শিশুদের মোবাইল আসক্তি কমানোর উপায় - আপনি কি ফোনে আসক্ত?

আপনি যদি শিশুদের মোবাইল আসক্তি কমানোর উপায় সম্পর্কে জানার জন্য আগ্রহী হয়ে থাকেন তাহলে আপনি একদম ঠিক জাইগায় এছেসেন। আজকের আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করবো কিভাবে শিশুদের মোবাইল আসক্তি কমানো যায়।

মোবাইল ফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ এসব ডিভাইস আমাদের জন্য সুবিধা জনক হলেও শিশুদের জন্য বিপদজনক। এসব ডিভাইসের মাত্রা অতিরিক্ত ব্যবহার শৈশবকালের সামাজিক এবং মানসিক বিকাশের উপর ভীষণ রকম ক্রমবর্ধমান বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব ফেলে। যেসব শিশু ইন্টারনেটে, মোবাইল, ট্যাব, ল্যাপটপে আসক্ত তারা তাদের বাস্তব জীবন থেকে খেলাধুলা, দৌড়াঝাপ করতে পারে না। এর ফলে তাদের দক্ষতা বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। তাছাড়াও পড়ালেখা এবং বাস্তব জীবনে যোগাযোগ করার ক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই শিশুর চোখের বিশ্রামের জন্য মোবাইলে এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি থেকে দূরে রাখতে হবে অথবা পর্যাপ্ত সময় বিরতি নিতে হবে। টিভি, মোবাইল ফোন কিংবা ল্যাপটপে টাকা গেম বাজে কোন ধরনের ভিডিও দেখার সময় মস্তিষ্কের কোষের অনেক ক্ষতি হয়। আমাদের মস্তিষ্ক থেকে ডোপামিন নিউরোট্রান্স মিটার নিঃসরণ হয়। এরোপামিন এর জন্য আমরা এসবের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ি।

শিশুদের মোবাইল আসক্তি কমানোর উপায়

ইলেকট্রিক ডিভাইস আড়াল করা

বাড়ির খুব দরকারী জিনিস যেমন, ওয়াশিং মেশিন মাইক্রোওয়েভ, মোবাইল ফোন এগুলো শিশুর নাগালের বাইরে রাখা উচিত। এগুলো আমাদের প্রয়োজনীয় জিনিস হলেও শিশুদের জন্য ক্ষতিকর। একটু বয়সে বড় বাচ্চাদের এসবের খারাপ দিকগুলো সম্পর্কে বোঝাতে হবে।


শিশুদের একাকীত্ব দূর করা

শিশুদের একা রাখা যাবে না। যতটা সম্ভব শিশুকে সময় দিতে হবে। আজকাল পরিবার ছোট হওয়ার কারণেই খেলার সঙ্গী না পেয়ে টিভি মোবাইল ফোন কেই তারা বন্ধু হিসাবে মেনে নেই। আবার মা-বাবা দুজনেই চাকরিজীবী বা কোন না কোন কাজে লেগে থাকায় সন্তানকে সময় দিতে পারে না ফলে টিভি মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়ে বাড়ির ছোট ছোট বাচ্চারা। তাই যতটা সম্ভব কাজের বাইরে সময় বের করে বাচ্চাদেরকে সময় দিতে হবে। বাচ্চাদের সাথে নিয়মিত খেলাধুলা করতে হবে। বিকেল বেলায় শিশুর জন্য বিভিন্ন ধরনের এক্টিভিটির পরিকল্পনা করতে হবে। নাচ, গান, আবৃতি, ধর্মীয় শিক্ষা দিতে হবে। নিয়মিত সময় করে বাইরের সমবয়সী বাচ্চাদের সাথে মিষ্টি দিতে হবে তবেই শিশুর একাকীত্ব ঘুষবে।


বাচ্চাদের বই পড়ানো

শিশুরা একা থাকলে বা কোন খেলাধুলা না করতে পারলেই মোবাইল টিভির দিকে আসক্ত হয়। এসবে যেন আসক্ত না হয় সেজন্য বাচ্চাকে বই পড়ার অভ্যাস করাতে হবে। বিভিন্ন ধরনের গল্পের, কবিতার, ড্রয়িং বুক ইত্যাদি পড়তে দিতে হবে। তার পড়ার টেবিল এসব বই দিয়ে গুছিয়ে, সাজিয়ে রাখতে হবে যেন সে পড়ার টেবিলের উপর আকৃষ্ট হয়।


রাতে ঘুমানোর আগে করণীয়

শিশুদের ঘুম পাড়ানোর আগে অনেক বাবা-মা মোবাইল বা টিভিতে কাটু অথবা গান শুনিয়ে ঘুম পাড়ায়। এসব না করে শিশুকে গল্প শুনিয়ে ঘুম পারাবেন। বাচ্চাকে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন উত্তর শেখাবেন। তবেই ঘুমাতে যাওয়ার আগে মন বিক্ষিপ্ত থাকবে না। তাছাড়াও শিশুকে ধর্মীয় জ্ঞান দিতে পারেন। নিজস্ব ধর্মের বিভিন্ন ধর্মীয় ঐতিহাসিক জীবনী সম্পর্কে ধারণা দিতে পারেন। এতে শিশুর জ্ঞান বাড়বে মন ও বিক্ষিপ্ত হবে না এবং সাথে সাথে মোবাইল টিভিতে আসক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও কমে যাবে।


সন্তানকে সময় দিন

এমন অনেক পরিবার রয়েছে যে পরিবারে শিশুর মা-বাবা দুজনেই চাকরিজীবী অথবা যেকোনো কাজের সাথে জড়িত। কাজের ব্যস্ততার কারণে বাচ্চাদেরকে সময় দেয়না। বাচ্চার সাথে সময় কাটাতে না পেরে তাদের হাতে তুলে দেয় বিভিন্ন ডিভাইস। এসবের দিকে না পাঠিয়ে শিশুকে নিয়ে প্রাকৃতির মধ্যে খেলাধুলা করুন। কাজের মধ্যে থেকে মা-বাবা দুজনেই কিছু কিছু করে সময় বের করে বাচ্চাদেরকে সময় দিন। বাচ্চাদের বিভিন্ন ধরনের খেলনা কিনে দিন এবং খেলনা নিয়ে খেলতে উদ্বুদ্ধ করুন। তবেই আপনার সন্তান ইন্টারনেট মোবাইল ফোন এসব থেকে দূরে থাকবে।

মোবাইল আসক্তির কুফল

  • ঘাড়ে ব্যথা হবে, চোখ খারাপ হবে।
  • জেদি ও অতি চঞ্চল হবে।
  • পড়ালেখা ও কর্মজীবনের মান কমে যাবে।
  • শিশু সময় মত খেতে চাইবে না ফলে অপুষ্টিতে ভুগবে অথবা শুয়ে বসে থাকার কারণে ওজন বেড়ে যাবে ফলে মোটা হয়ে যাবে, যা শিশুদের জন্য স্বাস্থ্য হুমকি স্বরূপ।
  • মানসিক চাপের মতো মানসিক রোগ হতে পারে। এ থেকে গেমিং ডিজ অর্ডার হওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি থাকে।
  • ইন্টারনেটের বিষয়বস্তুর উপর ভিত্তি করে শিশুর আচরণ পরিবর্তন হয়ে যায়। আচরনে আগরাছি ভাব দেখা যায়। অল্পতেই রেগে যাবে।
  • এসবের কারণে আত্মহত্যার প্রবণতা বা অপরকে আঘাত বা হত্যা করার প্রবণতাও দেখা দিতে পারে।
  • জেদি ও অতি চঞ্চল হবে।
  • পড়ালেখা ও কর্মজীবনের মান কমে যাবে।
  • শিশু সময় মত খেতে চাইবে না ফলে অপুষ্টিতে ভুগবে অথবা শুয়ে বসে থাকার কারণে ওজন বেড়ে যাবে ফলে মোটা হয়ে যাবে, যা শিশুদের জন্য স্বাস্থ্য হুমকি স্বরূপ।
  • মানসিক চাপের মতো মানসিক রোগ হতে পারে। এ থেকে গেমিং ডিজ অর্ডার হওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি থাকে।
  • ইন্টারনেটের বিষয়বস্তুর উপর ভিত্তি করে শিশুর আচরণ পরিবর্তন হয়ে যায়। আচরনে আগরাছি ভাব দেখা যায়। অল্পতেই রেগে যাবে।
  • এসবের কারণে আত্মহত্যার প্রবণতা বা অপরকে আঘাত বা হত্যা করার প্রবণতাও দেখা দিতে পারে।

মোবাইল আসক্তির প্রতিকার

ডিজিটাল প্রযুক্তি তথা মোবাইল, ল্যাপটপ, ট্যাব এসব শিশুদের জন্য অত্যন্ত বিপদজনক। এগুলো থেকে বাচ্চাকে যত দূরে রাখা যায় ততই ভালো। মা বাবা চাকরিজীবী হলেও সন্তানকে সেখান থেকে সময় বের করে সময় দিতে হবে। শিশুরা যেন মানসিক বিকাশে বাধা গ্রস্থ না হয় শিশুর পড়ালেখা খেলাধুলা সব দিকে নজর দিতে হবে। এসবের জন্য শিশুকে বিভিন্ন ঘরের কাজেও ব্যস্ত রাখা যেতে পারে। বিশেষ করে মায়েরা এ কাজটি করতে পারেন। আপনার সন্তানকে ছোট ছোট কাজের সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করুন। এতে আপনার সন্তান ঘরের কাজের প্রতি আগ্রহী হবে এবং মোবাইল আসক্তি থেকে সরে আসবে। আপনার সন্তান বেড়ে উঠতে ডিজিটাল প্রযুক্তি মোবাইল টিভি ল্যাপটপ যেন বাধা না হয় এসবের প্রতি যেন আসক্ত না হয় সেই দিকে সব সময়ের জন্য খেয়াল রাখবেন। তারপর আপনারা আপনাদের বুদ্ধি পরিশ্রম এবং ধৈর্য ব্যবহার করে যে কোনভাবে শিশুকে এসব থেকে দূরে রাখতে পারেন দেখবেন আপনার সন্তানের সব থেকে দূরে থাকবে।

লেখকের শেষ বক্তব্য

শিশুদের মোবাইল আসক্তি কমানোর উপায় সম্পর্কে আজকের এই ব্লগে কার্যকারী কিছু টিপস তুরে ধরার চেষ্টা করেছি। আশা করি শিশুদের মোবাইল আসক্তি কমানোর উপায় গুলো সম্পর্কে আপনি বিস্তারিত জানতে পেরেছেন।

এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। যদি আপনি এই ধরনের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ব্লগ পোস্ট নিয়মিত পড়তে চান তাহলে আপনাকে প্রতিনিয়ত আমাদের এই ওয়েবসাইট ফলো করতে হবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন