বাচ্চাদের বিছানায় প্রস্রাব সমস্যার সমাধান

প্রিয় পাঠক আজকের আর্টিকেলে আলোচনা করবো, বয়স বাড়লেও বাচ্চারা কেন বিছানায় প্রস্রাব করে। বাচ্চাদের বিছানায় প্রসব করলে এর সমাধান কী? এসব বিষয় নিয়ে। শিশুরা বিছানায় প্রসব করে এটা স্বাভাবিক প্রকিয়া। তবে শিশুর বয়স বাড়লেও বিছানা ভিজিয়ে ফেলছে। তখন এটি একটি জটিল সমস্যা হিসেবে ধরা হয়। কিডনি অথবা প্রসাবের যন্ত্রে কোথাও ত্রুটি থাকলে  বাচ্চারা বিছানায় প্রসব করে। এ বিষয় নিয়ে অনেক মা-বাবা চিন্তিত। তবে চিন্তিত হবার কিছু নেয়। বিভিন্ন উপায়ে এ সমস্যার সমাধান করা যায়। বিষয়টি জানতে এবং সমস্যার সমাধান পেতে আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়বেন। 

বাচ্চাদের বিছানায় প্রসাব সমস্যার সমাধান

বিছানায় প্রসাব হওয়ার কারন

বয়স বাড়লেও বাচ্চারা বিছানায় প্রসাব করে এটি একটি বাচ্চার পরিচিত বিষয়। সাধারণত শিশুদের ৩ বছরের মধ্যে প্রসাব পায়খান নিয়ন্ত্রনে চলে আসে। তবে ৫ বছরের বেশি বয়স হলেও বাচ্চারা যদি প্রসাব করে তাহলে এর পেছনে অনেক কারন রয়েছে। বাচ্চাদের এ সমস্যার সঠিক  কারন এখনও অজানা। তবে কিছু কারন ধারনা করা হয়। প্রসাবের সংক্রামন, অতিরক্ত মানসিক চাপ ও ভয়, জন্মগত কোনো ত্রুটি বিভিন্ন কারনে এ সমস্যা হতে পারে। চলুন বিস্তারিত জানা যাক-

১. ছোটবেলা থেকে শিশুকে প্রসাব পায়খানার প্রশিক্ষন দেয়া না থাকলে অনেক সময়  এ কারনে শিশুরা বিছানায় প্রসাব করে থাকে। শিশুর ৬ থেকে ১৫ মাসের মধ্যেই এ প্রশিক্ষন শুরু করা উচিত। 

২. কিডনি ও প্রসব যন্ত্রের মধ্যে কোথাও সমস্যা থাকলে বাচ্চারা বিছানায় প্রসাব করে। 

৩. প্রসাবে ইনফেকশান থাকার কারনে বাচ্চারা বিছানায় প্রসাব করে। 

৪. মূত্রনালির স্নায়ুতন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা থাকার কারনে বাচ্চারা প্রসাব নিয়ন্ত্রন করতে পারেনা। 

৫. জন্মগত কারনে এ সমস্যা হতে পারে। ছোট বেলায় কোনো বাবা-মায়ের এ সমস্যা থাকলে তাদের বাচ্চাদেরও এ সমস্যা হতে পারে। 

৬. গবেষকদের মতে মানসিক চাপের কারনে এ সমস্যা হতে পারে। স্কুলে ভর্তি, বাসা পরিবর্তন, মা-বাবার বকাঝকা প্রভৃতি মানসিক চাপের কারনে বাচ্চারা বিছানায় প্রসাব করে থাকে। 

৭. কিছু ওষুধ আছে যা সেবনের ফলে বাচ্চারা বিছানায় প্রসাব করে। 

৮. কোষ্ঠকাঠিন্য থাকার কারনেও বাচ্চারা বিছানায় প্রসাব করে থাকে। কোষ্ঠকাঠিন্য থাকার কারনে প্রসাবের পেশি গুলো অকার্যকর হয়ে যায়।

বাচ্চারা বিছানা ভেজানোর কারনে নিজেরাও লজ্জাবোধ করে। তাই তাদের বিছানা ভেজা নিয়ে বকাঝকা করবেন না। ফলে আরও এ সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।

বিছানায় প্রসাব বন্ধ করার উপায়

বাচ্চাদের বিছানায় প্রসাব তখন স্বাভাবিক বলা হয় যখন শিশুদের বয়স ৫ বছরের নিচে হয়। শিশুরা সাধারনত ৩ বছর পর্যন্ত ঘুমের মধ্যে প্রসাব করে থাকে। তবে এরপরও বিছানায় প্রসাব করলে মা-বাবা চিন্তায় পড়ে যান। সঠিক উপায় অবলম্বন ও সঠিক চিকিৎসা এবং কিছু ঘরোয়া উপায়ের মাধ্যমে বাচ্চাদের প্রসাব বন্ধ করা যায়। চলুন জেনে নিই-

১. যদি বাচ্চার বিছনায় প্রসাব বন্ধ করতে চাই তাহলে তরল পানীয় দিনের বেলায় আপনার শিশুকে খাওয়ান। রাতে খাওয়া থেকে বিরত থাকেন। 

২. দারুচিনি বাচ্চাদের প্রসাবের সমস্যা দূর করে। এজন্য আপনার বাচ্চাকে দারুচিনি চিবিয়ে খাওয়াবেন।

৩. মধু বাচ্চাদের বিছানায় প্রসাব হওয়া থেকে বাঁচায়। সকালে নাস্তার পর ১ গ্লাস দুধের সাথে মধু মিশিয়ে খাওয়ান। 

৪. শিশুদের বিছানায় ঘুমাতে যাওয়ার আগে ওয়াশরুম ব্যবহার অভ্যাস গড়ে তুলুন। অভ্যাসের মাধ্যমেও এ সমস্যা দূর করা যায়।

৫. পরিমানমতো অলিভ অয়েল নিয়ে সামান্য গরম করে তারপর বাচ্চার নিন্মাঙ্গের আশেপাশে মাসাজ করুন। 

৬. রাতের বেলায় ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় যেমন- চকলেট মিল্ক সাইট্রাস জাতীয় জ্যুস ও মিষ্টি খাওয়া বন্ধ করুন। 

৭. শিশুরাকে মানসিক চাপে ফেলবেন না। মানসিক চাপ থেকে দূরে রাখলে বাচ্চাদের বিছানায় প্রসাব বন্ধ করা যাবে। 

শিশুকে শাস্তি দেওয়া যাবেনা। অতিরিক্ত শাসন করবেন না। শিশুর শোবার সময় বাড়ির আশেপাশ শান্ত রাখার টেষ্টা করবেন। এ সমস্যা সমাধানে শিশুকে প্রথমে উৎসাহী করে তুলুন এবং উপরের টিপসগুলো মেনে চলুন। 

আরো পড়ুন: বাচ্চাদের ফর্সা হওয়ার টিপস - বাচ্চাদের ফর্সা হওয়ার তেল

বিছানায় প্রসাব বন্ধ করার ঔষধ

ঘুমের মধ্যে অনেক বাচ্চা বিছানায় প্রসাব করে থাকে। এটি বাচ্চদের একটি জটিল সমস্যা। সাধারনভাবে বাচ্চাদের মূত্রথলী কন্ট্রলে না আসলে বাচ্চারা বিছানায় প্রসাব করে। স্বাভাবিক বাচ্চাদের ৫ বছরের মধ্যে এটা হয়ে যায়। কিন্তু এরপর যদি বাচ্চারা বিছানায় প্রসাব করে তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। চিকিৎসকেরা শিশুদের এ সমস্যাকে বেডওয়েটিং প্রবলেম বলে। ডাক্তাররা শিশুর এ সমস্যাকে বিকাশগত বিলম্ব বলেছেন, শারিরিক কোনো অসুস্থতা নয়। চিকিৎসকেরা প্রথমেই বাচ্চাদের  এই সমস্যাই হোমিওপ্যাথির চিকিৎসার কথা বলেন। এটি সম্পূর্ন নিরাপদ। 

বিছানায় প্রসাবের হোমিও চিকিৎসা

কষ্টিকাম: বাচ্চাদের বিছানায় প্রসাব বন্ধ করতে কষ্টিকাম খাওয়ান। সকাল বিকাল দিনে দুবার খাওয়াতে হবে। 

ক্রিয়োজোট: অনেক সময় বাচ্চারা ঘুমের মধ্যে মনে করেন। প্রসাবের স্থানেই প্রসাব করছে। তবে ঘুম থেকে জেগে দেখে বিছানায় প্রসাব করেছে। এ সমস্যায় ক্রিয়োজোট উপকারি। সকাল বিকাল দিনে দুবার খাওয়াবেন।

সিনা: অনেক সময় কৃমিগ্রস্থ বাচ্চারা বিছানায় প্রসাব করে। তাদের জন্য সিনা কার্যকরী। 

ভার্ব্যাসকম: বাচ্চাদের ঘুমের মধ্যে প্রসাব এ সমস্যা দূর করতে দিনে তিন বার এ ওষুধটি খাওয়াবেন। 

উপরের ওষুধগুলো বাচ্চারা বিছানায়  প্রসাব করলে ব্যবহার করবেন। তবে চিকেৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়। কারন অনেক ওষধ আছে যেগুলো ব্যবহারে বাচ্চাদের বিছানায় প্রসাব নিরাময় হয় ঠিকি তবে ওষুধ বাদ দিলে আবার এ সমস্যা দেখা দেয়। সবথেবে ভালো উপায় হলো বাড়িতেই আপনি এ সমস্যার সমাধানে চেষ্টা করবেন। রাতে কোনো তরল পানীয় ও মিষ্টি খাওয়াবেন না। শিশুদের খাদ্যতালিকায় দারুচিনি, আমলকি, আখরোট, কিশমিশ ইত্যাদি খাবার রাখুন। বাচ্চকে মানসিকভাবে আঘাত করবেন না। সবসময় সাপোর্ট করবেন, বুঝিয়ে বলবেন।

বিছানায় প্রসাব বন্ধ করার দোয়া

বাচ্চারা বিছানায় প্রসাব করবে এটা স্বাভাবিক। তবে বাচ্চা বড় হলে এটা স্বাভাবিক নয়। বুঝতে হবে তাদের মধ্যে কোনো সমস্য আছে। এটি একটি অস্বস্তিকর বিষয়। আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রত্যেক সমস্যার সমাধান করে থাকেন। চলুন জেনে নিই কী দোয়া পাঠ করলে বাচ্চার বিছানায় প্রসাব বন্ধ হবে। সূরা ফাতিহা হলো সকল রোগের ওষধ। বাচ্চার পসাব বন্ধ করতে এক বার সূরা ফাতিহা, একবার সূরা ইখলাস ও ১১ বার আল্লাহর গুনবাচক নাম ইয়া ক্ববিদুন পড়ে বাচ্চাকে ফুঁ দিবেন। বিসমিল্লাহি ওয়াসসলামু আলাইকা আয়্যুহাল পুশায়ী তাম্মানু বিলাহিমিন শাইতানি রজীম। আয়ুবিল্লাহি মিনাল কুসি ওয়াল খাবাইস। পড়ে ফুঁ দিবেন। ইয়া আরদুব লাঈ মাআকি ওয়অ ইয়া সামাউ আকলিঈ ওয়া গীদ-ল মাউ ওয়াকুদিয়াল আমরু। এটি পড়েও ফুঁ দিবেন। বিশ্বাসের সহিত দোয়াগুলো পড়ে ফুঁ দিবেন। আশা করি ফল পাবেন। 

আরো পড়ুন: মধু খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা - মধু খাওয়ার নিয়ম

বিছানায় প্রসাব বন্ধের আমল

বাচ্চারা বিছানায়  প্রস্রাব করলে মা-বাবা হতাশ হয়ে যান। অনেক শিশু আছে বড় হওয়ার পড়েও বিছানায় প্রসাব করে। এক্ষেত্রে ঘরোয়া উপায়ের ও ঔষধ খাওয়ার পাশাপাশি কিছু  আমল করবেন যা করে আপনার বাচ্চার বিছানায় প্রসাব বন্ধ হবে। আমলগুলো নিচে দেওয়া হলো-

ঘুমানোর পূর্বে এ আমলটি করতে হবে। ১ চা চামচ মধু ও ১ চামচ কালো জিরা নিতে হবে এরপর খুব ভালোভাবে মিক্স করে যেকোনো একটি দুরদ ১১ বার পড়ে নিতে হবে, এবার আয়ুযুবিল্লাহ, বিসমিল্লাহ সহ সূরা ফাতিহা  সাতবার প্রতিবার পড়ার পর অর্থাৎ সাতবার তাতে ফুঁ দিতে হবে। এরপর শিশুকে খাওয়াবেন।  সূরা হূদের (৪৪) নং আয়াত পড়ে ফুঁ দিবেন। এভাবে প্রতিদিন রাতে করবেন। আল্লাহর ওসিলায় আপনার বাচ্চার বিছানায় প্রসাব ইনশাআল্লাহ ভালো হবে।

লেখকের শেষ বক্তব্য

বাচ্চাদের বিছানায় প্রসাব সমস্যার সমাধান সম্পর্কে আজকের এই ব্লগে সকল তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আশা করি বাচ্চাদের বিছানায় প্রসাব সমস্যার সমাধান সম্পর্কে আপনি বিস্তারিত জানতে পেরেছেন।

এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। যদি আপনি এই ধরনের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ব্লগ পোস্ট নিয়মিত পড়তে চান তাহলে আপনাকে প্রতিনিয়ত আমাদের এই ওয়েবসাইট ফলো করতে হবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন