয়।

 কাঁচা পেঁপে স্যালাড করে নিয়মিত খেলে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা থেকে ত্বককে মুক্তি দেয় এবং ত্বক উজ্জল ও মসৃন থাকে। নিয়মিত কাঁচা পেঁপের টুকরো দুপুরে এবং রাতে খাবারের পর চিবিয়ে খেলে গ্যাস্ট্রিক ও বদহজমের সমস্যা দূর হয়।

এছারাও শুধু কাঁচা পেঁপে সেদ্ধ, রান্না অথবা ভাজি করে এবং ডালের সাথে রান্না করে খেলেও উপকার পাওয়া যায়। তবে  কাঁচা পেঁপে রান্না অথবা ভাজি করে খেলে একটি বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখবেন, সেটা হলো পেঁপে অধিক সময় ধরে  রান্না করা যাবে না এবং কম তেল মসলা দিয়ে রান্না করতে হবে। এভাবে পেঁপে খাওয়া শরীরের জন্য বেশ উপকারি।

সকালে খালি পেটে কাঁচা পেঁপে খাওয়ার উপকারিতা

পেঁপে সিদ্ধ উপকারিতা

প্রায় সকল ধরনের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উৎস হলো কাঁচা পেঁপে। নিয়মিত কাঁচা পেঁপে খেলে পুষ্টি জনিত কোনো সমস্যাই হবে না বলে ধারনা দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। কাঁচা পেঁপের মধ্যে একাধিক পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা আমাদের শরীরের জন্য উপকারি। এজন্য চিকিৎসকেরা নিয়মিত কাঁচা পেঁপে খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। পেঁপে রান্না করে অথবা পাকা দুইভাবেই আমরা খেয়ে থাকি। পেঁপে সিদ্ধ করে খেলে আমাদের শরীরের জন্য বিভিন্ন উপকার বয়ে আনে। আলু যেভাবে সিদ্ধ করে খান ঠিক একইভাবে পেঁপে সিদ্ধ করেও খেতে পারেন। কাঁচা পেঁপে সিদ্ধ করলে এর মধ্যে বিভিন্ন অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আরা নানা উপকারী উপাদান পাওয়া যায়, যা আমাদের শরীরের জন্য উপকারি। জেনে নিন পেঁপে সিদ্ধ খাওয়ার উপকারিতা কি।

  • কাঁচা পেঁপে সিদ্ধ করে খেলে ওজন নিয়ন্ত্রনে আসে। যারা অতিরিক্ত ওজন কমাতে চান তারা নিয়মিত খাদ্য তালিকায় সিদ্ধ করা কাঁচা পেঁপে রাখুন।
  • সেদ্ধ কাঁচা পেঁপেতে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট চুল ও ত্বকের স্বাস্থকে ভালো রাখে। 
  • কাঁচা পেঁপেতে থাকে ভিটামিন সি, যা সিদ্ধ করে খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। 
  • কাঁচা পেঁপের মধ্যে থাকে প্যাপাইন এবং কাইসোপাপেই যা পাচনতন্ত্র ঠিক রাখে। তাই পেট ভালো রাখতে কাঁচা পেঁপে সিদ্ধ করে হালকা ঝোল বানিয়ে খেতে পারেন।
  • সিদ্ধ করা কাঁচা পেঁপে খেলে অ্যার্থ্রাইটিসের ঝুঁকি কমে।
  • পেটের বিভিন্ন সমস্য, ছোটরা কিংবা বড়রা এ সমস্যা নিয়ে সবাই ভোগান্তিক। তবে নিয়মিত যদি কাঁচা পেঁপে সিদ্ধ করে খাওয়া যায় তাহলে এসব সমস্যা থেকে সমাধান পাওয়া যায়।
  • নিয়মিত কাঁচা পেঁপে সিদ্ধ করে খেলে হাড়ের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম শোষণ করে  এবং প্রসাবে ক্যালসিয়ামের নিঃসরন কমিয়ে দেয়। 
  • পেঁপেতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে যা ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। প্রতিদিন সেদ্ধ করা কাঁচা পেঁপে খাওয়ার পর পানি খেলে স্তন, কোলন ও প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমবে। 

শরীরকে বিভিন্ন সমস্যার হাত থেকে বাঁচাতে নিয়মিত কাঁচা পেঁপে সিদ্ধ করে খাবেন, পাশাপাশি কাঁচা পেঁপের জুস ও স্যালাড বানিয়েও খেতে পারেন।

আরো পড়ুন: মধু খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা - মধু খাওয়ার নিয়ম

কাঁচা পেঁপে খাওয়ার অপকারিতা

পুষ্টিগুনে ভরপুর হলো কাঁচা পেঁপে, একাধিক পুষ্টি উপাদান কাঁচা পেঁপের মধ্যে রয়েছে। পেঁপে মানবস্বাস্থের জন্য খুবই উপকারি একটি খাদ্য উপাদান, আমরা সেটা জানলাম। তবে কিছু মানষের জন্য পেঁপে খাওয়া স্বাস্থের জন্য মোটেও ঠিক নয়। অতিরিক্ত কাঁচা পেঁপে খেলে শরীরে বেশ কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। জেনে  নিন কাঁচা পেঁপে অতিরিক্ত খেলে শরীরে কি অপকারিতা হতে পারে-

  • পেঁপে স্বাস্থের জন্য উপকারি হলেও , এক বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য কাঁচা পেঁপে খাওয়া ঠিক নয়। কাঁচা পেঁপের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে, যা খেলে শিশুদের কোষ্ঠকাঠিন্য সহ বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।
  • যাদের সময়ে বুক ধড়ফড় করে অর্থ্যাৎ হৃদস্পন্দের সমস্যা রয়েছে তারা কাঁচা পেঁপে খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
  • অ্যালার্জিজনিত সমস্যায় যারা ভুগছেন তাদের কাঁচা পেঁপে খেলে সমস্যা বাড়তে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রে সমস্যা বাড়ে না। তাই যাদের অ্যালার্জির সমস্যা আছে তারা প্রথমে কাঁচা পেঁপে খেয়ে টেস্ট করুন, সমস্যা দেখা দিলে কাঁচা পেঁপে না খাওয়াই ভালো। 
  • পেঁপের মধ্যে থাকে এক বিশিষ ধরনের এনজাইম, যার নাম অ্যালার্জেন। এ অ্যালার্জেন মানবদেহের মধ্যে অতিরিক্ত পরিমাণে প্রবেশ করলে শ্বাসকষ্টজনিত বা হাঁপানির সমস্যা হতে পারে। তাই যাদের শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা আছে তারা কাঁচা পেঁপেকে দূরে রাখুন।
  • পেঁপেতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি আছে, আর ভিটামিন সি অধিক পরিমানে খেলে কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই অতিরিক্ত কাঁচা পেঁপে না খাওয়াই ভালো। আর যারা ইতিমধ্যে কিডনিজনিত সম্যাসায় ভুগছেন তারা একেবারেই কাঁচা পেঁপে খাবেন না।
  • গর্ভাবস্থায় কাঁচা পেঁপে না খাওয়ার পরমর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা। চিকিৎসকের মতে গর্ভাবস্থায় কাঁচা পেঁপে খেলে, গর্ভবতী মায়েদের গর্ভপাত হওয়ার আশঙ্কা হতে পারে। 
  • হজমের সমস্যার সমাধান করে কাঁচা পেঁপে তবে অতিরিক্ত কাঁচা পেঁপে খেলে এর বিপরিত প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অতিরিক্ত কাঁচা পেঁপে খেলে পেট ফাঁপা সহ পেটে ব্যাথা হতে পারে।

কাঁচা পেঁপের মধ্যে অনেক উপকারী গুন রয়েছে, যা নিয়মিত খেলে শরীর  থাকবে সুস্থ, ফিট ও সুন্দর। তবে উপরিক্ত সমস্যায় যারা ভুগছেন এবং অতিরিক্ত কাঁচা পেঁপে আমাদের শরীরের জন্য বিপদজনক। তাই কাঁচা পেঁপে সঠিক ভাবে খাওয়ার অভ্যাস করুন এবং যারা নির্দিষ্ট কোনো অসুস্থতায় ভুগছেন তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কাঁচা পেঁপে খাওয়ার সিদ্ধান্ত নিবেন।

লেখকের শেষ বক্তব্য

সকালে খালি পেটে কাঁচা পেঁপে খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে আজকের এই ব্লগে সকল তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আশা করি সকালে খালি পেটে কাঁচা পেঁপে খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে আপনি বিস্তারিত জানতে পেরেছেন।

এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। যদি আপনি এই ধরনের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ব্লগ পোস্ট নিয়মিত পড়তে চান তাহলে আপনাকে প্রতিনিয়ত আমাদের এই ওয়েবসাইট ফলো করতে হবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন